কবে থেকে শুরু হবে যুবশক্তি আবেদন গ্রহণ এই নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের যুবক যুবতীদের মধ্যেই অপেক্ষা ক্রমশই বাড়ছিল! যুবক-যুবতীদের আর্থিক সহায়তার লক্ষ্যে তৈরি হতে চলা যুবশক্তি ভরসা স্কিম নিয়ে বড় বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, প্রকল্পটি নিয়ে দ্রুত ঘোষণা করা হবে। ফলে চাকরির অপেক্ষায় থাকা বহু যুবক-যুবতীর নজর এখন সরকারের পরবর্তী ঘোষণার দিকে।
রাজ্যে সরকার বদলের পর বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের জন্য একাধিক সামাজিক ও আর্থিক সহায়তা প্রকল্প নিয়ে কাজ চলছে। পড়ুয়া, মহিলা এবং প্রবীণদের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি এবার যুবসমাজকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা সামনে এসেছে। বিশেষ করে পড়াশোনা শেষ করার পর কর্মসংস্থানের অপেক্ষায় থাকা যুবক-যুবতীদের কথা মাথায় রেখেই এই নতুন প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
যুবশক্তি ভরসা স্কিম নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, স্নাতক এবং অস্নাতক—দুই ধরনের যুবক-যুবতীকেই এই পরিকল্পনার আওতায় আনার কথা ভাবা হচ্ছে। অর্থাৎ শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে যুবসমাজের বিভিন্ন অংশের জন্য সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে ঠিক কত টাকা দেওয়া হবে, কারা আবেদন করতে পারবেন এবং কীভাবে সুবিধা পাওয়া যাবে—এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি এখনও বিস্তারিতভাবে জানানো হয়নি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে শুধু স্পষ্ট হয়েছে, প্রকল্পের কাঠামো তৈরির কাজ চলছে এবং খুব দ্রুতই এ বিষয়ে ঘোষণা করা হবে।
এই ঘোষণাকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই আগ্রহ তৈরি হয়েছে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে। কারণ পড়াশোনা শেষ করার পর বহু যুবক-যুবতী দীর্ঘদিন ধরে চাকরির সুযোগের অপেক্ষায় থাকেন। কেউ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেন, কেউ আবার প্রশিক্ষণ নিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ খোঁজেন। সেই সময় সরকারি আর্থিক সহায়তা পেলে তাঁদের প্রস্তুতি বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় কিছুটা সুবিধা হতে পারে।
এর আগে রাজ্যে যুবসমাজকে কেন্দ্র করে কর্মসংস্থান, প্রশিক্ষণ এবং আর্থিক সহায়তার মতো বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। নতুন সরকার এবার সেই ক্ষেত্রেই নতুন পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে চাইছে। যুবশক্তি ভরসা স্কিম সেই পরিকল্পনারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে প্রকল্পের নাম ঘোষণা বা মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসের পরই সুবিধা পাওয়া শুরু হবে, এমনটা এখনই বলা যাচ্ছে না। কারণ সরকারি প্রকল্পের ক্ষেত্রে সাধারণত যোগ্যতার শর্ত, আবেদন পদ্ধতি, প্রয়োজনীয় নথি, অর্থের পরিমাণ এবং সুবিধা পাওয়ার সময়সীমা বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে স্পষ্ট করা হয়।
এই প্রকল্পে স্নাতক এবং অস্নাতক যুবক-যুবতীদের জন্য একই সুবিধা থাকবে, নাকি শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী আলাদা ব্যবস্থা করা হবে, সেটিও এখনও পরিষ্কার নয়। একই সঙ্গে বয়সসীমা, পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি কিংবা কর্মসংস্থানের অবস্থার মতো কোনও শর্ত রাখা হবে কি না, তা নিয়েও অপেক্ষা রয়েছে সরকারি ঘোষণার।
তাই আপাতত যুবসমাজের সামনে সবচেয়ে বড় খবর একটাই—যুবশক্তি ভরসা স্কিম নিয়ে আর শুধু আলোচনা নয়, দ্রুত ঘোষণার আশ্বাস মিলেছে সরকারের শীর্ষস্তর থেকে। এবার অপেক্ষা, সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর প্রকল্পের পুরো কাঠামো ঠিক কীভাবে সামনে আসে।