এই বিপুল সম্পত্তির মধ্যে কিছু জমিতে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে গরিবদের জন্য ফ্ল্যাট। তার মধ্যে অন্যতম প্রয়াগরাজের লুকারগঞ্জ। প্রয়াত গ্যাংস্টার-রাজনীতিক আতিক আহমেদের নেটওয়ার্কের কাছ থেকে উদ্ধার করা জমিতে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা-শহর প্রকল্পের আওতায় ৭৬টি ফ্ল্যাট তৈরি করে প্রয়াগরাজ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। প্রায় ৬.৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেই ফ্ল্যাটগুলির চাবি ২০২৩ সালের ৩০ জুন উপভোক্তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। যে জমি একসময় অপরাধজগতের সঙ্গে যুক্ত বলে প্রশাসনের দাবি, সেখানেই এখন সাধারণ মানুষের বসবাসের ব্যবস্থা এই ছবিকেই বড় করে তুলে ধরছে সরকার।
আগামী বছরের শুরুতেই উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে গত সাত বছরের কাজের খতিয়ান সামনে এনে নিজেদের সাফল্য তুলে ধরতে চাইছে যোগী প্রশাসন। সরকারের বক্তব্য, অপরাধীদের অবৈধ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে শুধু অপরাধ দমনই নয়, সেই জমি গরিব মানুষের বাসস্থানের জন্যও ব্যবহার করা হচ্ছে। অর্থাৎ, একদিকে গ্যাংস্টারদের সম্পত্তিতে কোপ, অন্যদিকে মাথার উপর ছাদের অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলির জন্য নতুন আশ্রয় এই দুই বার্তাকেই সামনে আনছে রাজ্য সরকার।
তবে শুধু প্রয়াগরাজ নয়, লখনউতেও একই উদ্যোগের কথা জানিয়েছে প্রশাসন। দালিবাগ এলাকায় মুখতার আনসারি ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে চিহ্নিত জমিতে তৈরি হয়েছে ৭২টি অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল পরিবারের জন্য নির্ধারিত ফ্ল্যাট। লখনউ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের তৈরি এই আবাসনগুলি গড়ে উঠেছে প্রায় ২,৩২২ বর্গমিটার জমির উপর। ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর ফ্ল্যাট বরাদ্দের চিঠি হস্তান্তর করা হয়। প্রতিটি ফ্ল্যাটের আয়তন ৩৬.৬৫ বর্গমিটার, দাম ১০.৭০ লক্ষ টাকা।
গ্যাংস্টারদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে তা জনকল্যাণে ব্যবহার করার নজির তৈরি করছে উত্তরপ্রদেশ। কিন্তু এই উদ্যোগ ঘিরে রাজনৈতিক তরজা থামার লক্ষণ নেই। কারণ, অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রশ্নের পাশাপাশি বুলডোজার অভিযানের আইনি বৈধতা, যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে চলা এবং নাগরিকের অধিকার রক্ষার প্রশ্নও বারবার সামনে এসেছে। ফলে ১৫ হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি আর ১৪৮টি ফ্ল্যাটের পরিসংখ্যান সামনে এনে নির্বাচনের আগে এই পদক্ষেপ ভোটারদের কতটা প্রভাবিত করে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।