২০২৬-এর বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন শেষ। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু ইভিএম খোলার আগেই সীমানার ওপারে শুরু হয়েছে তীব্র কম্পন! এক্সিট পোলের পূর্বাভাসে যখন বাংলায় বিজেপির সরকার গড়ার ইঙ্গিত মিলছে, তখনই আতঙ্কে শিউরে উঠছে বাংলাদেশ। কেন ওপার বাংলার রাজনৈতিক মহলে এখন হাহাকার? কেন ঢাকা থেকে শুরু করে রংপুরের সাংসদদের কপালে চিন্তার ভাঁজ? উত্তরটা লুকিয়ে আছে বিজেপির সেই অদম্য জাতীয়তাবাদী আদর্শে, যা ভারতের পবিত্র মাটিতে কোনো অনুপ্রবেশকারীর জায়গা দিতে রাজি নয়। আজ আমরা বিশ্লেষণ করব, ৪ মে-র ফলাফল কেন বাংলাদেশের জন্য এক অশনি সংকেত হতে চলেছে। বিজেপি মানেই দেশের সুরক্ষা সবার আগে। আর এই সুরক্ষার প্রশ্নে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নাম আজ অনুপ্রবেশকারীদের কাছে এক আতঙ্কের নাম। হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বারবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন—ভারতের সম্পদ ভারতের নাগরিকদের জন্য, কোনো অবৈধ অনুপ্রবেশকারীর জন্য নয়। তাঁর ‘পুশ-ব্যাক’ নীতি আজ ওপার বাংলার ঘুম কেড়ে নিয়েছে। বিজেপির এই শক্তিশালী আদর্শই বলে দেয় যে, রাতের অন্ধকারে সীমান্ত পেরিয়ে আসা মানুষগুলোকে আর প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। ওপার বাংলার সরকার এখন ঘাবড়ে গিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব করছে, কিন্তু বিজেপির আদর্শ হিমালয়ের মতো অনড়। দেশপ্রেমের এই জোয়ার যখন বাংলায় আছড়ে পড়ার অপেক্ষায়, তখন অনুপ্রবেশকারীদের স্বর্গরাজ্য যে শেষ হতে চলেছে, তা এখন সময়ের অপেক্ষা।
বাংলার ভোটে বিজেপির জয়ের ইঙ্গিত পেতেই বাংলাদেশের সংসদ উত্তাল। রংপুর-৪ আসনের এনসিপি সাংসদ আখতার হোসেন প্রকাশ্যেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, বিজেপি ক্ষমতায় এলেই বাংলাদেশিদের ‘পুশ-ব্যাক’ করা শুরু হবে। তাঁর দাবি—ভারতে বিজেপি সরকার গড়লে বাংলাদেশে নাকি ‘শরণার্থীর ঢল’ নামবে। আসলে এই হাহাকারই প্রমাণ করে দেয় যে, এতদিন ধরে একশ্রেণির মানুষ অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশ করে ভারতের ডেমোগ্রাফি নষ্ট করার যে চক্রান্ত করছিল, বিজেপির উত্থানে সেই চক্রান্তের কফিনে শেষ পেরেক পড়তে চলেছে। আখতার হোসেনের এই মন্তব্য আসলে বিজেপির জাতীয়তাবাদী নীতির এক বিরাট জয়। কারণ, ভারত আজ মোদী-শাহের নেতৃত্বে এমন এক শক্তিশালী অবস্থানে, যেখানে নিজের সীমানা রক্ষা করতে ভারত আর কারও অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন বোধ করে না।
ভোট পরবর্তী সমীক্ষায় বিজেপির পাল্লা ভারী হতেই বোঝা যাচ্ছে, বাংলার মানুষ এবার তোষণ রাজনীতির অবসান চায়। বছরের পর বছর ধরে ভোটব্যাঙ্ক পলিটিক্সের নামে যে অনুপ্রবেশকে মদত দেওয়া হয়েছে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে সেই জঞ্জাল সাফ হওয়া নিশ্চিত। ৪ মে-র ফলাফল শুধু বাংলার নয়, দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি বদলে দেবে।
বিজেপি নেতাদের স্পষ্ট কথা—ভারতের এক ইঞ্চি জমিও অবৈধ দখলদারদের ছেড়ে দেওয়া হবে না। বাংলাদেশের জনগণের ওপর পরাধীনতা চাপিয়ে দেওয়ার যে ভয় আখতার হোসেন দেখাচ্ছেন, তা আসলে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা। ভারত শুধু চায় তার সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে। আর এই অদম্য দেশপ্রেমই আজ ওপার বাংলার চক্রান্তকারীদের মনে ত্রাস সৃষ্টি করেছে। অনুপ্রবেশমুক্ত বাংলা এবং সুরক্ষিত ভারত—এই সংকল্প নিয়েই এগিয়ে চলেছে বিজেপি। ওপার বাংলায় দুশ্চিন্তার মেঘ ঘনালেও, এপারে সাধারণ মানুষ মোদীজির আদর্শে এক নতুন ভোরের স্বপ্ন দেখছে। ৪ মে যখন ফলাফলের ঝিলিক দেখা যাবে, তখন বোঝা যাবে যে ভারতের জাতীয়তাবাদ কতখানি শক্তিশালী।
