বাংলার রাজনীতিতে নতুন যুগের সূচনা। জল্পনা ছিল অনেক, কিন্তু শেষ হাসি হাসলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অনেকে ভেবেছিলেন উত্তরপ্রদেশ বা বিহারের মতো বাংলায় হয়তো উপ-মুখ্যমন্ত্রীর পদ দেখা যাবে। কিন্তু সব জল্পনায় জল ঢেলে দিয়ে প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই শুভেন্দু বুঝিয়ে দিলেন— এখানে ক্ষমতার একাধিক কেন্দ্র নয়, বরং লক্ষ্য একটাই— বাংলার হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনা। বিগত এক দশকের বেশি সময় ধরে বাংলা দেখেছে কীভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে শোষণ করা হয়েছে। তৃণমূল জমানার সেই ‘পিসি-ভাইপো’ মডেলের বিপরীতে বিজেপি এবার আনল ‘কাজের সরকার’। কোনো আলঙ্কারিক পদ নয়, বরং যোগ্য ব্যক্তিকে যোগ্য দফতর দিয়ে মানুষের সেবা করাই এখন মূল লক্ষ্য। পদের লড়াই নয়, বরং কাজের লড়াইয়ে নামছে এই নতুন টিম। আর সেই একই সুদূরপ্রসারী চিন্তা দেখা গেল দফতর বণ্টনের ক্ষেত্রেও।
দিলীপ ঘোষ, দলের অন্যতম স্থপতি এবং লড়াকু এই নেতাকে দেওয়া হয়েছে গ্রামোন্নয়ন দফতরের দায়িত্ব। যে গ্রাম বাংলাকে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা এতদিন নরক বানিয়ে রেখেছিল, সেই গ্রামে উন্নয়নের আলো পৌঁছাতে দিলীপ ঘোষের চেয়ে যোগ্য লোক আর কে হতে পারতেন? একইভাবে অগ্নিমিত্রা পালকে দেওয়া হয়েছে নারী কল্যাণ ও পুর-নগরোন্নয়ন দফতর। বাংলার মা-বোনেদের নিরাপত্তা এবং শহরের শ্রী ফেরানোই হবে তাঁর চ্যালেঞ্জ। বঞ্চিত উত্তরবঙ্গের ক্ষোভ প্রশমনে বড় দায়িত্ব পেয়েছেন নিশীথ প্রামাণিক। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের পাশাপাশি ক্রীড়া ও যুব কল্যাণের দায়িত্ব সামলাবেন তিনি। জঙ্গলমহলের প্রতিনিধি হিসেবে ক্ষুদিরাম টুডুকে দেওয়া হয়েছে জনজাতি উন্নয়ন দপ্তর। আর খাদ্য নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ভরসা রাখা হয়েছে অশোক কীর্তনিয়ার ওপর। প্রতিটি নিয়োগেই স্পষ্ট— বাংলার প্রতিটি প্রান্তের মানুষের কন্ঠস্বর এখন এই মন্ত্রিসভা। তবে সবথেকে বড় চমক মুখ্যমন্ত্রীর নিজের হাতে রাখা গুরুত্বপূর্ণ দফতরগুলো। স্বরাষ্ট্র, অর্থ, স্বাস্থ্য এবং কৃষি— যে বিভাগগুলো এতদিন দুর্নীতির আখড়া হয়ে উঠেছিল, সেগুলোকে নিজের কড়া নজরদারিতে রাখছেন শুভেন্দু অধিকারী।
পুলিশকে রাজনৈতিক দাসে পরিণত করেছিল তৃণমূল সরকার, সেই কলঙ্ক মুছে বাহিনীকে পেশাদার করে তোলাই এখন মুখ্যমন্ত্রীর প্রথম শপথ। স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় যে চরম অরাজকতা ছিল, তা দূর করতে তিনি নিজেই এখন সেনাপতি। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, উপ-মুখ্যমন্ত্রী কেন নেই? আসলে সংবিধান অনুযায়ী এমন পদের বাধ্যবাধকতা নেই। বিজেপি চায় না ক্ষমতার একাধিক ভরকেন্দ্র তৈরি হোক। যারা নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত ছিল, তাদের সময় শেষ। এখন সময় একমুখী উন্নয়নের। শুভেন্দু অধিকারী প্রমাণ করলেন, তিনি কেবল দলের নেতা নন, একজন বিচক্ষণ প্রশাসক। আগামী কয়েক দিনে মন্ত্রিসভার আরও সম্প্রসারণ হবে। নতুন বিধায়কদের শপথগ্রহণও আসন্ন। তবে শুরুটা হলো রাজকীয় ভাবে। বাংলার আকাশ থেকে অন্ধকারের মেঘ সরিয়ে, নতুন ভোরের স্বপ্নে এগিয়ে চলেছে বিজেপি সরকার। সাধারণ মানুষ বলছেন, এবার অন্তত কাজ হবে।