বিহারের জামুইয়ে কিশোরীর শ্লীলতাহানির ঘটনায় বড় পদক্ষেপ পুলিশের। এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত নন্দন যাদবকে গুলি করল পুলিশ। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিহারের এডিজি ল অ্যান্ড অর্ডার সুহিনা অনুপম জানিয়েছেন, পুলিশের হাত ছাড়িয়ে পালানোর চেষ্টা করছিল অভিযুক্ত। সেই সময় পুলিশ গুলি চালায়। ওই ঘটনায় বাকি অভিযুক্তদেরও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যার মধ্যে কয়েকজন নাবালকও রয়েছে।
সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পুলিশ আধিকারিক বলেন, এদিন মূল অভিযুক্ত নন্দন যাদবকে গ্রেপ্তার করতে গিয়েছিল পুলিশের একটি দল। তবে পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে অভিযুক্ত। বাধ্য হয়ে গুলি চালায় পুলিশ। অভিযুক্তের পায়ে গুলি লেগেছে। চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় আর এক অভিযুক্ত হরেরাম যাদবকে ধরতে গিয়েও গুলি চালাতে হয় পুলিশকে। দু’জনকেই হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এই মামলায় যতজন অভিযুক্ত ছিল সকলেই পুলিশি হেফাজতে।
গত শনিবার জামুইয়ের এক স্থানীয় স্কুলের দুই পড়ুয়া সন্ধ্যায় কোচিং শেষে মাদওয়া পাহাড়ে বেড়াতে গিয়েছিল। ফেরার পথে তাঁদের পথ আগলে দাঁড়ায় কয়েকজন দুষ্কৃতী। বাধ্য হয়ে স্কুটার থামায় ওই যুগল। শুরু হয় নির্যাতন। প্রথমে গালাগালি। এরপর শারীরিক হেনস্তা। পুরোটাই ক্যামেরায় বন্দি করে রাখে ওই দলেরই একজন। সেই ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই হইচই পড়ে যায় । ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, কিশোরীকে ঘিরে ধরে অশালীন আচরণ করছে অভিযুক্তরা। তার নাম, ঠিকানাও জিজ্ঞাসা করে তারা। শুধু তাই নয়, অশালীনভাবে স্পর্শও করা হয় কিশোরীকে। এরই মাঝে অভিযুক্তদের মধ্যে একজন কিশোরীকে তুলে নিয়ে রাস্তার অন্য প্রান্তে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও করেন। রেহাই পায়নি কিশোরীর বন্ধুও। বেধড়ক মারধর করা হয় তাঁকে। গোটা ঘটনাটিকে ঘিরে নিন্দার ঝড় উঠেছে।
শুধু তাই নয় এবার চরম সিদ্ধান্ত।বিহারের জামুইয়ে দশম শ্রেণির দুই পড়ুয়ার ওপর আক্রমণ ও শ্লীলতাহানির ঘটনার পর এবার নেটপাড়ায় চরম কঠোর অবস্থান নিল প্রশাসন। নির্যাতিতা নাবালিকা ও তাঁর সহপাঠীর পরিচয়, ছবি এবং ঘটনার আপত্তিকর ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়ানোর অভিযোগে একযোগে ১২০টি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করল বিহার পুলিশ। একই সঙ্গে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আক্রান্তদের পরিচয় প্রকাশ করলে পকসো এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের আওতায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
