নারীদের সম্মান এবং সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বড় বড় কথা বলা ভারতীয় জনতা পার্টির অন্দরের কুৎসিত কোন্দল ও কুরুচিকর মানসিকতা এবার ফের প্রকাশ্যে চলে এলো। যে সন্দেশখালি আন্দোলনকে হাতিয়ার করে বিজেপি বাংলা জুড়ে রাজনীতির রুটি শেঁকার চেষ্টা করেছিল, সেই আন্দোলনের অন্যতম মুখ তথা হিঙ্গলগঞ্জের বিজেপি বিধায়ক রেখা পাত্রকেই এখন তাঁর নিজের দলেই চরম অপমানের শিকার হতে হচ্ছে। বিধায়কের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে কটাক্ষ করা থেকে শুরু করে তাঁকে প্রতিনিয়ত অপমান করার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে খোদ বসিরহাট সাংগঠনিক বিজেপি জেলা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে। ফলে বিজেপির ভেতরের চরম অন্তর্দ্বন্দ্ব এবং নিজেদের বিধায়কের প্রতি অমানবিক ও নিচু মানসিকতার চেহারাটি আবারও বঙ্গবাসীর সামনে একেবারে উন্মোচিত হয়ে পড়েছে।
বসিরহাট সাংগঠনিক জেলা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মারাত্মক ক্ষোভ উগরে দিয়ে হিঙ্গলগঞ্জের বিজেপি বিধায়ক রেখা পাত্র সংবাদমাধ্যমের সামনে রাখঢাক না করেই জানিয়েছেন, তিনি কম পড়াশোনা জানেন বলে দলের ভেতরের একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী ও জেলা কমিটি তাঁকে ক্রমাগত হেয় ও অপমান করে চলেছে। বিধায়ক হিসেবে কোনো সম্মানের তো তোয়াক্কাই করা হয় না, উল্টে বসিরহাট জেলার দলীয় নানা কর্মসূচিতে ডেকে নিয়ে গিয়ে তাঁকেই বারবার ভুল পথে চালিত করার চক্রান্ত চালানো হয়। এই তীব্র হেনস্থা ও মানসিক নির্যাতনের কারণে তিনি শেষ পর্যন্ত জেলা নেতৃত্বের যাবতীয় অনুষ্ঠান বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন নির্বাচিত মহিলা বিধায়ককে তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতার দোহাই দিয়ে নিজের দলীয় নেতৃত্বের হাতেই এভাবে লাঞ্ছিত হতে দেখে স্পষ্ট যে, বিজেপির ‘নারী শক্তি’ বা সাধারণ কর্মীদের সম্মানের স্লোগান কতটা ফাঁপা ও সুবিধাবাদী জুমলা মাত্র।
বিজেপির এই কোন্দল ও অভ্যন্তরীণ চক্রান্তের কথা বলতে গিয়ে রেখা পাত্র আরও তোপ দেগেছেন নেতাদের ‘ক্যামেরা-সর্বস্ব’ প্রচারের রাজনীতি নিয়ে। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপির বহু নেতাই রাজনীতিতে ভেসে থাকার জন্য ও নিজেদের বড় নেতা প্রমাণ করতে দিনরাত সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের ছবি ভাসিয়ে রাখেন। অথচ বাস্তবে কাজের কাজ কিছুই হয় না। অন্যদিকে, সন্দেশখালির আন্দোলন থেকে আসা এই বিধায়ক নিজের দফতরে ভোর থেকে বিকেল পর্যন্ত মানুষের সমস্যার সমাধান করতে ব্যস্ত থাকলেও, দলীয় নেতারাই পেছন থেকে তাঁর পা টানতে ব্যস্ত।
যদিও বসিরহাট বিজেপির সাংগঠনিক জেলা সভাপতি এই সমস্ত অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিষয়টিকে হালকা করার চেষ্টা করেছেন, তবে এই ঘটনাই প্রমাণ করে দিচ্ছে যে ক্ষমতার আসফালনে বিজেপি আজ কতটা জরাজীর্ণ ও উপদলীয় কোন্দলে জর্জরিত। যে বিজেপি প্রতিনিয়ত অন্য দলকে নীতি শিক্ষা দিতে আসে, সেই বিজেপির ভেতরের নেতারাই যখন এক আদিবাসী পরিবারের সাধারণ মহিলা বিধায়কের ওপর এরকম ঘৃণ্য নির্যাতন ও অপমানের পাহাড় চাপিয়ে দেয়, তখন তাদের রাজনৈতিক নীতি ও সুস্থ মানসিকতা নিয়ে চরম প্রশ্ন উঠতে বাধ্য।
