ক্ষমতায় এসেই বিজেপির উগ্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসা! হাওড়ায় লাগাতার অত্যাচারে আত্মহত্যার চেষ্টা তৃণমূল নেত্রীর!

বিজেপির কট্টর কর্মী-সমর্থকদের লাগাতার হুমকি, রাজনৈতিক হেনস্থা ও অসহনীয় মানসিক অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হলেন হাওড়ার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল মহিলা সভানেত্রী জয়শ্রী পারাল। পরিবারের সদস্যদের তৎপরতায় তিনি অলৌকিকভাবে প্রাণে বাঁচলেও বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে জীবন ও মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে লড়ছেন।
স্থানীয় সূত্রে খবর, বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই ১২ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূলের এই সক্রিয় মহিলা নেত্রীকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে টার্গেট করেছিল এলাকার বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। একের পর এক হুমকি, গালিগালাজ এবং বাড়িতে চড়াও হয়ে ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে জয়শ্রীদেবী ও তাঁর পরিবারকে এক শ্বাসরুদ্ধকর আতঙ্কের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। প্রতিদিনের এই বিজেপি-মার্কা রাজনৈতিক নিপীড়নের জেরে চরম মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন তিনি। অবশেষে কোনো উপায় না পেয়ে নিজের বাসভবনেই গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহননের চেষ্টা চালান এই ঘাসফুল নেত্রী। বিজেপি কর্মীদের এই বর্বরোচিত আচরণ শুধু একজন মহিলা নেত্রীর ওপর আক্রমণ নয়, বরং সমগ্র গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর এক চরম আঘাত।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই তোলপাড় শুরু হয়েছে হাওড়ার রাজনৈতিক মহলে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করে বাজেয়াপ্ত করেছে। সূত্রের খবর, ওই সুইসাইড নোটেও রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার চেষ্টা এবং বিজেপি কর্মীদের লাগাতার হুমকির স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। পরাজয়ের গ্লানি ঢাকতে বিজয়ী ও শাসকদলের নারী নেতৃত্বকে এভাবে আত্মহননের মুখে ঠেলে দেওয়ার বিজেপি মার্কা কৌশলকে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। স্থানীয় ঘাসফুল নেতৃত্বের সাফ দাবি, হাওড়ায় পায়ের তলার মাটি হারিয়ে বিজেপি লাগাতার অশান্তি ও প্ররোচনামূলক পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে এবং জয়শ্রী পারাল তাদের এই হিংসাত্মক চক্রান্তেরই শিকার।
বিজেপির এই নগ্ন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ উগরে দিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার। লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া সত্ত্বেও পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা এবং এখন পর্যন্ত কোনো বিজেপি দুষ্কৃতীকে আটক না করায় প্রশাসনিক সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। রাজ্যের বুকে ক্ষমতা দখলের অলীক স্বপ্নে মত্ত হয়ে বিজেপি যেভাবে নারীদের ওপর মানসিক নির্যাতন চালাচ্ছে এবং রাজনীতির পরিবেশকে বিষাক্ত করে তুলছে, তা রাজ্যের মানুষ কোনোভাবেই মেনে নেবে না। অবিলম্বে এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা সমস্ত বিজেপি দুষ্কৃতীদের গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। রাজ্যের বুকে উগ্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ছড়িয়ে বিরোধীদের দমিয়ে দেওয়ার এই কৌশল যে সাধারণ মানুষ কোনোভাবেই মেনে নেবেন না, তা স্পষ্ট করে দিয়ে অবিলম্বে দোষী বিজেপি দুষ্কৃতীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *