Breaking a decade-and-a-half-long dominance, mass leader Suvendu Adhikari becomes the chief guest at ISKCON's Rath Yatra!

দেড় দশকের আধিপত্য ভেঙে ইসকনের রথযাত্রার প্রধান অতিথি জননেতা শুভেন্দু অধিকারী !

পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর, এই প্রথমবার বঙ্গে উদযাপিত হতে চলেছে এক অত্যন্ত পবিত্র ও নজিরবিহীন রথযাত্রা উৎসব। দীর্ঘ দেড় দশকের তৃণমূল কংগ্রেসের জমানার অবসান ঘটিয়ে রাজ্যে ভারতীয় জনতা পার্টির নেতৃত্বে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর, কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ইসকনের রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে এবার এক অভূতপূর্ব ও অভাবনীয় ঐতিহ্যের হস্তান্তর প্রত্যক্ষ করতে চলেছে সমগ্র রাজ্যবাসী।

কলকাতা ইসকনের পক্ষ থেকে এক ঐতিহাসিক ও গৌরবময় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ঘোষণা করা হয়েছে যে, ২০২৬ সালের এই পবিত্র রথযাত্রা উৎসবের শুভ সূচনা ও প্রধান অতিথির আসন অলঙ্কৃত করবেন রাজ্যের অত্যন্ত জনপ্রিয় ও দূরদর্শী মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিগত দিনে যেখানে এই রথযাত্রার রশিতে টান দিয়ে এক রাজনৈতিক ও একাধিপত্যের প্রদর্শন করা হতো, সেখানে এবার সম্পূর্ণ সনাতনী আচার ও পরম শ্রদ্ধার সাথে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পবিত্র স্পর্শে গড়াবে প্রভু জগন্নাথ, বলরাম এবং সুভদ্রা দেবীর রথের চাকা। ইসকনের এই যুগান্তকারী ঘোষণা বাংলার কোটি কোটি ভক্তের মনে এক নতুন আধ্যাত্মিক উন্মাদনা ও পরম আনন্দের সঞ্চার করেছে।

আগামী ১৬ জুলাই, বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে চলা এই মেগা রথযাত্রা উৎসবকে আরও মহিমান্বিত ও জাতীয় স্তরে স্মরণীয় করে তুলতে এক অনন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ইসকন কর্তৃপক্ষ। কলকাতার এই ঐতিহ্যবাহী পুণ্য উৎসবে সশরীরে উপস্থিত থাকার জন্য ভারতের যশস্বী ও শক্তিশালী কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রী অমিত শাহকে আনুষ্ঠানিক ও বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

রথযাত্রা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেই সময় কলকাতায় উপস্থিত থাকবেন এবং তাঁর এই দেবতুল্য উপস্থিতি বাংলার মাটিতে সনাতন সংস্কৃতির বিকাশকে এক নতুন ও অনন্য শিখরে নিয়ে যাবে। কলকাতার এই রথযাত্রা শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি বিশ্ব দরবারে বাংলার কৃষ্টি ও ঐতিহ্যের এক বিরাট প্রতিফলন। দক্ষিণ কলকাতা থেকে শুরু হয়ে মহানগরের দীর্ঘ ও রাজকীয় পথ অতিক্রম করে ময়দানের মাসির বাড়িতে গিয়ে থামবে প্রভুর এই রথ। সম্প্রতি আয়োজিত এক মেগা সাংবাদিক সম্মেলনে ইসকনের অধ্যক্ষ দয়ারাম দাস, সহ-অধ্যক্ষ বল্লভ চৈতন্য দাস, রথযাত্রা কমিটির চেয়ারম্যান অনঙ্গ মোহন দাস এবং সচিব অনন্ত ভগবান দাস মহাশয় যৌথভাবে মুখ্যমন্ত্রীর বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে আগমন এবং বিগ্রহ দর্শনসহ প্রতিটি মাঙ্গলিক আচারের বিশদ বিবরণ সকলের সামনে তুলে ধরেছেন।

বিগত বছরগুলোর সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দিয়ে এবার কলকাতার বুকে এক নজিরবিহীন ও বিশ্বমানের ভক্ত সমাগম হতে চলেছে বলে আশা করছে ইসকন কর্তৃপক্ষ। গত বছর যেখানে সোজা রথ থেকে উল্টো রথ পর্যন্ত প্রায় ৩০ লক্ষ ভক্তের মহাসমাগম ঘটেছিল, এবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের অনন্য অনুপ্রেরণায় সেই সমস্ত পুরনো রেকর্ড ভেঙে এক নতুন ইতিহাসের সৃষ্টি হবে।

এই মহাপুণ্যলগ্নে অংশ নিতে ইতিমধ্যেই চিন, ইউক্রেন, রাশিয়া, আমেরিকা এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো বিশ্বের একাধিক ক্ষমতাধর ও দূরদূরান্তের দেশ থেকে হাজার হাজার বিদেশী কৃষ্ণভক্ত ও পুণ্যার্থীরা কলকাতার মাটিতে এসে পৌঁছাতে শুরু করেছেন। তোষণের সংকীর্ণ রাজনীতি এবং অবহেলার পুরনো অন্ধকার অধ্যায়কে চিরতরে ইতি টেনে, বাংলার বুকে প্রকৃত সনাতনী গরিমা, ভক্তি আন্দোলন ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতাকে সগৌরবে প্রতিষ্ঠা করতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং নতুন সরকারের এই প্রগতিশীল ও আন্তরিক ভূমিকা সত্যিই এক উন্নত, ভক্তিপূর্ণ ও আত্মনির্ভর বাংলার অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *