প্রত্যাশা মতোই নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে আছড়ে পড়ল এক অভাবনীয় ও অপ্রতিরোধ্য গেরুয়া সুনামি! সমস্ত জল্পনা ও বিরোধীদের প্রচারকে ধূলিসাৎ করে দিয়ে বিপুল ও ঐতিহাসিক মার্জিনে জয়লাভ করলেন বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ। কিন্তু লক্ষাধিক ভোটের এই অভাবনীয় জয়ের দিনেও, বিজয়োল্লাসের আবহে এক সন্তানহারা মায়ের বুকফাটা কান্না মুহূর্তের মধ্যে স্তব্ধ করে দিল গোটা এলাকাকে। জয়ের শংসাপত্র হাতে নিয়েই আবেগে ভেঙে পড়ে হাসিরানি রথ বললেন— “আজকের এই দিনে এত আনন্দ, এত মানুষের উল্লাস— সবই বৃথা মনে হচ্ছে আমার সন্তান চন্দ্রনাথকে ছাড়া। ও যদি আজ পাশে থাকত! তবে আমাদের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আমার চন্দ্রকে নিজের ভাইয়ের মতো ভালোবাসতেন, তিনি ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই করছেন; তাঁর ওপর আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে।”
শুক্রবার উপনির্বাচনের গণনার প্রথম রাউন্ড থেকেই নন্দীগ্রামে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করতে শুরু করেন বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ। রাউন্ড যত এগিয়েছে, পদ্মশিবিরের জয়ের ব্যবধান ততই আকাশ ছুঁয়েছে। জয়ের পর হাসিরানি জানান— দলীয় সংগঠনের প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লক্ষ ১০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়। কিন্তু দলীয় কর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রম, সাধারণ মানুষের আশীর্বাদ এবং নন্দীগ্রামের মাটিতে মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি ভালোবাসায় সেই ব্যবধান পৌঁছে গিয়েছে প্রায় ১ লক্ষ ২৩ হাজারে! শুধু তাই নয়, নন্দীগ্রাম ১ ও ২ ব্লকের সংখ্যালঘু ভাই-বোনেদের একটা বড় অংশও যে এবার সাম্প্রদায়িকতার বেড়াজাল ভেঙে বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন, সে কথাও স্পষ্ট উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর কথায়— “অনেকে হয়তো মুখ্যমন্ত্রীর বন্ধুত্বের বার্তা পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারেননি, তবে বরফ গলেছে। মোদীজির ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’-এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আমাদের মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে সবাইকে নিয়ে চলার বার্তা দিয়েছেন, পরবর্তীকালে বাকিরাও উন্নয়নের মূল স্রোতে সামিল হবেন।”
রাজনৈতিক দিক থেকে হাসিরানি রথের এই জয় এক বিরল ও অবিশ্বাস্য মাইলফলক। ২০১৫ সালে তৎকালীন তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী যে ব্যবধানে জিতেছিলেন, এমনকি ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও শুভেন্দুর জয়ের যে মার্জিন ছিল— উপনির্বাচনে সেই সমস্ত পূর্বতন রেকর্ড ভেঙে চুরমার করে দিয়েছেন হাসিরানি! এই মেগা ব্যবধানের রহস্য ফাঁস করতে গিয়ে নবনির্বাচিত বিধায়ক চাঁচাছোলা ভাষায় জানান— “২০২৬-এর সাধারণ নির্বাচন হয়েছিল পূর্বতন সরকারের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে। তখন ছিল অত্যাচার, অবিচার আর সন্ত্রাসের রাজত্ব; রক্তের বিনিময়ে ভোট হয়েছিল। কিন্তু গত ৯ই মে শুভেন্দুবাবু মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর বাংলায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সুশাসন এসেছে। আর তার ফলেই নন্দীগ্রামের এই নির্বাচন ছিল সম্পূর্ণ রক্তপাতহীন! কোনো বোমাবাজি হয়নি, গুলির শব্দ মেলেনি, আর সবচেয়ে বড় কথা— কোনো মায়ের কোল খালি হয়নি! একেই বলে নন্দীগ্রামের প্রকৃত গণতন্ত্র।”
জয়ের পরই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মেসেজ পাঠিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন হাসিরানিকে। খুব শীঘ্রই তিনি নন্দীগ্রামে এসে বিজয়ী প্রার্থীর সাথে দেখা করবেন বলেও জানিয়েছেন।
শহিদপুত্রের আত্মত্যাগের স্মৃতি বুকে আঁকড়ে এক লক্ষ তেইশ হাজারের ব্যবধানে এই ঐতিহাসিক জয় কেবল নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনের ফলাফল নয়; এ হলো মা-মাটি-মানুষের নাম করে চালানো দীর্ঘ অপশাসনের বিরুদ্ধে সাধারণ জনতার এক চূড়ান্ত ও নজিরবিহীন রায়!