দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত এলাকা ‘চিকেনস নেক’, অর্থাৎ শিলিগুড়ি করিডরকে ঘিরে বড় পরিকল্পনা শুরু করেছে কেন্দ্র। সীমান্ত নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে শনিবার উত্তরবঙ্গের উত্তরকন্যায় অনুষ্ঠিত হতে চলেছে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। সেখানে উপস্থিত থাকতে পারেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এই বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার, সীমান্ত এলাকায় উন্নয়ন, অনুপ্রবেশ রোধ এবং সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের অগ্রগতি।
খবর অনুযায়ী, বৈঠকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, মুখ্য সচিব, সীমান্তবর্তী জেলার জেলাশাসক, পুলিশ সুপার এবং বিএসএফের শীর্ষ আধিকারিকরাও উপস্থিত থাকতে পারেন। রাজ্য সরকারের দাবি, সীমান্তে দ্রুত কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য ১০ জুলাই পর্যন্ত বিএসএফের হাতে ১০২৫ দশমিক ৭৫ একর জমি তুলে দেওয়া হয়েছে। এই জমির মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ১৭২ দশমিক ৬ কিলোমিটার সীমান্ত জুড়ে বিস্তৃত। সরকারের দাবি, এর ফলে সীমান্ত নিরাপত্তা আরও মজবুত হবে এবং বহুদিনের আটকে থাকা বেড়া নির্মাণের কাজ দ্রুত এগোবে।
জেলা ভিত্তিক পরিসংখ্যান বলছে, সবচেয়ে বেশি জমি দেওয়া হয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলায়। এছাড়া মালদহে ১৭৬.৭৮ একর, কোচবিহারে ১৩৫.৩৩ একর, দক্ষিণ দিনাজপুরে ২৬.৪১ একর, উত্তর দিনাজপুরে ৬.৬১ একর, দার্জিলিংয়ে ৪.৩১ একর এবং জলপাইগুড়িতে ২.১৭ একর জমি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এই জমি হস্তান্তর এবং সীমান্তে বেড়া তৈরির কাজ কতটা এগিয়েছে, তা-ও উত্তরকন্যার বৈঠকে খতিয়ে দেখা হবে বলে জানা যাচ্ছে। অন্যদিকে, কেন্দ্রের নজরে রয়েছে ‘চিকেনস নেক’—ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের একমাত্র স্থল সংযোগ।
এই করিডরের নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করতে শিলিগুড়িকে ‘ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক রিজিওন’ বা এনএসআর হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অঞ্চল শুধু সামরিক নয়, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই আধুনিক পরিকাঠামো, উন্নত নজরদারি এবং দ্রুত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দিচ্ছে কেন্দ্র। গোয়েন্দা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, উত্তরবঙ্গের কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদহ—এই ছয় জেলা মিলিয়ে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের দৈর্ঘ্য প্রায় ১,৪০০ কিলোমিটার।
এর মধ্যে প্রায় ১৯৫ কিলোমিটার এলাকায় নদী এবং জমি সংক্রান্ত সমস্যার কারণে এখনও স্থায়ী কাঁটাতারের বেড়া তৈরি করা সম্ভব হয়নি। ফলে ওই এলাকাগুলিতে বিএসএফের টহল আরও বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে কোচবিহার জেলায়, প্রায় ৫৫০ কিলোমিটার। এরপর দক্ষিণ দিনাজপুরে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার এবং উত্তর দিনাজপুরে প্রায় ২২৭ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। এছাড়াও ভারতের সঙ্গে নেপালের ১,৭৫১ কিলোমিটার দীর্ঘ উন্মুক্ত সীমান্ত থাকায় উত্তরবঙ্গের নিরাপত্তা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এখন নজর শনিবারের বৈঠকের দিকে। উত্তরকন্যায় অমিত শাহের উপস্থিতিতে সীমান্ত নিরাপত্তা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ‘চিকেনস নেক’ ঘিরে ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে কী সিদ্ধান্ত হয়, সেদিকেই তাকিয়ে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহল।