Chief Minister issues a stern warning from the Nabanna conference hall to restore administrative transparency!

প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ফেরাতে নবান্ন সভাঘর থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর বিরাট হুঙ্কার !

বিগত আমল থেকে বর্তমান-প্রতিটি ব্যয়ের পাই-টু-পাই হিসেব নিতে তৈরি অডিট টিম !

বিগত তৃণমূল জমানার শাসনকালে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ, ক্যাগ রিপোর্টে উঠে আসা আর্থিক নয়ছয় এবং জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের নামে কোটি কোটি টাকার সরকারি তহবিলের কথিত অপব্যবহারের বিরুদ্ধে এবার সবচেয়ে বড় প্রশাসনিক আঘাত হানল নব্য রাজ্য সরকার। রাজ্যে স্বচ্ছ ও দুর্নীতিনাশী সুশাসন কায়েম করতে এবং সরকারি অর্থে জনগণের অধিকার সুনিশ্চিত করতে এবার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবান্ন সভাঘরে রাজ্য প্রশাসনের সমস্ত সচিবদের নিয়ে আয়োজিত এক হাই-প্রোফাইল পর্যালোচনা বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন— বিগত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের আমল থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত প্রতিটি সরকারি দপ্তরের সমস্ত আর্থিক লেনদেন ও প্রকল্পভিত্তিক ব্যয়ের পুঙ্খানুপুঙ্খ অডিট করা বাধ্যতামূলক।

নবান্নের এই নজিরবিহীন বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত কড়া ভাষায় জানিয়ে দেন যে, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও হিসাবের ক্ষেত্রে কোনো ধরণের আপস বা তোষণ বরদাস্ত করা হবে না। বিগত জমানায় বিভিন্ন ভুয়া উন্নয়নমূলক প্রকল্প ও কাটমানি সংস্কৃতির মাধ্যমে যেভাবে সরকারি কোষাগার শূন্য করা হয়েছিল, সেই পাহাড়প্রমাণ অনিয়মের শিকড় উপড়ে ফেলতেই এই মেগা অডিটের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোন প্রকল্পে কত টাকা বরাদ্দ হয়েছিল, সেই অর্থ নির্ধারিত কাজে ব্যয় না হয়ে কোথায় গেল এবং আদৌ তার কোনো সঠিক ভাউচার বা নথিপত্র রয়েছে কি না— প্রতিটি পাই-টু-পাই আর্থিক নথিপত্র এখন স্ক্রুটিনির মুখোমুখি হবে। কোনো দপ্তর বা কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বকে এই নিরপেক্ষ তদন্ত ও অডিট প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সচিবদের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিয়ে বলেন যে, শুধুমাত্র বিগত সরকারের আর্থিক কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আনাই নয়, বরং বর্তমান সরকারের আমলেও যেন ১০০ শতাংশ জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা বজায় থাকে, তার জন্য অডিট প্রক্রিয়াকে এক স্থায়ী পরিকাঠামোয় রূপান্তরিত করা হচ্ছে। নবান্নের ওই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পাশাপাশি মিলন মেলা প্রাঙ্গণেও অডিট ব্যবস্থা নিয়ে এক পৃথক পর্যালোচনা সভায় উপস্থিত থেকে তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের একটি টাকাও যেন কোনো অসৎ বা দুর্নীতিবাজের পকেটে না যায়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিগত সরকারের সময়কালের সমস্ত সন্দেহজনক অর্থ লেনদেনকে আইনি অডিটের আওতায় এনে নব্য রাজ্য সরকার বুঝিয়ে দিল যে, দুর্নীতিমুক্ত পশ্চিমবঙ্গ গড়াই এখন তাদের মূল লক্ষ্য। কাটমানি আর আমলাতান্ত্রিক বিশৃঙ্খলার পুরনো কালো ইতিহাস চিরতরে মুছে দিয়ে, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও সুশাসন পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই বলিষ্ঠ, নিরপেক্ষ ও ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সত্যিই এক প্রগতিশীল ও দুর্নীতিনাশী সোনার বাংলার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *