মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর আজ প্রথম কলকাতা পুরসভায় শুভেন্দু অধিকারী। ২১ জুন আসছেন প্রধানমন্ত্রী, সেই উপলক্ষ্যে পুরসভায় অনুষ্ঠান। এদিন কলকাতা পুরসভার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন একাধিক তৃণমূল কাউন্সিলররা। উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। উপস্থিত ছিলেন মালা রায়-সহ একাধিক। মালা রায়, ফিরহাদ হাকিমকে ধন্যবাদ জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
সেই অনুষ্ঠান থেকেই পুরসভার ভোট নিয়ে বড় ঘোষণা শুভেন্দু অধিকারীর। এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কলকাতায় ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস করে ৬ মাসের মধ্যে ভোট হবে। ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে কলকাতা পুরসভায় নতুন বোর্ড। আগামী ৬ মাসের মধ্যে কলকাতা পুরসভায় ভোট হবে। রাজ্য সরকার বাধ্য হয়েছে পুরসভায় প্রশাসক বসাতে। প্রশাসককে সহযোগিতা করার দায়িত্ব আপনাদের। পুরসভার কাজ কোনও অবস্থায় বন্ধ রাখা যায় না।’
ছাব্বিশের নির্বাচনে রাজ্যে পালা বদলের পর বাংলায় রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতে শুরু করেছে। এখদিকে ভাঙন ধরেছে তৃণমূল কংগ্রেসে। অন্যদিকে হাতছাড়া হয়েছে কলকাতা পুরসভাও। সম্প্রতি মেয়রের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ফিরহাদ হাকিম। মেয়াদের আগে মেয়রের পদত্যাগের কারণে বাতিল হয়েছে পুর বোর্ডও। এর পরেই কলকাতার পুর কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে স্মিতা পাণ্ডেকে। ফলে যতদিন না পুর নির্বাচন হচ্ছে, ততদিন পুরসভার কাজ চালাবে রাজ্য সরকারই। অনেকেই আগে মনে করছিলেন ডিসেম্বরের আগেই পুরভোট করিয়ে নতুন বোর্ড গঠনের চেষ্টা করবে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী কথা রাখলেন।
২০২০ সালে করোনার কারণে ভোট হয়নি। ২০২১ সালে ডিসেম্বরে পুরসভার ভোটগ্রহণ হয়েছিল। ১৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৩৭টি জিতে পুরবোর্ড গঠন করেছিল তৎকালীন শাসকদল তৃণমূল। তবে সেই সময় ছাপ্পা-রিগিংয়ের অভিযোগ উঠেছিল। তবে রাজ্যে পালাবদলের পর অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে পুরসভায়। এসবের মাঝে পদত্যাগ করেছেন ফিরহাদ। এর পরেই পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের তরফে নোটিস জারি করে জানতে চাওয়া হয়েছিল, মেয়রের ইস্তফার পর কেন ভেঙে দেওয়া হবে না পুরবোর্ড? নতুন মেয়র কে হবেন সেটাও জানতে চাওয়া হয়েছিল। তবে পুরসভার তরফে কোনও নাম না জানানোর ফলে পুরসভার বোর্ড ভেঙে দেয় শুভেন্দুর সরকার। তার পরেই এবার জানা গেল আগামী ডিসেম্বরেই গঠন হচ্ছ কলকাতা পুরসভার পুরবোর্ড।
রাজনৈতিক মহলের মতে পুরসভার বিদায়ী মেয়র ফিরহাদ হাকিম ও চেয়ারপার্সন মালা রায়ের উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই ‘উন্নয়নের পক্ষে এককাট্টা’ হওয়ার বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একই সঙ্গে আগামী ৬ মাসের মধ্যে পুরভোটের সময়সীমা বেঁধে দেওয়ায় রাজনৈতিক দলগুলিও এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।