ক্লাস টুয়েলভ পর্যন্ত পড়ুয়াদের মোবাইল ফোন সম্পূর্ণ ব্যান ! পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় এবার আরও কড়া শুভেন্দু অধিকারী !

সোশ্যাল মিডিয়ার রিল, অনলাইন গেমিং আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রিনের আলোয় হারিয়ে যাচ্ছে আজকের শৈশব ও কৈশোর! শিক্ষার্থীদের এই মারাত্মক ডিজিটাল নেশা রুখতে এবার কি এক নজিরবিহীন ও বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে রাজ্য সরকার? শিক্ষক দিবসের পুণ্যলগ্নে দাঁড়িয়ে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত সমস্ত ছাত্রছাত্রীদের মোবাইল ফোনের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার মতো এক অত্যন্ত কঠোর ও সাহসী ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী!

শিক্ষক দিবসের বিশেষ অনুষ্ঠানে নিজের ছাত্রজীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বর্তমান প্রজন্মের স্মার্টফোন নির্ভরতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি সোজাসুজি বলেন— স্মার্টফোনের কু-প্রভাব আজ শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশের পথকে পুরোপুরি রুদ্ধ করে দিচ্ছে। বাবা-মা ঘুমিয়ে পড়ার পর মধ্যরাত দেড়টা-দুটো পর্যন্ত আড়ালে বসে মোবাইল ঘাঁটছে খুদে পড়ুয়ারা। যার জেরে তাদের পড়াশোনা তো বটেই, নষ্ট হচ্ছে স্বাভাবিক ঘুম ও চিন্তা করার ক্ষমতা। এই পরিস্থিতি বদলাতে গুজরাটের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের উদাহরণ তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত পড়ুয়াদের স্কুল চত্বরে মোবাইল ব্যবহারে কড়া বিধিনিষেধ আরোপ এবং স্মার্টফোন আসক্তি কমাতে রাজ্যস্তরে সমীক্ষা চালিয়ে বিশেষ নির্দেশিকা তৈরির কাজ চলছে।

তবে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক সততা ও দৃঢ়তা! তিনি স্পষ্ট ভাষায় স্বীকার করেন— ছাত্রছাত্রীদের মোবাইল ব্যবহারে এমন কঠোর রাশ টানলে হয়তো অভিভাবক বা তরুণ প্রজন্মের একাংশের ক্ষোভের মুখে পড়ে সরকারের ভোটব্যাংক কমে যেতে পারে! কিন্তু ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে হলে ভোট বা রাজনীতির তোয়াক্কা না করে এমন কঠিন প্রশাসনিক সংস্কার করা জরুরি। শিক্ষা ব্যবস্থার প্রকৃত উন্নয়ন ও শিক্ষক দিবসের মর্যাদা রক্ষা করতে এই সংস্কার আনতেই হবে বলে সাফ জানান তিনি।

কোভিড মহামারীর অনলাইন ক্লাসের পর থেকেই শিশুদের মধ্যে স্ক্রিন টাইম মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে গিয়েছে। প্রি-প্রাইমারি থেকে শুরু করে স্কুলের উঁচু ক্লাসের পড়ুয়ারা আজ বাস্তবের খেলার মাঠ ছেড়ে সোশ্যাল মিডিয়ার ভার্চুয়াল জগতে বন্দি। এই সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সেই গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শের কথাও উঠে আসছে— যেখানে শিশুদের ডিজিটাল ডিভাইস থেকে দূরে সরিয়ে শারীরিক কসরত, আউটডোর খেলাধূলা এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার ডাক দেওয়া হয়েছিল। এবার দেখার, রাজনীতির লাভ-ক্ষতি ভুলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুজরাটের মতো বাংলায় দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত মোবাইল সংক্রান্ত এমন কড়া নির্দেশিকা বাস্তবে কত দ্রুত লাগু হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *