রাজ্যে ভোট শুরু হয়ে গেছে। এবার পালা দক্ষিণবঙ্গের মানে দ্বিতীয় দফার ভোট উৎসবের। আর তার আগেই রণক্ষেত্র হয়ে উঠল পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্র। কারণ বিজেপি-র প্রার্থী তথা ‘অভয়ার মা’ কে পুলিশের তরফ থেকে সমন পাঠানো হয়েছে। না, সেই নোটিশ অবশ্য প্রার্থী গ্রহণ করেননি। কারণ সমনে থাকা ভুল রয়েছে। কিন্তু আচমকা কেন সমন পাঠালো রাজ্য পুলিশ? ঘটনার সূত্রপাত নির্বাচনী প্রচার থেকেই। আসলে সম্প্রতি ‘অভয়ার মা’ নির্বাচনী প্রচারে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে কিছু কটু মন্তব্য করেছিলেন, যা সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ ভাইরাল হয়েছিল। আর সেই ‘কুরুচিকর’ মন্তব্যের জেরেই চলতি সপ্তাহের মঙ্গলবার আচমকা রত্না দেবনাথের কাছে পুলিশের সমন পৌঁছায়।
এদিন অবশ্য সেই নোটিশ ফিরিয়ে দেওয়ার প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন স্বয়ং প্রার্থী। তার সাফ কথা, তাকে আক্রমণ করার মতো কোনো ভাষা তৃণমূলের কাছে নেই। আর ঠিক সে কারণেই এমন সমন পাঠিয়ে হেনস্থা করার চেষ্টা হচ্ছে। এরপর তিনি জোর গলায় জানান, তাকে ভয় দেখানো অত সহজ না। যদিও দিন কয়েক আগে পানিহাটির প্রচারে এসে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তার দলীয় কর্মীদের স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছিলেন, কেউ যেন বিজেপি ওই প্রার্থীকে কোনোভাবে ব্যক্তিগত আক্রমণ না করেন। তবে, ভাইপো সৌজন্য দেখালেও, বিজেপি প্রার্থীর মুখের কথায় সৌজন্যতার ছিঁটে-ফোঁটাও নজরে পড়েনি।
প্রসঙ্গত, প্রার্থী হিসেবে রত্না দেবনাথের নাম ঘোষণা ও মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়া এসব সুষ্ঠুভাবে হলেও, তার তরফে তৃণমূলের বিরুদ্ধে বারংবার অভিযোগ শোনা যাচ্ছিল। তাকে বলতে শোনা গিয়েছে, তিনি তার পৃথিবী, তার মেয়েকে হারিয়েছেন। তাই তার আর হারানোর কিছু নেই। এবার যদি কেউ তার দিকে ইট ছোঁড়ে, তাহলেও তিনি শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকবেন। তাই তাকে কোনোভাবেই ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোটের আগে এই সমন বিতর্ক পানিহাটির নির্বাচনী লড়াইকে আরও কয়েক গুণ উত্তপ্ত করে তুলেছে। যার ফলাফল সম্ভবত ভোটবাক্স থেকেই জানা যাবে। তবে এর পাশাপাশি আরও একটি বিষয় না বললেই নয়, আর.জি.কর কাণ্ডের নির্যাতিতার মায়ের নির্বাচনী প্রার্থী হওয়া এবং ঠিক সেই মুহূর্তেই পুলিশের পক্ষ থেকে সমন আসা—এই দুই ঘটনার সংযোগ বর্তমান রাজনৈতিক আবহাওয়াকে যেমন চরম উত্তপ্ত করে তুলেছে। তেমনই প্রশ্ন উঠছে—এই পদক্ষেপ কী শুধুই একটি আইনি প্রক্রিয়া?
অন্যদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভুক্তভোগী পরিবার যখন প্রথাগত পথে বিচার পান না তখন তারা জনপ্রতিনিধি হয়ে দীর্ঘ প্রচলিত ব্যবস্থার পরিবর্তনের ডাক দেয়। তাই এই লড়াই এখন আর ব্যক্তিগত নেই, বরং এটি একটি বৃহত্তর সামাজিক আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। ভোটের ময়দানে তার উপস্থিতি এখন শাসক দলের জন্য অস্বস্তির। যদিও শেষ পর্যন্ত ব্যালট বক্স-ই নির্ধারণ করবে, মানুষ এই ‘তৎপরতা’কে কীভাবে দেখছে। তবে বিরোধীদের মতে, প্রশাসনের উচিত ছিল এই স্পর্শকাতর সময়ে আরও সংবেদনশীল হওয়া, যাতে বিচারের প্রক্রিয়া কোনোভাবেই রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত না হয়। তাই তো ন্যায়বিচার যেন ক্ষমতার দন্দ্বে বলি না হয়—এটাই এখন বাংলার প্রতিটি মানুষের প্রার্থনা।