বাংলার ভোটের মহাযুদ্ধ আজ এক ঐতিহাসিক মোড়ে দাঁড়িয়ে! ভবানীপুর—যেখানে লড়াইটা শুধু একটি আসনের নয়, লড়াইটা অস্তিত্বের। একদিকে পনেরো বছরের বিধায়ক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আর অন্যদিকে নন্দীগ্রামের সেই অপরাজেয় যোদ্ধা শুভেন্দু অধিকারী। ভোটের সকাল থেকেই ভবানীপুরের আকাশ-বাতাস সাক্ষী দিচ্ছে এক বিশাল পরিবর্তনের। একদিকে মুখ্যমন্ত্রীর কপালে ভাঁজ, আর অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারীর চোখে জয়ের ঝিলিক। আজ ভবানীপুর থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় রায় শুনিয়ে দিলেন শুভেন্দু!
“শুভেন্দু অধিকারী কত ভোটে জিতবেন?”—ভোটের সকালে এটাই ছিল বড় প্রশ্ন। আর সেই প্রশ্নের উত্তরেই আজ কেঁপে উঠল ঘাসফুল শিবির। আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে থাকা শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি জানিয়ে দিলেন, এবার আর লড়াই সমানে-সমানে নয়। শুভেন্দুর দাবি—ভবানীপুর থেকে তিনি অন্তত ৩০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জিততে চলেছেন!
নন্দীগ্রামের সেই ‘জায়ান্ট কিলার’ মেজাজে শুভেন্দু আজ বুঝিয়ে দিলেন, দক্ষিণবঙ্গ আর তৃণমূলের দুর্গ নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একচেটিয়া সাম্রাজ্যে এবার ধস নামানো স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। শুভেন্দুর এই ৩০ হাজারি হুঙ্কার এখন তৃণমূল শিবিরের আত্মবিশ্বাসে কুঠারাঘাত করেছে। ভোটের সকালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন দাবি করেন তিনি সারা রাত জেগে পরিস্থিতির ওপর নজর রেখেছেন, তখনই শুভেন্দু অধিকারীর তরফ থেকে এল কড়া জবাব। শুভেন্দু সপাটে বললেন— “কাল সারারাত ওনারা ঘুমাননি কারণ পরাজয় নিশ্চিত বুঝে গিয়েছেন।”
শুধু তাই নয়, তৃণমূল নেত্রীর অসহায়তাকে লক্ষ্য করে শুভেন্দুর সেই অমোঘ বার্তা— “ওনার বয়স হয়েছে, এখন বড্ড চাপে আছেন। ভোট দিয়ে এবার ওনার বাড়ি চলে যাওয়া উচিত।” দীর্ঘ ১৫ বছর যে ভবানীপুরকে মমতা নিজের পৈতৃক সম্পত্তি ভেবেছিলেন, সেখানে দাঁড়িয়েই আজ তাঁকে অবসরের পরামর্শ দিচ্ছেন শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রীর বুথে বুথে ঘুরে বেড়ানোই প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, এবার পরিস্থিতি তাঁর হাতের বাইরে চলে গেছে। বেলা ১১টা পর্যন্ত ভবানীপুরে ৩৭ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে। প্রথম দফার মতোই এবারও মানুষ বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসছে পরিবর্তনের লক্ষ্যে। মমতা যখন কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে নালিশ জানাচ্ছেন, তখনই বিশ্লেষকরা বলছেন—এটা পরাজয়ের আগাম অজুহাত মাত্র। নন্দীগ্রামে হারের জ্বালা মমতা আজও ভুলতে পারেননি, তাই লোডশেডিং-এর বাহানা দেন। কিন্তু শুভেন্দু আজ পরিষ্কার করে দিয়েছেন, ভবানীপুরের মানুষ এবার আর কোনো কারচুপি হতে দেবে না। দুর্নীতির অন্ধকার ঘুচিয়ে ভোরের আলো আনতে শুভেন্দুর ওপরই ভরসা রাখছে ‘মিনি ভারত’। অভিষেক আর মমতার রাত জাগা কি পারবে এই গেরুয়া ঢেউকে রুখতে? উত্তরটা ৪ মে-র ব্যালট বক্সই দেবে।
লড়াইটা ছিল সম্মানের, আর আজ সেটা শুভেন্দু অধিকারীর জয়ের দলিলে পরিণত হতে চলেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শেষ দুর্গ ভবানীপুর কি আজই হাতছাড়া হয়ে গেল? শুভেন্দুর এই আত্মবিশ্বাসী হুঙ্কার কি তবে নতুন সরকারের আগাম বার্তা? ৪ মে যখন ইভিএম খুলবে, তখন দেখা যাবে শুভেন্দুর সেই ৩০ হাজারি মার্জিন তৃণমূলের কফিনে শেষ পেরেক পুঁতে দিয়েছে। বাংলার মেজাজ এখন পরিবর্তনের পক্ষে। আপনি কার ওপর ভরসা রাখছেন? শুভেন্দুর বিজয় না মমতার শেষ চেষ্টা? কমেন্টে জানান আপনার মতামত।