উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য, তিনি ঈশ্বরবিশ্বাসী। তাই থানায় কালীপুজোর কথা বলবেন, আজান দেওয়ার কথা নয়।মন্ত্রীর দাবি, থানায় কালীপুজোর প্রস্তাব দেওয়ার পিছনে রয়েছে বিশেষ কারণ। জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগ, গত বছর কালীপুজোর পর মা কালীর মূর্তিকে প্রিজন ভ্যানে তুলেছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনার পুলিশ। আর সেই ঘটনার জন্যই এবার পুলিশের প্রায়শ্চিত্ত করা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য, যে মা কালীর মূর্তিকে গত বছর প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়েছিল, সেই মা কালীর পুজোই এবার থানায় থানায় করে প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে পুলিশকে।
শুধু তাই নয়, মন্ত্রী মনে করিয়ে দিয়েছেন সংবিধানের পঞ্চম তফসিল অনুযায়ী মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার সময় ঈশ্বরের নামেই শপথ করেছেন তিনি। তাঁর যুক্তি, ঈশ্বরের উপর বিশ্বাস থেকেই এই প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের আরও দাবি, পশ্চিমবঙ্গের বহু থানায় আগে থেকেই কালীপুজো হয়ে আসছে। তাঁর অভিযোগ, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এই ধরনের পুজোয় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। পরবর্তীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে মা কালীর মূর্তি প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়েছিল। তাই এবার থানায় কালীপুজোর মাধ্যমে সেই ঘটনার প্রায়শ্চিত্ত হওয়া উচিত বলেই মনে করছেন তিনি।
মন্ত্রীর এই বক্তব্যে সমর্থনের সুর শোনা গিয়েছে রাজ্যের আরেক মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের গলাতেও। দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, বহু থানাতেই কালীপুজো হয়। শুধু থানা নয়, দেশের বহু সেনা ব্যারাকেও মা কালীর মন্দির রয়েছে। সেখানে পুজোও হয়। তাঁর কথায়, শক্তির প্রতীক মা কালী। তাই তাঁর আশীর্বাদও প্রয়োজন। পুলিশের মনোবল নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর দাবি, পুলিশ কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে। তাই শক্তির আরাধনা করা উচিত।
তবে মন্ত্রীদের এই বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। সিপিএম নেতা সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কটাক্ষ, যাঁদের পাড়ার মনসা পুজো কমিটির সভাপতি হওয়ার যোগ্যতা নেই, তাঁদের হাতে রাজ্যের প্রশাসনিক শাসনভার গেলে এমনটাই হওয়ার কথা। তাঁর অভিযোগ, সরকারের প্রধান দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সংবিধান ও আইনের শাসন নিশ্চিত করা। কিন্তু সেই দায়িত্ব পালন না করে সরকার আইনের শাসনকে এনকাউন্টারের শাসনে পরিণত করতে চাইছে বলে অভিযোগ সায়নের। তাঁর কটাক্ষ, থানায় কোথায় কোন দেবতার মূর্তি বসবে, কোথায় পুজো হবে সেই আলোচনায় ব্যস্ত প্রশাসন। অন্যদিকে তৃণমূলের মুখপাত্র মৃত্যুঞ্জয় পালও এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন।
তাঁর বক্তব্য, থানায় শুধু হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষ কাজ করেন না। সেখানে মুসলিম, খ্রিস্টান, শিখ-সহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষ রয়েছেন। হিন্দুদের মধ্যেও কেউ কালীসাধক, কেউ বৈষ্ণব হতে পারেন। তাই থানাকে থানার মতোই পরিচালনা করা উচিত বলে মন্তব্য তাঁর। ব্যঙ্গের সুরে মৃত্যুঞ্জয় পালের প্রশ্ন, ডাকাতদের মতো পুলিশ রেইড করতে বেরোনোর আগে কি এবার কালীপুজো করে যাবে? সব মিলিয়ে থানায় কালীপুজোকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত বাংলার রাজনীতি।
