বিক্ষোভকে ভয় পেয়ে পুরো একটা প্রজন্মকে চুপ করানোর চেষ্টা! খোদ মমতার হুঙ্কারে কাঁপছে দিল্লির মসনদ!

দেশের রাজধানীতে ফের একবার গণতন্ত্রের গলা টিপে ধরার জঘন্য ছবি সামনে এল! ককরোচদের ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ বা জাতীয় পতাকা ওড়ানোর কর্মসূচির ঠিক আগেই পুলিশি জাঁতাকলে পিষ্ট হতে হলো আন্দোলনকারী যুবকদের। ১৬ অক্টোবর দিল্লির সেন্ট্রাল পার্কে এই কর্মসূচি পালন করার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই ককরোচ নেতা অভিজিৎ দীপকে নোটিশ ধরিয়ে দেয় নির্লজ্জ দিল্লি পুলিশ। শুধু তাই নয়, দিপকের খোঁজে তাঁর করোল বাগের বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ এবং সাফ জানিয়ে দেওয়া হয় যে, সেখানে কোনো রকম কর্মসূচি করতে দেওয়া যাবে না। সকাল থেকেই সেন্ট্রাল পার্ক চত্বর ঘিরে ফেলে নিরাপত্তা বাড়িয়ে দেওয়া হয় এবং শেষ পর্যন্ত অভিজিৎ দীপকে আটক করা হয়। শুধু অভিজিৎ একা নন, এর আগে শুক্রবার আইসা নেত্রী নেহা বোরাকেও একইভাবে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। দিল্লির এই নগ্ন পুলিশি রাজত্ব ও দমনপীড়নের তীব্র সমালোচনা করে এবার সরাসরি ময়দানে নেমেছেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়!

দিল্লি পুলিশের এই হিটলারি কায়দার বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, “দিল্লি পুলিশ কী করছে? অভিজিৎ দীপকেকে ভারতের জাতীয় পতাকা ধরে রাখার জন্য আটক করা হয়েছে। এটা মাথায় রাখুন। স্বাধীন ভারতে আমাদের যুবকদের শান্তিপূর্ণ ভাবে গণতান্ত্রিক অধিকার দাবি করার জন্য আটক করা হচ্ছে। এটা একটা অঘোষিত জরুরি অবস্থা ছাড়া কিছুই নয়।” মোদি সরকারের তীব্র সমালোচনা করে তিনি আরও স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, যে সরকার সাধারণ মানুষের বিক্ষোভ আর প্রতিবাদকে ভয় পায়, তারা আসলে পুরো একটা তরুণ প্রজন্মকে চিরতরে চুপ করিয়ে দেওয়ার নোংরা চেষ্টা করছে। এটি সম্পূর্ণভাবে একটা ফ্যাসিবাদী শাসকের চরম আচরণ, যারা বিরুদ্ধ কণ্ঠস্বরকে সহ্য করতে না পেরে পুলিশ দিয়ে তা দমন করতে চাইছে!

শুধু পুলিশের সমালোচনা করাই নয়, এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে আন্দোলনকারী যুবকদের পাশে দাঁড়িয়ে লড়াইয়ের জোরালো বার্তা দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “আপনাদের দিদি আপনাদের সঙ্গে আছে। কোনও ভয়, কোনও আটক এবং কোনও ক্ষমতার অপব্যবহার গণতন্ত্রের আত্মাকে চূর্ণ করতে পারে না। জাগো ভারত! গণতন্ত্র, স্বাধীনতা এবং অধিকারের জন্য এই প্রতিবাদ চলবে।”

উল্লেখ্য, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে এর আগেও সরব হয়েছিল সিজেপি-সহ দেশের বিভিন্ন বিরোধী দল। এর আগে দিল্লির যন্তরমন্তরে যখন কর্মসূচি ডাকা হয়েছিল, সেবারও পুলিশ বলপ্রয়োগ করে অভিজিৎ-সহ সৌরভ ও আশুতোষকে বেআইনিভাবে আটক করেছিল। বর্তমানে সৌরভ ও আশুতোষকে তিহারে ৫ দিনের পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে। আর এই সপ্তাহের মধ্যেই পরপর দু-বার পুলিশি হেনস্থা ও আটকের শিকার হতে হলো ককরোচ নেতা অভিজিৎ দীপকেকে। দেশের মাটিতে গণতন্ত্রকে খুন করার এই অপচেষ্টা এবং পুলিশকে লেলিয়ে দিয়ে বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেওয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আজ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।
দিল্লির এই জঘন্য পুলিশি দমনপীড়ন এবং প্রশাসনের এই স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে আপনার মতামত কী? ভিডিওটি শেয়ার করে এই প্রতিবাদের আওয়াজ সবার কাছে পৌঁছে দিন!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *