প্রশাসনিক দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবার উত্তর দিনাজপুর জেলা সফরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রশাসনিক বৈঠকের পাশাপাশি সভা থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন তিনি। নাগরিকত্ব থেকে সীমান্ত নিরাপত্তা, অনুপ্রবেশের অভিযোগ থেকে অবৈধ মাদ্রাসা—বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
উত্তর দিনাজপুর বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা। সেই কারণে সফরের শুরু থেকেই সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয়টি ছিল বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। প্রশাসনিক বৈঠকে জেলার বিভিন্ন সমস্যা ও সরকারি কাজের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করার পর সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়াকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, জেলায় প্রায় ৯ হাজার আবেদন রয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে ধর্মীয় কারণে চলে আসা হিন্দু শরণার্থীদের ওই আবেদনগুলির শুনানি দ্রুত শেষ করতে হবে। এর জন্য আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে শুনানি শেষ করার সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছেন তিনি।
শুধু শুনানি শেষ করাই নয়, যোগ্য আবেদনকারীদের দ্রুত নাগরিকত্বের শংসাপত্র দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, যাঁরা তফসিলি জাতির শংসাপত্র পাওয়ার যোগ্য, তাঁদের ভোটার তালিকায় নাম তোলার বিষয়টিও দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। আগামী জানুয়ারির ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম তোলার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
যাঁরা এখনও নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেননি, তাঁদেরও দ্রুত আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে কেন্দ্রীয় সরকারের CAA প্রক্রিয়ার কথাও। তিনি জানিয়েছেন, এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাঁর উপর দায়িত্ব দিয়েছেন এবং সেই দায়িত্ব অনুযায়ী কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।
এর পাশাপাশি অনুপ্রবেশের অভিযোগ নিয়েও কড়া অবস্থানের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, বেআইনিভাবে দেশে প্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে আইন মেনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়াতে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ এবং বিএসএফকে সহযোগিতা করার জন্য সাধারণ মানুষের কাছেও বার্তা দিয়েছেন তিনি।
উত্তর দিনাজপুরের সীমান্তবর্তী অবস্থানের কারণে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিএসএফের কাজের জন্য প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের বিষয়টিও এগিয়েছে। সীমান্ত এলাকায় নজরদারি এবং নিরাপত্তা আরও জোরদার করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
এরপরই অবৈধ মাদ্রাসা নিয়েও প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, জেলায় কোনও অবৈধ মাদ্রাসা থাকা উচিত নয়। কোনও ধরনের দেশবিরোধী কাজ বরদাস্ত করা হবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করেছেন।
সভা থেকে রাজনৈতিক আক্রমণও শোনা যায় মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে। বামপন্থী রাজনীতি এবং বিরোধী শিবিরকে নিশানা করে একাধিক কড়া মন্তব্য করেন তিনি। রাষ্ট্রের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার বার্তাও দেন।
সব মিলিয়ে উত্তর দিনাজপুর সফরে নাগরিকত্ব, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক নজরদারি—তিনটি বিষয়কেই সামনে রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী। এখন নজর, ৩০ নভেম্বরের মধ্যে CAA-র আবেদনগুলির শুনানি কতটা এগোয় এবং অবৈধ কার্যকলাপের বিরুদ্ধে প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়।