দিনহাটায় শিশুকন্যাকে গণধর্ষণ! এবার টাকা দিয়ে অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার মরিয়া চেষ্টা বিজেপি নেত্রীর!

বারুইপুরের ১২ বছরের কিশোরীর ওপর নৃশংসতার ক্ষত শুকাতে না শুকাতেই এবার কোচবিহারের দিনহাটায় এক সাত বছরের শিশুকন্যাকে গণধর্ষণের চাঞ্চল্যকর ও পৈশাচিক ঘটনা সামনে এল। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র রাজ্যজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে এই ঘটনার পর রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকার চেয়েও বেশি বিতর্ক তৈরি করেছে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের ভূমিকা। তৃণমূলের গুরুতর অভিযোগ, শিশুকন্যার ওপর এই ভয়াবহ অত্যাচারের পর পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দিতে এবং পরিবারকে পুলিশে যাওয়া থেকে আটকাতে কুড়ি হাজার টাকার নগদ অফার দিয়ে মুখবন্ধের চেষ্টা করেছেন এক প্রভাবশালী বিজেপি নেত্রী।
ঘটনাটি ঘটে দিনহাটার পুঁটিমারী এলাকায়। অভিযোগ, বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগ নিয়ে পাঁচ দুষ্কৃতী ঘরে ঢুকে সাত বছরের ওই অসহায় শিশুটির ওপর পাশবিক অত্যাচার ও গণধর্ষণ চালায়। শিশুটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দিনহাটা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আর এই ঘটনার খবর ছড়াতেই এলাকায় পৌঁছান বিজেপি নেত্রী শাবানা খাতুন। শিশুটির মায়ের অভিযোগ, ওই বিজেপি নেত্রী তাঁকে নগদ ২০ হাজার টাকা হাতে দিয়ে বিষয়টি নিজেদের মধ্যে মিটিয়ে নেওয়ার জন্য প্রবল চাপ সৃষ্টি করেন। যদিও ওই বিজেপি নেত্রী রাজনৈতিক চক্রান্তের দোহাই দিয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন, কিন্তু নির্যাতিতার মা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি কোনো টাকার প্রলোভনে বিক্রি হবেন না, তিনি অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান। পরবর্তীতে সিপিএম প্রতিনিধিদের সহায়তায় পরিবারটি থানায় অভিযোগ দায়ের করে।
এই ঘটনা সামনে আসতেই বিজেপির গণবিরোধী এবং নারী-বিরোধী অবস্থান নিয়ে সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। সামাজিক মাধ্যমে কড়া ভাষায় এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে রাজ্যের বিজেপি সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরা হয়েছে। নির্বাচনের আগে বিজেপি যে নারী সুরক্ষা, কঠোর আইনি ব্যবস্থা ও ‘সোনার বাংলা’ গড়ার হাজার হাজার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাধারণ মানুষের ভোট হাতাচ্ছিল, আজ ক্ষমতায় আসার পর সেই সব আশ্বাস হাওয়ায় মিলিয়ে গিয়েছে। ছোট ছোট শিশুরাও আজ গেরুয়া জমানায় সুরক্ষিত নয়।
তৃণমূলের স্পষ্ট দাবি, যে সরকার বিচার সুনিশ্চিত করার বদলে অপরাধীদের আড়াল করতে টাকা দিয়ে মুখবন্ধের চেষ্টা করে, তারা শাসন করার নৈতিক অধিকার হারিয়েছে। ইতিপূর্বে বিভিন্ন ইস্যুতে রাজ্য সরকারের সমালোচনা করা বিজেপি নেতারা আজ নিজেদের দলের নেত্রীর এমন জঘন্য কীর্তিতে পুরোপুরি নীরব। নারী সুরক্ষাকে কেবল ভোটের হাতিয়ার বানিয়ে ক্ষমতাদখল করা বিজেপি যে কার্যক্ষেত্রে পুরোপুরি ব্যর্থ, বারুইপুর ও দিনহাটার একের পর এক ঘটনা তারই জলজ্যান্ত প্রমাণ। এই জনবিরোধী ও নীতিহীন সরকারের বিরুদ্ধে এখন রাজ্যজুড়ে সাধারণ মানুষের ধিক্কার ও ক্ষোভের আগুন জ্বলছে।
দিনহাটার এই অমানবিক ঘটনা আরও একবার স্পষ্ট করে দিল যে, স্লোগান ও বিজ্ঞাপনে নারী সুরক্ষার বুলি আউড়ালেও বাস্তব ক্ষেত্রে অপরাধীদের আড়াল করতেই মরিয়া বর্তমান শাসক শিবির, যার সঠিক জবাব দিতে প্রস্তুত বাংলার সচেতন জনগণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *