ক্যামাক স্ট্রিট কাণ্ডে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা পুলিশের জেরার মুখোমুখি হওয়ার পরই ফের বিস্ফোরক মন্তব্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বুধবার সকালে শেক্সপিয়র সরণি থানায় হাজিরা দিয়ে বেরিয়ে বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করেন তিনি। আর সেখানেই জ্ঞানেশ কুমারকে গ্রেপ্তার করার দাবি ঘিরে নতুন করে তীব্র হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।
থানা থেকে বেরিয়ে অভিষেক বলেন, তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করতে গিয়ে জ্ঞানেশ কুমার নিজেই ফ্রিজ হয়ে যাবেন। তাঁর দাবি, জ্ঞানেশ কুমার গ্রেপ্তার হবেনই। তাঁকে গ্রেপ্তার করে তদন্ত করা হলে আসল তথ্য সামনে আসবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অভিষেকের আরও দাবি, জ্ঞানেশ কুমার বিজেপি সরকারের ‘প্রাণভোমরা’। তাঁকে বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহের এত তৎপরতা বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একইসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, দেশের মানুষ শেষ পর্যন্ত তাঁদের বিদায় করবেন।
এই মন্তব্যের পরই পালটা আক্রমণ শুরু হয় বিজেপির তরফে। নবান্নে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে শুভেন্দু অধিকারী অভিষেককে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেন। তাঁর বক্তব্য, বাবার নাম ঠিক থাকলে অভিষেককে ডায়মন্ড হারবারে গিয়ে আরও একবার দাঁড়াতে বলা হোক। এখনও তিনি সাংসদ রয়েছেন বলেও কটাক্ষ করেন শুভেন্দু।
অর্থাৎ, জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে অভিষেকের আক্রমণের জবাব দিতে গিয়ে সরাসরি অভিষেকের নির্বাচনী কেন্দ্রকেই সামনে আনলেন শুভেন্দু। এই মন্তব্যের পরেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শুরু হয়েছে চাপানউতোর।
এদিকে, জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে দেশজুড়ে যে আন্দোলন চলছে, তা নিয়েও মুখ খোলেন অভিষেক। তাঁর দাবি, এই আন্দোলন কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নয়, সাধারণ মানুষের আন্দোলন। তাঁর বক্তব্য, জ্ঞানেশ কুমারকে রক্ষা না করা হলে আরও কয়েকজন একে একে সমস্যায় পড়বেন। এই প্রসঙ্গে সীমা খান্না, মনোজ আগরওয়াল এবং সুব্রত গুপ্তের নামও উল্লেখ করেন তিনি।
পাশাপাশি ক্যামাক স্ট্রিটে পুরসভার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অভিষেক। তাঁর দাবি, কোনও নোটিস না দিয়ে ডিমোলিশন করা যায় না এবং কলকাতা পুরসভার নিজস্ব আইনেও এই বিষয়টি রয়েছে। তাঁকে কোনও নোটিস দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
অভিষেক আরও প্রশ্ন তোলেন, ক্যামাক স্ট্রিটে পুরসভার অভিযান চলার সময় কতগুলি বিলবোর্ড সরানো হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, শুধু তৃণমূলের বিলবোর্ডই কেন সরানো হবে? তৃণমূলের বিরুদ্ধে যদি কিছু না থাকে, তাহলে বিজেপি নেতৃত্ব এতটা ভয় পাচ্ছে কেন—এই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
অন্যদিকে, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও অভিষেককে পালটা আক্রমণ করেন। তাঁর বক্তব্য, অভিষেককে নিজের নির্বাচনী কেন্দ্রে গিয়ে গ্রামের মানুষের সামনে এই কথাগুলি বলতে হবে। এমনকি পশ্চিমবঙ্গের কোনও বিচ্ছিন্ন গ্রামে দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখার চ্যালেঞ্জও দেন তিনি। প্রয়োজন হলে পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া হবে বলেও মন্তব্য করেন শমীক।
সব মিলিয়ে, ক্যামাক স্ট্রিটের জেরার পর অভিষেকের বিস্ফোরক মন্তব্যে ফের উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। জ্ঞানেশ কুমারকে গ্রেপ্তারের দাবি থেকে শুরু করে ডায়মন্ড হারবারে দাঁড়ানোর পালটা চ্যালেঞ্জ—দুই শিবিরের এই বাকযুদ্ধ আগামী দিনে আরও কোন দিকে গড়ায়, এখন সেদিকেই নজর।
