বাংলার রাজনীতিতে এই মুহূর্তের সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর রাজনৈতিক বিস্ফোরণ! বিধানসভা নির্বাচনে মুখ থুবড়ে পড়ার পর তৃণমূল কংগ্রেসের পতন যেন আর কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না। একে একে ৬০ জনেরও বেশি বিধায়ক ঘাসফুল শিবির ছেড়েছেন, দল ভেঙে সম্পূর্ণ নতুন পার্টিতে যোগ দিয়েছেন ২০ জন হেভিওয়েট বিদ্রোহী সাংসদ। আর এবার যা ঘটল, তা বোধহয় স্বয়ং তৃণমূল সুপ্রিমোও কল্পনা করতে পারেননি। রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা বাড়িয়ে এবার খোদ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারেই কি তবে বড়সড় ভাঙন ধরতে চলেছে? মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ডাকে সাড়া দিয়ে কলকাতা পুরনিগমের মেগা অনুষ্ঠানে সগৌরবে হাজির হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইয়ের বউ তথা তৃণমূলের হেভিওয়েট কাউন্সিলর কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়! ভাইপো অভিষেকের কাকিমার এই আকস্মিক উপস্থিতি কি পিসির সাম্রাজ্যের শেষ পেরেক?
ক্ষমতার মহাবদলের পর এবার কলকাতা পুরনিগমের খোলনলচে বদলে দিতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কলকাতা পুরনিগমের স্তব্ধ হয়ে যাওয়া উন্নয়নকে গতি দিতে এবং শহরকে জঞ্জালমুক্ত করতে নবান্নের তরফে আয়োজন করা হয়েছিল এক বিশেষ ‘স্বচ্ছতা অভিযান’ কর্মসূচি। আর এই কর্মসূচির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য কী জানেন? পূর্বতন জমানার মতো এখানে কোনো রাজনৈতিক তোষণ বা বিরোধীদের কোণঠাসা করার নোংরা খেলা ছিল না। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দেন—শহরের উন্নয়ন করতে গেলে সমস্ত দলের কাউন্সিলরদের একসাথে চলতে হবে। আর মুখ্যমন্ত্রীর এই দলবাজিমুক্ত, স্বচ্ছ ও সুশাসনের ডাকেই সাড়া দিয়ে অনুষ্ঠানে লাইনে দাঁড়িয়ে হাজির হলেন কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায় সহ একঝাঁক তৃণমূল কাউন্সিলর।
তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে কার্যত অন্ধকারে রেখে এই মেগা অনুষ্ঠানে শুধু যে অভিষেকের কাকিমা উপস্থিত ছিলেন তা কিন্তু নয়! শুভেন্দুজীর ডাকে সাড়া দিয়ে সেখানে হাজির হয়েছিলেন সদ্য গ্রেফতার হওয়া স্বরূপ বিশ্বাসের স্ত্রী জুঁই বিশ্বাস থেকে শুরু করে দেবাশিস কুমারের মতো তৃণমূলের অতি পরিচিত ও হেভিওয়েট কাউন্সিলররা। যে কলকাতা পুরনিগম এতদিন সিন্ডিকেট আর কাটমানির আখড়া হয়ে উঠেছিল, সেখানে আজ সুশাসনের নতুন সুর। আর সেই সুরেই সুর মিলিয়ে নবান্নের এই সিদ্ধান্তকে দু’হাত তুলে সমর্থন জানালেন কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়। অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন মমতার ভাতৃবধূ। কালীঘাটের তোষণ নীতিকে একপ্রকার খারিজ করে দিয়ে কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায় খোদ শুভেন্দু অধিকারীর সুশাসনকে সার্টিফিকেট দিয়ে বলেন— “আমি রাজ্য সরকারকে সম্পূর্ণভাবে সহযোগিতা করতে চাই। উন্নয়নের কাজে আমার কোনো রাজনৈতিক অসুবিধা নেই। সরকার জনস্বার্থে যা ভালো করবে, আমি সবসময় তার পাশে থাকব। সবচেয়ে বড় কথা, অন্য দলে থাকলেও আমাদের মুখ্যমন্ত্রী কোনো বিভেদ করেননি। তিনি বিরোধীদের সমান গুরুত্ব দিয়ে ডেকেছেন। আশা করছি আগামী দিনেও মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে আমরা সব রকম সাহায্য পাব।”
বিরোধী দলের কাউন্সিলর হয়েও কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অকপট স্বীকারোক্তি প্রমাণ করে দেয় যে—বাংলায় আজ আর কোনো একনায়কতন্ত্র নেই। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বঙ্গে আজ এমন এক ডবল ইঞ্জিন সরকার চলছে, যা দলমত নির্বিশেষে প্রতিটি জনপ্রতিনিধিকে সম্মান দেয় এবং প্রকৃত উন্নয়ন করতে জানে। পিসির একাধিপত্যের দিন শেষ করে ভাইপোর কাকিমা নিজেই আজ সুশাসনের নতুন সূর্যকে স্বাগত জানালেন।
শুভেন্দু অধিকারীর ডাকে সাড়া দিয়ে মমতার ভাতৃবধূ কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ঐতিহাসিক উপস্থিতি এবং শুভেন্দু সরকারের এই বৈষম্যহীন সুশাসন নিয়ে আপনার মতামত কী? কমেন্ট বক্সে আপনার বক্তব্য অবশ্যই জানান।