জাতীয় নিরাপত্তা এবং সাধারণ মানুষের জীবনের সুরক্ষার চেয়ে বড় কোনো ভোটব্যাঙ্ক হতে পারে না—ক্ষমতায় এসেই তা কাজে করে দেখালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গত ৩০ বছর ধরে যে জটিল জট কাটাতে পারেনি কোনো সরকার, বাংলায় বিজেপি আসতেই সেই পাহাড়প্রমাণ সমস্যার সমাধান হয়ে গেল এক নিমিষে। কলকাতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ের নিরাপত্তার স্বার্থে অপারেশনাল এলাকার ভেতরে থাকা ১৩৬ বছরের পুরোনো গৌরীপুর জামে মসজিদ অবশেষে স্থানান্তরিত হতে চলেছে! নবান্নের সবুজ সঙ্কেত মিলতেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করে দিয়েছে প্রশাসন।
ইতিহাস সাক্ষী আছে, বিগত তিন দশকে জ্যোতি বসু থেকে শুরু করে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, এবং পরবর্তীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল সরকার—সকলেই এই স্পর্শকাতর বিষয়টি নিয়ে স্রেফ রাজনীতি করেছে। কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রক বারবার চিঠি দেওয়া সত্ত্বেও, শুধুমাত্র একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের ভোট হাতছাড়া হওয়ার ভয়ে পিসি-ভাইপোর সরকার হাত গুটিয়ে বসেছিল। দেশের সম্মান এবং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের সুরক্ষাকে তোষণের রাজনীতির নোংরা চাদরে মুড়ে রাখা হয়েছিল। কিন্তু শুভেন্দুজির সুশাসনে আজ স্পষ্ট বার্তা—আইন এবং জাতীয় সুরক্ষার ঊর্ধ্বে কেউ নয়।
আসুন বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি সত্যটা জেনে নেওয়া যাক, যা এতদিন তৃণমূল সরকার সাধারণ মানুষের থেকে লুকিয়ে রেখেছিল। আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের নিয়ম অনুযায়ী, যেকোনো সচল রানওয়ে থেকে যেকোনো স্থায়ী কাঠামোর ন্যূনতম দূরত্ব অন্তত ২৪০ মিটার হওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু এই মসজিদটি বিমানবন্দরের সেকেন্ডারি রানওয়ে থেকে মাত্র ১৬৫ মিটার দূরে, এবং সীমানা প্রাচীরের মাত্র ১৫০ মিটারের ভেতরে অবস্থিত ছিল! যার কারণে রানওয়ের কাছাকাছি বিমান নামার পথ বা অ্যাপ্রোচ পাথ বিপজ্জনকভাবে সরাতে হয়েছিল।
এর ফলে কী মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছিল বাংলার? বিমানবন্দরের সেকেন্ডারি রানওয়ের দৈর্ঘ্য কমে যাওয়ায় Airbus A320 বা Boeing 737 এর মতো ছোট বিমান নামতে পারলেও, Boeing 787 বা Airbus A330 এর মতো বড় বড় আন্তর্জাতিক দূরপাল্লার বিমান কলকাতায় নামতেই পারছিল না! ভাবুন, বাংলার বুকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং পর্যটনকে কতটা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সবথেকে বড় ভয়ের ব্যাপার হলো, শীতকালে যখন অতিরিক্ত কুয়াশার কারণে প্রধান রানওয়ে বন্ধ থাকে, তখন এই মসজিদের অবস্থানের জন্য সেকেন্ডারি রানওয়েতে আধুনিক ইন্সট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেম বা ILS লাগানো যাচ্ছিল না, যা হাজার হাজার যাত্রীর জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলে দিচ্ছিল।
এই চরম বিপদ থেকে বাংলাকে মুক্ত করতে ছক ভাঙলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গত মঙ্গলবার জেলা প্রশাসন এবং ভারতীয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের আধিকারিকরা যৌথভাবে রানওয়ের ভেতরের ওই মসজিদ এলাকা পরিদর্শন করেন। আর তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক কার্যালয়ে মসজিদ কমিটির প্রতিনিধিদের সাথে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সেরে স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় সিলমোহর দেওয়া হয়েছে। যখন এই ১৩৬ বছরের পুরোনো মসজিদ তৈরি হয়েছিল, তখন চারপাশ জনশূন্য ছিল। পরে বিমানবন্দর সম্প্রসারণের ফলে এটি ভেতরে চলে আসে। আজ দেশের স্বার্থে, রাজ্যের অগ্রগতির স্বার্থে এই স্থানান্তর যে কতটা জরুরি, তা সমস্ত শুভবুদ্ধিসম্পন্ন নাগরিক একবাক্যে স্বীকার করছেন।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দিয়েছেন—যাত্রীদের নিরাপত্তা ও জাতীয় নিরাপত্তাই শেষ কথা। তোষণের অন্ধকার কাটিয়ে মোদী-শুভেন্দুর ডবল ইঞ্জিন সরকারের হাত ধরে কলকাতা বিমানবন্দর এবার প্রকৃত অর্থেই বিশ্বমানের হয়ে উঠতে চলেছে। কোনো বাধা, কোনো নোংরা রাজনীতি আর বাংলার উন্নয়নকে আটকে রাখতে পারবে না।
আপনার কী মনে হয়? জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এবং বড় বড় আন্তর্জাতিক বিমান নামানোর জন্য কলকাতা বিমানবন্দরের এই মসজিদ স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত কি আসলেও প্রশংসনীয়? কমেন্ট বক্সে জানান আপনার মতামত।