বেঙ্গালুরুর নারায়ণা হাসপাতাল একটি সুপরিচিত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান। এখানে ভারত ছাড়াও বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে বহু রোগী চিকিৎসার জন্য আসেন। হাসপাতাল এলাকায় একটি মসজিদ রয়েছে, যেখানে রোগী, তাঁদের স্বজন এবং আশপাশের মানুষ নামাজ আদায় করেন। সামাজিক মাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, এই মসজিদটি বিশেষভাবে বাংলাদেশি মুসলিম রোগীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে তৈরি করা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, ধর্মীয় সুবিধা দিয়ে রোগীদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করাই তাঁদের উদ্দেশ্য। বাংলাদেশ থেকে আসা অনেক মুসলিম রোগী এই মসজিদে নামাজ আদায় করেন।
যেখানে ভারতে বাংলাদেশিদের জন্য এতটা ভাবা হচ্ছে সেখানে বাংলাদেশে দেখা যাচ্ছে উল্টো ছবি। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে কয়েকটি হিন্দু মন্দিরে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে। বিভিন্ন হিন্দু সংগঠন দাবি করছে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অধিকার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কোথাও মন্দিরে হামলা, কোথাও জমি দখলের অভিযোগ, আবার কোথাও ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণ বা সংস্কার নিয়ে প্রশাসনিক পদক্ষেপের খবর সামনে এসেছে।
এদিকে সামাজিক মাধ্যমে গাইবান্ধার হরিদাস নামে এক ব্যক্তিকে রাম মূর্তি নির্মাণের উদ্যোগের কারণে গ্রেফতার করা হয়েছে—এমন দাবিও প্রচারিত হয়েছে। আরেকটি দাবিতে বলা হয়েছে, নোয়াখালীর একটি প্রায় ৫০০ বছরের পুরোনো মন্দির ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং এর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক নির্দেশের সম্পর্ক রয়েছে। এই দুই ছবির বৈপরীত্য অনেককে ভাবিয়ে তুলছে।
যদিও বাংলাদেশ সরকার বরাবরই বলে আসছে, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে এবং ধর্মীয় সহিংসতার ঘটনায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ভারতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য ধর্মীয় স্থান তৈরির সুবিধা থাকলেও, প্রতিবেশী দেশে হিন্দুদের প্রতি আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ধর্মীয় সহাবস্থানের কথা বলা হলেও বাস্তবে দ্বৈত মানদণ্ড দেখা যাচ্ছে বলে সমালোচকরা মনে করেন।
বেঙ্গালুরুর এই মসজিদ নিয়ে স্থানীয় মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, হাসপাতালের উদ্যোগ প্রশংসনীয় কারণ রোগীদের ধর্মীয় অনুভূতি মর্যাদা পাচ্ছে। অন্যরা প্রশ্ন তুলছেন, একই সুবিধা অন্য ধর্মের রোগীদের জন্যও সমানভাবে দেওয়া হয় কি না। ভারতের সংবিধান ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলে। সেই আদর্শ অনুসরণ করা উচিত বলে অনেকে মনে করেন।