বিগত সরকারের স্বৈরাচারী জমানায় বাংলায় বিরোধী স্বরকে স্তব্ধ করতে যে নির্মম রাজনৈতিক প্রতিহিংসার রাজনীতি চালানো হতো, সেই অন্ধকার দিনগুলির স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এবার প্রকাশ্য মঞ্চে অত্যন্ত আবেগঘন ও বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি করলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী! শনিবার কলকাতার ঐতিহাসিক ন্যাশনাল লাইব্রেরির ভাষা ভবনে এক বিশেষ স্মারক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানালেন— রাজ্যে যদি ২০২৬-এর মেগা ঐতিহাসিক পালাবদল না ঘটত, তবে বিরোধীদের অস্তিত্ব মুছে ফেলতে কোনো কসুর বাকি রাখত না পূর্বতন শাসক দল। কিন্তু সমস্ত হুমকির মুখে দাঁড়িয়েও তিনি পিছু হটেননি; একাই লড়াইয়ের ময়দানে বুক চিতিয়ে লড়েছেন।
রামমন্দির আন্দোলনের ইতিহাসে পুলিশের গুলিতে আত্মবলিদান দেওয়া কলকাতার বীর সন্তান— রামকুমার কোঠারি ও শরদ কোঠারি, অর্থাৎ অযোধ্যার প্রথম শহীদ ‘কোঠারি ব্রাদার্স’-এর স্মরণে সংঘ পরিবারের তরফে আয়োজিত এই বিশেষ স্মরণসভায় উপস্থিত হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। আর সেই জাতীয়তাবাদী মঞ্চে দাঁড়িয়েই অতীতের রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের স্মৃতি টেনে শুভেন্দু অধিকারী বলেন— “বাংলার জাগ্রত সনাতনী সমাজ ও সাধারণ মানুষ ভোট দিয়ে এ বাংলাকে চরম বিপর্যয়ের হাত থেকে বাঁচিয়ে নিয়েছে। সেই পালাবদল যদি না ঘটত, তবে আমাদের ঠিক কী নিদারুণ পরিণতির মুখোমুখি হতে হতো, তা ভাবাই যায় না! আমার বাবার বয়স এই মুহূর্তে ৮৯ বছর, আর মায়ের বয়স ৮০ পেরিয়েছে। আমি তো মনে মনে মনস্থির করে ফেলেছিলাম— বৃদ্ধ বাবা-মাকে সুরক্ষিত রাখতে ওড়িশায় পাঠিয়ে দেব; কিন্তু নিজে ময়দান ছাড়ব না। আমি একাই শেষ পর্যন্ত লড়াই করব, আর দরকার পড়লে জেলে যাব!”
মুখ্যমন্ত্রীর এই অকপট স্বীকারোক্তি বুঝিয়ে দেয়— বিরোধীদের ওপর মিথ্যা মামলা, পুলিশি হেনস্থা আর গৃহবন্দি করার চক্রান্তের মধ্যেও কতটা ইস্পাত-কঠিন মনোবল নিয়ে তিনি বাংলাজুড়ে গণজাগরণের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন— বিগত দেড় দশকে যে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল বাংলাকে, নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর অতি অল্প সময়ের মধ্যেই সেই ক্ষত সারিয়ে রাজ্যকে উন্নয়নের মূল স্রোতে ফেরাতে দিনরাত এক করে কাজ করে চলেছে। প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমে রাজ্যের নষ্ট হয়ে যাওয়া সংস্কৃতি ও মর্যাদা পুনরুদ্ধার করাই এখন নবান্নের প্রধান অগ্রাধিকার।
বক্তব্যের শেষ পর্বে সনাতন সংস্কৃতির ঐতিহ্য ও দুর্গাপূজার পবিত্রতা রক্ষা প্রসঙ্গে কড়া প্রশাসনিক রূপরেখা স্মরণ করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দেন— পিতৃপক্ষে বা মহালয়ার আগে কোনো অবস্থাতেই দুর্গাপূজার মণ্ডপ উদ্বোধন করা যাবে না; দেবীর আরাধনা হবে খাঁটি শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনেই। বিজয়া দশমীর দিন সম্পূর্ণ পবিত্রতা ও শৃঙ্খলা মেনে প্রতিমা নিরঞ্জন সম্পন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি সাফ মনে করিয়ে দেন— অষ্টমীর পুণ্যলগ্নে মা-বোনেরা যাতে নির্বিঘ্নে অঞ্জলি দিতে পারেন এবং পরিবার নিয়ে রাস্তায় বেরোতে পারেন, সেজন্য সমগ্র রাজ্যজুড়ে সমস্ত মদের দোকান সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অশুভের বিনাশ ঘটিয়ে সনাতনী সংস্কৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করার এই দৃঢ় অঙ্গীকারই আজ নতুন বাংলার আসল পরিচয়!
