If you do not have a permanent roof over your head, you too will get a house.

বাংলায় বিজেপি সরকার আসতেই আবার চালু আবাস যোজনা! মাথার উপর পাকা ছাদ না থাকলে আপনিও পাবেন বাড়ি !

মাথার ওপরে একটা পাকা ছাদ আর নিজের একটা নিরাপদ আশ্রয়, এই স্বপ্নটা প্রতিটি মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় ইচ্ছেগুলোর একটি। গ্রামীণ এবং অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া সেই সমস্ত অসহায় মানুষদের স্বপ্ন পূরণ করতেই রাজ্য সরকার নিজস্ব তহবিল ও ব্যবস্থাপনায় এগিয়ে নিয়ে চলেছে ‘বাংলার আবাস যোজনার’ কাজ। প্রকৃত দুঃস্থ মানুষের কাছে পাকা বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এই প্রকল্পের নিয়মনীতিতে এবার আনা হয়েছে অনেক কড়াকড়ি, যাতে কোনো রকমের কারচুপি বা দুর্নীতির জায়গা না থাকে। এই যোজনার সুবিধা পেতে গেলে আবেদনকারীকে অবশ্যই অঞ্চলের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে এবং তাঁর নাম গ্রামীণ দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা আবশ্যক। সবচেয়ে বড় শর্ত হলো, আবেদনকারীর পরিবারকে সম্পূর্ণ গৃহহীন হতে হবে অথবা তাদের বর্তমান বাসস্থানটি কাঁচা বা মাটির বাড়ি হতে হবে। পরিবারের কোনো সদস্যের নামে রাজ্যের বা দেশের কোথাও কোনো পাকা বাড়ি থাকা চলবে না, এবং আগে অন্য কোনো সরকারি আবাসন প্রকল্পের সুবিধাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা এই সুযোগ পাবেন না। এছাড়া, পরিবারে কোনো স্থায়ী সরকারি চাকরি বা বড় কোনো আয়ের উৎস থাকা চলবে না।

এই স্বপ্নের ঘরের জন্য আবেদন করতে এবং সরকারি যাচাইকরণের সময় কিছু অত্যন্ত জরুরি নথিপত্র সাথে রাখা বাধ্যতামূলক। এর মধ্যে রয়েছে আবেদনকারীর আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, ডিজিটাল রেশন কার্ড এবং পঞ্চায়েত প্রধানের দেওয়া ঠিকানার শংসাপত্র। যেহেতু ঘর তৈরির টাকা সরাসরি উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়, তাই নিজস্ব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের পাসবইয়ের প্রথম পাতার স্পষ্ট জেরক্স দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এর পাশাপাশি লাগবে আবেদনকারীর সাম্প্রতিক রঙিন পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং যে জমিতে বাড়িটি তৈরি হবে, তার মালিকানার প্রমাণ বা পর্চা।

তবে শুধুমাত্র আবেদন করলেই কিন্তু এই ঘর পাওয়া যায় না। দুর্নীতি রুখতে এবং প্রকৃত গরিব মানুষের অধিকার সুনিশ্চিত করতে এখন নেওয়া হয়েছে কড়া পদক্ষেপ। প্রাথমিক তালিকায় নাম ওঠার পর সরকারি আধিকারিক এবং পঞ্চায়েত স্তরের বিশেষ দল সরাসরি আবেদনকারীর বাড়িতে গিয়ে তদন্ত করবেন। তাঁরা খতিয়ে দেখাবেন আবেদনকারীর বর্তমান বাড়িটি সত্যিই মাটির বা কাঁচা কি না, এবং সেই যাচাইকরণের ছবি ও তথ্য সরকারি পোর্টালে আপলোড করা হবে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এবং চূড়ান্ত অনুমোদন মিললে বাড়ি তৈরির টাকা সরাসরি উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে তিন থেকে চারটি কিস্তিতে চলে আসে। প্রথম কিস্তির টাকা দিয়ে ভিত তৈরির পর সরকারি কর্মীরা এসে তার ছবি তুলে পোর্টালে আপলোড করলে তবেই পরবর্তী কিস্তির টাকা রিলিজ করা হয়। এই স্বচ্ছ এবং নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই আজ হাজার হাজার মানুষ ফিরে পাচ্ছেন তাদের নিজের একটা পাকা ঘরের অধিকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *