Is Raghav Chadha joining the BJP?

রাঘব চাড্ডা কি BJP-তে?তাহলে কি রাঘব চাড্ডার রাজনীতিতে শুরু হচ্ছে নতুন অধ্যায়?

এক সময় আম আদমি পার্টির সবচেয়ে আলোচিত মুখগুলোর মধ্যে ছিলেন রাঘব চাড্ডা। অরবিন্দ কেজরিওয়ালের ঘনিষ্ঠ, দলের তরুণ প্রজন্মের অন্যতম মুখ, সংসদে যাঁর বক্তৃতা বারবার ভাইরাল হয়েছে। কিন্তু সেই রাঘবকেই এখন যেন ধীরে ধীরে সরিয়ে দিচ্ছে তাঁর নিজের দল। কয়েকদিন আগেই AAP নেতৃত্ব তাঁকে রাজ্যসভায় দলের ডেপুটি লিডারের পদ থেকে সরিয়ে দেয়। তাঁর জায়গায় আনা হয় পাঞ্জাবের সাংসদ অশোক মিত্তলকে। শুধু তাই নয়, সূত্রের খবর, রাজ্যসভায় দলের কোটায় রাঘবকে আর কথা বলার সুযোগও না দেওয়ার বার্তা পাঠানো হয়েছে।

দলের অন্দরমহলের অভিযোগ, গত কয়েক মাস ধরে রাঘব চাড্ডা সংসদে কেন্দ্রীয় সরকার বা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ না করে নিজের ভাবমূর্তি গড়তেই বেশি ব্যস্ত ছিলেন। AAP-এর একাংশের মতে, তিনি দলের রাজনৈতিক লাইন থেকে সরে গিয়ে নিজের আলাদা অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা করছিলেন। তারপরই আরও বড় ধাক্কা। পঞ্জাব সরকার তাঁর Z+ নিরাপত্তা তুলে নেয়। পুলিশি সূত্রে জানা যায়, তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। অথচ ঠিক সেই সময়েই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক রাঘব চাড্ডাকে Z ক্যাটাগরির নিরাপত্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। দিল্লি ও পঞ্জাব—দুই জায়গাতেই তাঁর নিরাপত্তায় থাকবে আধাসামরিক বাহিনী। আর এরপরেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা উড়তে শুরু করেছে, যে নেতাকে তাঁর নিজের দল নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত করল, তাকেই কেন কেন্দ্র এত দ্রুত নিরাপত্তা দিল? কেনই বা দলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে না গিয়ে রাঘব এখন একের পর এক ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা দিচ্ছেন? রাঘব কি তবে এবার বিজেপিতে নাম লেখাবেন?

দলের সঙ্গে টানাপোড়েনের মাঝেই রাঘব সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক বার্তা দিচ্ছেন। সম্প্রতি তিনি একটি ভিডিও পোস্ট করে লেখেন, “আমি কণ্ঠ তুলেছিলাম, তার মূল্যও দিয়েছি।” আরেকটি পোস্টে তিনি জানান, “আমাকে চুপ করানো যেতে পারে, হারানো নয়।” এই বার্তাগুলোকেই এখন রাজনৈতিক মহল দেখছে তাঁর বিদ্রোহের ভাষা হিসেবে। রাঘব চাড্ডা অবশ্য এখনও পর্যন্ত BJP-তে যোগ দেওয়ার কোনও ইঙ্গিত দেননি। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে AAP-এর অবস্থান, নিরাপত্তা প্রত্যাহার, আর কেন্দ্রের এই পদক্ষেপ—সব মিলিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও বেড়েছে। তিনি দল ছাড়ছেন, এমন কথাও প্রকাশ্যে জানাননি। ফলে প্রশ্ন এখনও থেকেই যাচ্ছে, এ কি শুধুই AAP-এর ভিতরের ক্ষমতার লড়াই? নাকি সত্যিই বদলে যাচ্ছে রাঘব চাড্ডার রাজনৈতিক ঠিকানা?

শুধু তাই নয়, বিরোধীদের একাংশের দাবি, রাঘব চাড্ডার সঙ্গে BJP-র শীর্ষ নেতৃত্বের যোগাযোগও তৈরি হয়েছে। যদিও এ নিয়ে কোনও পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খোলেনি। AAP অবশ্য অভিযোগ করেছে, রাঘবকে কেন্দ্রের নিরাপত্তা দেওয়া এবং তাদের অন্য সাংসদদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সংস্থার তৎপরতা দুটোই বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিকল্পনার অংশ। কারণ ভারতীয় রাজনীতিতে অনেক সময় নিরাপত্তা শুধু নিরাপত্তা নয়, সেটা ভবিষ্যতের রাজনৈতিক বার্তাও হয়ে ওঠে। আর সেই বার্তাই এখন পড়ার চেষ্টা করছে গোটা রাজনৈতিক মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *