Is the BJP now set to ascend the throne of Bengal?

বাংলার মসনদে কি এবার তাহলে বিজেপি? ভোট শেষ হতেই চলে এলো চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট !

যবনিকা পতন ২০২৬-এর মহা-সংগ্রামের! দুই দফার রক্তক্ষয়ী লড়াই আর কোটি কোটি মানুষের ভোটদান শেষে এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু ভোট মিটতেই যে এক্সিট পোল বা বুথ ফেরত সমীক্ষাগুলো সামনে আসছে, তা দেখে কার্যত থমকে গেছে নবান্ন! বাংলার বাতাসে কি তবে সত্যিই গেরুয়া আবির ওড়ার সময় হয়ে এল? একের পর এক নামী সমীক্ষক সংস্থা যে ইঙ্গিত দিচ্ছে, তাতে পরিষ্কার—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৫ বছরের শাসনের সূর্য এবার অস্তমিত হতে চলেছে। মোদীজির উন্নয়ন আর শাহের রণকৌশলের সামনে কি তবে ধূলিসাৎ হয়ে গেল তৃণমূলের তাসের ঘর? আসুন দেখে নিই কী বলছে দেশের বড় বড় সমীক্ষক সংস্থাগুলো।

ম্যাট্রিজ-এর সমীক্ষায় বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে এগিয়ে। তারা বলছে বিজেপি পেতে পারে ১৪৬ থেকে ১৬১টি আসন, যেখানে তৃণমূল আটকে যেতে পারে ১৪০-এর নিচেই।
ভোট ডায়েরি তো আরও একধাপ এগিয়ে! তাদের মতে, বিজেপির ঝুলিতে আসতে পারে ১৭১টি পর্যন্ত আসন, আর তৃণমূল ১০০-র আশেপাশে কোনোমতে মুখ রক্ষা করবে।
চাণক্য স্ট্র্যাটেজি থেকে পি মার্ক—সবাই একই কথা বলছে। বিজেপি ম্যাজিক ফিগার ১৪৮ অনায়াসেই পার করে ১৫০ থেকে ১৭৫টি আসন দখল করতে চলেছে।
এমনকি পাবলিক সার্ভের রিপোর্ট যদি সত্যি হয়, তবে বিজেপি ২০৮টি আসন নিয়ে বাংলাকে বিরোধীশূন্য করার দিকে এগোবে। যদিও পিপলস পালস কিছুটা ভিন্ন কথা বলছে, কিন্তু মাঠের ৯০ শতাংশ ভোটদান যে পরিবর্তনের পক্ষেই গিয়েছে, তা বুঝতে কোনো রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন নেই।

কিন্তু কেন এই ভরাডুবি? বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলার মানুষ এবার আর তোলাবাজি, সিন্ডিকেট আর দুর্নীতির সেই অন্ধকার চক্রে বন্দি থাকতে চায় না। একদিকে নরেন্দ্র মোদীর ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’-এর মন্ত্র, আর অন্যদিকে তৃণমূলের সীমাহীন তোষণ নীতি। বাংলার মা-বোনেরা এবার নিঃশব্দে জবাব দিয়েছেন ইভিএমে। কাল দ্বিতীয় দফায় দক্ষিণবঙ্গে প্রায় ৯০ শতাংশ ভোট পড়েছে। এই বিপুল ভোটদানই প্রমাণ করে যে, মানুষ আর ভয় পেয়ে ঘরে বসে নেই। মমতার ‘ভাইপো’ বাহিনীর দাপট রুখতে এবার সাধারণ মানুষ নিজেই পাহারাদারের ভূমিকা নিয়েছে। আজ যে বিপুল সংখ্যায় মানুষ ভোট দিতে বেরিয়েছেন, তা আসলে তৃণমূলের কুশাসনের বিরুদ্ধে এক নীরব প্রতিবাদ।

তবে শুধু বাংলা নয়, পরিবর্তনের হাওয়া বইছে গোটা দেশে। কেরালায় যেখানে বামপন্থীদের অজেয় মনে করা হতো, সেখানেও এবার পরিবর্তনের ডঙ্কা বাজছে। পিনারাই বিজয়নের সরকারকে সরিয়ে ক্ষমতায় ফিরছে ইউডিএফ। অন্যদিকে অসম এবং তামিলনাড়ুতেও রেকর্ড ভোট পড়েছে।
অসমে ৮৫ শতাংশের বেশি ভোটদান প্রমাণ করছে যে, মানুষ মোদীজির ডাবল ইঞ্জিন সরকারের ওপর কতটা আস্থাশীল। পুদুচেরিতে ১৯৬৪ সালের পর সর্বোচ্চ ভোট পড়েছে। গোটা ভারত যখন উন্নয়নের পথে হাঁটছে, বাংলা কেন তবে পিছিয়ে থাকবে? এক্সিট পোলের এই রিপোর্ট আসলে সোনার বাংলার এক পূর্বাভাস মাত্র। সমীক্ষার ফল যাই হোক, আসল সত্যিটা জানা যাবে ৪ মে। কিন্তু দেওয়ালে যে লিখন দেখা যাচ্ছে, তা মোদীজির জয়ী হাসির দিকেই ইঙ্গিত করছে। তৃণমূল যখন পরাজয়ের অজুহাত সাজাতে ব্যস্ত, বিজেপি তখন বাংলার মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

১৫ বছরের অন্ধকার কি তবে এবার ঘুচবে? বাংলার মসনদে কি সত্যিই বসতে চলেছেন বিজেপি ? আপনার কী মনে হয় পরিবর্তন কী আসছে না দিদির সিংহাসন দিদিরই থাকবে ? কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *