করোনা পরবর্তী সময়ে পড়াশোনার সঙ্গে প্রযুক্তির সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে। স্কুল বন্ধ থাকলেও পড়াশোনা যাতে বন্ধ না হয়ে যায়, তার জন্য অনলাইন ক্লাস, মোবাইল এবং বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার দ্রুত বেড়ে যায়। এরপর পড়াশোনার কাজে স্মার্টফোনের ব্যবহার অনেক পরিবারের কাছেই স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। কিন্তু এর পাশাপাশি সামনে আসে আরেকটি সমস্যা, পড়াশোনার জন্য হাতে দেওয়া মোবাইলই অনেক সময় হয়ে উঠছে গেম, রিলস কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যম। এই পরিস্থিতিতে পড়ুয়াদের জন্য যদি এমন একটি ডিভাইস দেওয়া যায়, যেটি মূলত শুধুমাত্র শিক্ষার কাজে ব্যবহার করা যাবে, তাহলে কেমন হয়?
এই ভাবনা থেকেই সামনে আসছে ‘এডুকেশনাল ট্যাব’ বা শিক্ষামূলক ট্যাবের ধারণা। এর আগে রাজ্যে পড়ুয়াদের ডিজিটাল শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করতে ‘তরুণের স্বপ্ন’ প্রকল্প চালু করা হয়েছিল। এই প্রকল্পের আওতায় একাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের ডিভাইস কেনার জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তবে নতুন যে ভাবনার কথা সামনে এসেছে, সেখানে মূল পার্থক্য হতে পারে ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণে। সাধারণ স্মার্টফোনে আপনি চাইলে অ্যাপ ডাউনলোড করতে পারেন, গেম খেলতে পারেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় যেতে পারেন।
কিন্তু শিক্ষামূলক ট্যাবের উদ্দেশ্য হবে—
ডিভাইসটিকে এমনভাবে তৈরি বা কনফিগার করা, যাতে এর মূল ব্যবহার থাকে পড়াশোনার মধ্যেই। সহজ ভাষায় বললে, এটি এমন একটি ট্যাবলেট ডিভাইস, যা বিশেষভাবে শিক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজন মাথায় রেখে তৈরি বা নিয়ন্ত্রিত করা হয়। সাধারণত এতে থাকতে পারে তুলনামূলক বড় ডিসপ্লে, যাতে ই-বুক পড়া, ভিডিও লেকচার দেখা কিংবা ডিজিটাল শিক্ষাসামগ্রী ব্যবহার করা সহজ হয়। এর সঙ্গে থাকতে পারে বিশেষ সফটওয়্যার নিয়ন্ত্রণ।
ইচ্ছা করলেই প্লে স্টোর থেকে যেকোনও গেম বা সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ ডাউনলোড করা যাবে না। শিক্ষার প্রয়োজনীয় অ্যাপ, ডিজিটাল বই এবং নির্দিষ্ট শিক্ষামূলক কনটেন্টই সেখানে রাখা বা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। কিছু ব্যবস্থায় আবার অভিভাবক বা স্কুল কর্তৃপক্ষও ডিভাইসের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। ফলে ডিভাইসটি হাতে থাকলেও সেটি সাধারণ স্মার্টফোনের মতো অবাধ ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যম হয়ে ওঠার সম্ভাবনা কমে। যদি ট্যাবে শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় শিক্ষামূলক কনটেন্ট থাকে, অ্যাপ ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ থাকে এবং পড়াশোনার বাইরে বিনোদনমূলক ব্যবহারের সুযোগ সীমিত থাকে, তাহলে স্মার্টফোনের তুলনায় বিভ্রান্তির সম্ভাবনা কমতে পারে।
হাওড়ার একটি স্কুলের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পড়ুয়াদের সারাদিন মোবাইলে ডুবে থাকার বিষয়ে তাঁর অসন্তোষের কথা জানিয়েছেন। সেখানেই তিনি পড়ুয়াদের জন্য শিক্ষামূলক ট্যাব দেওয়ার পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে পরিকল্পনাটি বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, কতজন পড়ুয়া এর আওতায় আসেন এবং ডিভাইস ব্যবহারের ক্ষেত্রে কী কী নিয়ম রাখা হয় সেটাই এখন দেখার বিষয়।