দুর্গাপুজোর আবহে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্যের সাধারণ মানুষকে শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শুভেচ্ছাবার্তায় বাংলার দুর্গাপুজোর ঐতিহ্য, শিল্প, সংস্কৃতি এবং মানুষের একতার প্রশংসা করেছেন তিনি। একইসঙ্গে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, তাঁর পরিবার এবং বাংলার মানুষের সুখ, সুস্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
জানা গিয়েছে, এর আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর তরফেও প্রধানমন্ত্রীকে দুর্গাপুজোর শুভেচ্ছা জানানো হয়েছিল। তারই জবাবে নরেন্দ্র মোদীর পক্ষ থেকে এই শুভেচ্ছাবার্তা পাঠানো হয়। মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের তরফে প্রধানমন্ত্রীর বার্তাটি প্রকাশ্যে আনা হয়েছে।
বার্তায় প্রধানমন্ত্রী প্রথমেই শুভেন্দু অধিকারীকে দুর্গাপুজোর শুভেচ্ছা জানান। একইসঙ্গে মা দুর্গার আশীর্বাদে মুখ্যমন্ত্রী, তাঁর পরিবার এবং পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত মানুষের সুস্বাস্থ্য, সুখ ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তিনি।
তবে শুধু আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি প্রধানমন্ত্রী। দুর্গাপুজোর সঙ্গে বাংলার সম্পর্ক এবং এই উৎসবের সাংস্কৃতিক গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে দুর্গাপুজোকে পশ্চিমবঙ্গের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য এবং শিল্পকলার এক গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্গাপুজো বাংলার সংস্কৃতিতে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। এই উৎসবের মধ্যে যেমন রয়েছে ভক্তি ও আধ্যাত্মিকতা, তেমনই রয়েছে মানুষের মধ্যে একতার শক্তি। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে একসঙ্গে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে দুর্গাপুজোর ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি।
শুভেচ্ছাবার্তায় ‘বিরাসত সে বিকাশ’-এর কথাও বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। অর্থাৎ দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে ধরে রেখেই উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাওয়ার ভাবনাকে গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলার দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক পরম্পরার সঙ্গে আধুনিক উন্নয়নের এই যোগসূত্রই তাঁর বার্তায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
এছাড়াও শক্তির আরাধনার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মা দুর্গার উপাসনা মানুষের ভিতরের শক্তিকে জাগিয়ে তুলতে অনুপ্রেরণা দেয়। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও বিশ্বাস, সাহস এবং দৃঢ় সংকল্প নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার বার্তাও এই উৎসবের মধ্যে রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
দুর্গাপুজোকে ঘিরে বাংলার মানুষের আবেগের কথাও তাঁর শুভেচ্ছাবার্তায় স্পষ্ট হয়েছে। ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি এটি যে মানুষের মিলন ও সামাজিক সম্প্রীতিরও একটি বড় উপলক্ষ, সেই দিকটিও তুলে ধরা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও কামনা করেছেন, মা দুর্গার আশীর্বাদ যেন পশ্চিমবঙ্গের মানুষের উপর সবসময় থাকে। একইসঙ্গে রাজ্য এবং গোটা দেশ যেন আরও উজ্জ্বল ও গৌরবময় ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যায়—এই শুভকামনাও জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর এই শুভেচ্ছাবার্তার জন্য মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্যবাসীর পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে। উৎসবের আবহে প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে।
সব মিলিয়ে, দুর্গাপুজোর শুভেচ্ছাবার্তায় বাংলার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, শিল্প এবং মানুষের একতার প্রশংসা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শুভেন্দু অধিকারীকে পাঠানো এই বার্তায় একদিকে যেমন উৎসবের শুভেচ্ছা রয়েছে, তেমনই রয়েছে বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তাও।