মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম শুনলেই যে বিজেপির পায়ের তলায় মাটি কেঁপে যায়, আরও একবার তা প্রমাণ হয়ে গেল! গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ, দিল্লির মাটিতে নেত্রীর ওপর পুলিশি হেনস্থা এবং তরুণ প্রজন্মের ওপর লাগাতার দমনপীড়নের প্রতিবাদে মঙ্গলবার এক উত্তাল রূপ নিল কলকাতা। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাজাবাজার থেকে পার্ক সার্কাস পর্যন্ত এক বিশাল মিছিলের ডাক দিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। আর এই আন্দোলনকে দমাতে পুলিশ-প্রশাসন থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় বাহিনী নামিয়ে যা কান্ডকারখানা ঘটাল স্বৈরাচারী গেরুয়া শিবির, তাকে এককথায় রাজনৈতিক কাপুরুষতা ছাড়া আর কিছু বলা চলে না!
আগে থেকেই এই কর্মসূচি আটকে দিতে সর্বশক্তি প্রয়োগ করেছিল প্রশাসন। রাজাবাজার চত্বরকে কার্যত দুর্গে পরিণত করা হয়েছিল। থরে থরে ব্যারিকেড বসানো থেকে শুরু করে সকাল থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দিয়ে রুট মার্চ করানো হয়। বিভিন্ন থানা থেকে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের হুমকি দেওয়া হয় যাতে কেউ মিছিলে পা না বাড়ায়। কিন্তু শেষপর্যন্ত পুলিশি রক্তচক্ষু আর ভয়ের পরিবেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নির্ধারিত সময়েই রাজাবাজারে তিল ধারণের জায়গা রাখলেন না হাজার হাজার তৃণমূল নেতা-কর্মী-সমর্থক। জনসমুদ্রে পরিণত হওয়া সেই রাস্তা থেকে একটানা গর্জে ওঠে স্লোগান— ‘ভোট চোর, গদি ছাড়!’
পরিস্থিতি বুঝে অত্যন্ত কৌশলী চাল চালে তৃণমূল নেতৃত্ব। তারা বুঝতে পেরেছিল, পুলিশি প্রশাসন পুজোর মুখে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে জেলে পোড়ার ফন্দি এঁটেছে, যাতে জামিন পেতে সমস্যা হয়। সেই ফাঁদে পা না দিয়ে মিছিলের আকারটিকে সরাসরি এক বিশাল বিক্ষোভ-সমাবেশে রূপ দেওয়া হয়। একটি ম্যাটাডরের ওপর থেকেই বিজেপি ও জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে চাগিয়ে ওঠে তীব্র হুংকার।
মিছিলের নেতৃত্ব দিয়ে কুণাল ঘোষ খোঁচা দিয়ে বলেন, “যেভাবে কাল রাত থেকে হুমকি দিয়ে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল, তাতে আমরা সেই প্ররোচনায় পা দিইনি। কিন্তু আমাদের আন্দোলন পুরোপুরি সফল! দিল্লি থেকে রাজ্য সরকার—সবাই আজ ভয়ে কাঁপছে।” সঙ্গে গুপি গাইন বাঘা বাইনের বিখ্যাত লাইন টেনে কটাক্ষ করেন, “ওরে হাল্লা রাজার সেনা, তোরা যুদ্ধ করে করবি কী তা বল!”
সাংসদ দোলা সেনও ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “গত পাঁচ মাসে একটাও মিটিং-মিছিলের অনুমতি দেয়নি এই প্রশাসন। সামান্য ছাত্র-যুবদের একটি মিছিল আটকাতে জলকামান ও কেন্দ্রীয় বাহিনী নামানো হয়েছে! এদের আসল মতলবই হল পুজোর মুখে ছাত্র-যুবদের জেলে পোরো।”
জনগণের কণ্ঠস্বর রোধ করতে যত হানাদারিই চালাক না কেন প্রশাসন, এদিনের এই জনস্রোত স্পষ্ট বুঝিয়ে দিল যে, স্বৈরাচারী শক্তির বিরুদ্ধে বাংলার যুবসমাজ শিরদাঁড়াটান করে লড়তে প্রস্তুত। পুজোর পরে এই আন্দোলন আরও বহুগুণ বৃহত্তর রূপ নেবে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে দিল্লির মসনদে বসা শাসকদের কাছে!