Leaving her own seat in the Assembly, the Chief Minister sat beside Abhaya's mother—Suvendu Adhikari!

বিধানসভায় নিজের আসন ছেড়ে অভয়ার মায়ের পাশে বসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী !

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার চলতি বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই ঘটে গেল এক অত্যন্ত স্পর্শকাতর, অভূতপূর্ব ও নজিরবিহীন ঘটনা, যা সমগ্র রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ইতিহাসে এক নতুন ও মানবিক নজির স্থাপন করল। অধিবেশনে ২১শে জুলাই সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের বিস্ফোরক রিপোর্ট পেশের ঠিক পরপরই, মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজের নির্দিষ্ট আসন ছেড়ে উঠে সোজা চলে যান পানিহাটির বিধায়ক রত্না দেবনাথ, যিনি আর জি করের অভয়ার মা হিসেবে পরিচিত, তাঁর কাছে। সাধারণত বিধানসভার অধিবেশন চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী নিজের নির্দিষ্ট চেয়ার ছেড়ে অন্য কোনো বিধায়কের পাশে গিয়ে বসেন না, কিন্তু এদিন অতীতের সমস্ত প্রথা ভেঙে অভয়ার মায়ের পাশে গিয়ে বসেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁদের মধ্যে বেশ কিছু সময় ধরে একান্ত ও নিচু গলায় কথা হয়, যা সভার ভেতরে ও বাইরে এক গভীর আলোড়ন ও তীব্র জল্পনার সৃষ্টি করেছে।

এই অধিবেশনেই ৩৩তম শহিদ দিবসের ঠিক আগের বিকেলে বিধানসভায় জাস্টিস চ্যাটার্জি কমিশনের দীর্ঘদিনের ধামাচাপা পড়ে থাকা বহু প্রতীক্ষিত রিপোর্টটি পেশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। আর সেই রিপোর্ট থেকে বেরিয়ে আসা চাঞ্চল্যকর তথ্য নিয়ে যখন উত্তাল পুরো সভা, ঠিক তখনই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই মানবিক ও সংবেদনশীল পদক্ষেপে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ হয়। রত্না দেবনাথের ঠিক কাছাকাছি আসনেই বসেছিলেন রাজ্য বিজেপির দুই বিশিষ্ট বিধায়ক রূপা গঙ্গোপাধ্যায় এবং পাপিয়া অধিকারী; মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের সাথেও বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন।

উল্লেখ্য, এর আগেই বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করেছিলেন যে, আর জি কর কাণ্ডের সুবিচারের স্বার্থে সমস্ত ফাইল পুনরায় খোলা হবে এবং মৃত তরুণী চিকিৎসক ও তাঁর পরিবারকে ১০০ শতাংশ সঠিক বিচার এনে দেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রীর সেই প্রতিশ্রুতির কথা শুনে সেদিন হাউহাউ করে কেঁদে ফেলেছিলেন অভয়ার মা তথা বিধায়ক রত্না দেবনাথ, আর এদিন সশরীরে তাঁর পাশে এসে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারী প্রমাণ করে দিলেন যে, অভয়ার সুবিচারের লড়াইয়ে রাজ্য সরকার সম্পূর্ণ আন্তরিক।

মেয়ের মৃত্যুর সঠিক বিচার পেতে যখন এক শোকাহত মা এখনও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, তখন স্বয়ং রাজ্যপ্রশাসকের এই নজিরবিহীন ও সংবেদনশীল আচরণ তাঁকে এক নতুন মানসিক শক্তি প্রদান করেছে। তো তোষণ ও সত্য ধামাচাপা দেওয়ার পুরনো ঔদ্ধত্যকে চিরতরে বিদায় জানিয়ে, আইনের শাসন বজায় রাখতে এবং রাজ্যের সাধারণ মানুষের পাশে থেকে ন্যায়বিচার সুনিশ্চিত করতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই সময়োপযোগী ও নজিরবিহীন পদক্ষেপ সত্যিই এক দায়িত্বশীল, প্রগতিশীল ও উন্নত বাংলার অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *