পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির ময়দানে এক নজিরবিহীন ও চরম গরম পরিবেশ তৈরি করে, ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নাম না করে সরাসরি খোলা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “ওকে আমি কাউন্টার করব না। ও অনেক বড়-বড় কথা বলে। তবে একটাই কথা বলব, ওঁর বাপের নাম যদি ঠিক থাকে, তাহলে আগামী লোকসভা ভোটে ডায়মন্ড হারবারে লড়বে।”
সবমিলিয়ে বিরোধী শিবিরের যাবতীয় ফাঁকা আওয়াজ ও অহংকারকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই চাঁচাছোলা ও ওপেন চ্যালেঞ্জ রাজ্য রাজনীতির অলিন্দে তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
রাজনৈতিক এই আক্সফালনের কড়া জব্বাব দেওয়ার পাশাপাশি, ১৯৯৩ সালের ২১শে জুলাইয়ের ঐতিহাসিক যুব কংগ্রেস আন্দোলনের শহিদ ও তাঁদের পরিবারবর্গের প্রতি বছরের পর বছর ধরে চলা অবহেলার অবসান ঘটিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তৎকালীন আন্দোলনে শহিদ হওয়া ১৩ জনের পরিবার এবং অসংখ্য আহতদের প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পূর্বতন সরকার কেবল ২ লক্ষ ও ১৫ হাজার টাকার সামান্য সাহায্য দিয়ে দায়িত্ব ঝেড়ে ফেলেছিল। কিন্তু বিচারপতি সুশান্ত চট্টোপাধ্যায় তদন্ত কমিশনের পেশ করা সুপারিশ ধামাচাপা দিয়ে রাখার সেই চরম প্রতারণাকে প্রকাশ করে বিধানসভায় দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারী ঐতিহাসিক ঘোষণা করেন যে, কমিশন মৃতদের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা এবং মারাত্মকভাবে আহতদের ৫ লক্ষ টাকা করে সাহায্য দেওয়ার যে প্রস্তাব দিয়েছিল, বর্তমান সরকার সেই সুপারিশ সম্পূর্ণ মেনে মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণ তহবিল থেকে তাঁদের প্রাপ্য বকেয়া অর্থ প্রদান করবে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই সংবেদনশীল ও ঐতিহাসিক ঘোষণার পরই সমগ্র রাজ্যজুড়ে তৈরি হয় এক পরম আবেগঘন পরিবেশ। বিগত জমানায় অবহেলিত ও বঞ্চিত শহিদ পরিবারগুলির চোখ থেকে বহু বছরের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও যন্ত্রণার অশ্রু আনন্দাশ্রুতে পরিণত হয়। সেই আন্দোলনে রাবার গুলি খেয়ে মর্গে পড়ে থাকা এবং পরবর্তীতে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরা নদিয়ার দীপক দাসের মতো মানুষরা আনন্দে কেঁদে ফেলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে সরাসরি ‘ডবল নায়ক’ বলে অবিহিত করেছেন। অন্যদিকে হাওড়া, হুগলি ও উত্তর ২৪ পরগনার বঞ্চিত শহিদ পরিবারগুলিও শুভেন্দু অধিকারীর সুশাসনের প্রশংসা করে বর্তমান সরকারের প্রতি পূর্ণ আস্থা ও ভালোবাসা ব্যক্ত করেছেন। তো তোষণ ও সত্য গোপন করার অপশাসনকে চিরতরে বিদায় জানিয়ে, অতীতের অন্যায় শুধরে সাধারণ মানুষের পাশে থেকে ন্যায়বিচার সুনিশ্চিত করতে এবং নতুন এক প্রগতিশীল বাংলা গড়ে তুলতে শুভেন্দু অধিকারীর এই সময়োপযোগী ও মানবিক পদক্ষেপ সত্যিই এক যুগান্তকারী নজির সৃষ্টি করেছে।