দলের অন্দরে কি ক্রমশ বাড়ছে মতবিরোধ? ক্ষমতার লড়াইয়ের আগেই বিজেপির অন্দরের গোলমাল নিয়ে এবার কড়া বার্তা দিলেন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। দলেরই কিছু কর্মী-সমর্থক নিজেদের স্বার্থে বিভিন্ন জায়গায় ঝামেলা পাকাচ্ছেন বলে অভিযোগ তাঁর। আর তাঁদের উদ্দেশেই এবার কার্যত বার্তা দিলেন সুকান্ত।গতকাল সন্ধ্যায় দুর্গাপুরের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন সুকান্ত মজুমদার। সেখানেই সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন তিনি। দলের মধ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব চলছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সুকান্ত অবশ্য সরাসরি গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কথা খারিজ করে দেন। তাঁর দাবি, বিষয়টি কোনও গোষ্ঠীর লড়াই নয়, বরং কিছু মানুষের ব্যক্তিগত স্বার্থে তৈরি করা সমস্যা।
সুকান্তর বক্তব্য, দলের তরফে ইতিমধ্যেই এই ধরনের ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ দলীয় শৃঙ্খলা ভাঙলে যে নেতৃত্ব চুপ করে থাকবে না, সেই বার্তাই স্পষ্ট করেছেন তিনি। তবে ব্যবস্থা নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্টদের নিজেদের ভুল শুধরে নেওয়ার সুযোগও দেওয়া হচ্ছে বলে জানান বিজেপির রাজ্য সভাপতি।আর এই বোঝানোর বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ঘরের ছেলের উদাহরণ টানেন সুকান্ত। তাঁর কথায়, নিজের ঘরের ছেলে ভুল করলেই প্রথম দিন তাকে ত্যাজ্যপুত্র করে দেওয়া হয় না। প্রথমে তাকে বোঝানো হয়, স্নেহের সঙ্গে ভুল শুধরে নেওয়ার কথা বলা হয়। তাতেও কাজ না হলে শাস্তির পথ বেছে নেওয়া হয়।
বিজেপির ক্ষেত্রেও ঠিক সেই নীতিই অনুসরণ করা হচ্ছে বলে দাবি সুকান্তর। তাঁর বক্তব্য, দল প্রথমে বুঝিয়ে বলছে, প্রয়োজন হলে শাস্তিও দিচ্ছে। কিন্তু বারবার বোঝানোর পরেও কেউ যদি দলের কথা না শোনেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে আরও কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে নেতৃত্ব।সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণভাবে সুকান্তর হুঁশিয়ারি, দলের নির্দেশ অমান্য করে কেউ লাগাতার গোলমাল পাকালে শেষ পর্যন্ত তাকে ‘ত্যাজ্যপুত্র’ করতেই হবে। শুধু তাই নয়, দল থেকে ‘লাথি মেরে বের করে দেওয়া’ হবে বলেও কড়া ভাষায় সতর্ক করেছেন তিনি। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই এখন দলের অন্দরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
কার উদ্দেশে এই কড়া বার্তা? দলের অন্দরের কোন কোন সমস্যা নিয়ে ক্ষুব্ধ নেতৃত্ব? সেই প্রশ্নই এখন রাজনৈতিক মহলে ঘুরপাক খাচ্ছে। একদিকে ক্ষমতায় আসার প্রস্তুতি, অন্যদিকে সংগঠনের ভিতরে শৃঙ্খলা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ এই পরিস্থিতিতে সুকান্তর হুঁশিয়ারি বিজেপির অন্দরের সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
বোঝাই যাচ্ছে দলের শৃঙ্খলা নিয়ে কোনও আপস নয় সুকান্ত মজুমদারের বার্তায় যেন সেই কথাই আরও স্পষ্ট। ব্যক্তিস্বার্থে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করা, নির্দেশ অমান্য করা কিংবা সংগঠনের মধ্যে অশান্তি পাকানো কোনও কিছুই আর বরদাস্ত করা হবে না বলে কার্যত হুঁশিয়ারি বিজেপি নেতৃত্বের। প্রথমে বোঝানো হবে, ভুল শুধরানোর সুযোগও মিলবে; কিন্তু তারপরও কেউ সীমা লঙ্ঘন করলে শাস্তি যে আরও কঠোর হবে, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন সুকান্ত। অর্থাৎ দলের স্বার্থের বিরুদ্ধে গিয়ে কেউ চললে পদ, পরিচয় কিংবা পুরনো আনুগত্য কোনও কিছুই তাঁকে রক্ষা করতে পারবে না।