ঘর-বাড়ি নেই এমন মানুষদের জন্য আবাস যোজনা প্রকল্প চালু করেছে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার উভয়ই। তবে, বছর ঘুরলেই ভোট উৎসব, তাই তার আগে প্রকল্পগুলিকে আরেকটু ঝালিয়ে নিতে এবং উন্নত করে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে উঠে-পড়ে লেগেছে দু’পক্ষ-ই। এদিকে নিজের আসন বাঁচাতেও মরিয়া বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। তাই লক্ষ্মীর ভান্ডার থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যসাথী, সবুজ সাথী সব নিয়েই একের পর এক ঘোষণা করে চলেছেন তিনি। আর এবার আবাস যোজনা নিয়ে বড় ঘোষণা করলেন মমতা ব্যানার্জি।
সূত্রের খবর, এবার রাজ্যের দেখানো পথ ধরেই বাড়ি নির্মাণ এবং উপভোক্তা যাচাইয়ের সকল কাজ করবে রাজ্য সরকার। অর্থাৎ, আবাস যোজনার উপভোক্তা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে কেন্দ্র এবং রাজ্যের কার্যকারিতা একই হতে চলেছে। যদিও এই প্রকল্প শুরুর প্রথম দিকে কেন্দ্রের কোনো শর্তই সেভাবে মানতে চায়নি রাজ্য। এমনকি, আবেদনকারীদের যাচাই করার বিষয়তেও দ্বি-মত পোষণ করেছিল রাজ্য সরকার। কিন্তু এবার কেন্দ্রের দেখানো পথেই হাঁটতে রাজি হল বাংলার সরকার। আসলে কেন্দ্রের তরফে বলা হয়েছিল, ৫০ হাজার বা তার বেশি টাকার কিসান ক্রেডিট কার্ড ও পাকা বাড়ি থাকলে, পরিবারের কেউ সরকারি কর্মী হলে, ফ্রিজ, ল্যান্ডলাইন ফোন, আড়াই একরের বেশি সেচ জমি, ৫ একরের বেশি বহুফসলি জমি বা সাড়ে ৭ একরের বেশি জমি থাকলে, মাসে ১০ হাজার টাকার বেশি পারিবারিক আয় হলে, এমনকি বাণিজ্যিক ট্যাক্স দিলেও মিলবে না আবাস যোজনার সুবিধা। এতে রীতিমত অবাক হয়েছিল সাধারণ মানুষ। তবে, কেন্দ্রের এই সকল নিয়ম মানলেও রাজ্যের তরফে দু’চাকার মোটরচালিত গাড়ি ও মাসিক পারিবারিক আয় ১০ হাজারের থেকে বাড়িয়ে ১৫ হাজার টাকা করা হয়েছে এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে।
অন্যদিকে, রাজ্য সরকার এই প্রকল্পের ক্ষেত্রে উপভোক্তা বাছাইয়ের জন্য আলাদা মোবাইল অ্যাপ, জিয়ো-ট্যাগ, ছবি-সহ একাধিক যাচাই বাধ্যতামূলক করেছে। সেই সঙ্গে প্রত্যেক পঞ্চায়েত এলাকায় ব্লক, মহকুমা এবং জেলা-আধিকারিকদের মাধ্যমে ছবি, ভিডিও রেকর্ডিং-সহ সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রকাশ হবে। পাশাপাশি বিডিও, যুগ্ম-বিডিও, এসডিও, জেলাস্তরের আধিকারিক, রাজ্যস্তরের নজরদারি দল, স্থানীয় পুলিশ স্তরে পুনরায় যাচাই করে সোশ্যাল অডিট নেওয়া হবে। এমনকি, প্রত্যেক উপভোক্তার আধার-নির্ভর ‘ইউনিক ডকুমেন্ট আইডেন্টিফিকেশন নম্বর’ থাকবে। আসলে এই প্রকল্পের ক্ষেত্রে যাতে কোনো দুর্নীতি না থাকে, সেই ব্যবস্থাই রাখতে চাইছে রাজ্য।
যদিও রাজ্য সরকারের এমন সিদ্ধান্ত বদলে বেশ অবাক হয়েছেন বুদ্ধিজীবীরা। তাদের অনুমান, এই প্রকল্পের খাতে বকেয়া টাকা উদ্ধার করতেই কেন্দ্রের দেখানো পথে হাঁটতে রাজি হয়েছে রাজ্য। কারণ প্রথম ১১ লক্ষ উপভোক্তার জন্য ইতিমধ্যেই রাজ্যের প্রায় ১৪,৪০০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। আবার পরের ১৬ লক্ষ মানুষের জন্য প্রায় ১৯,২০০ কোটি টাকা খরচ হবে। কিন্তু মোট খরচের ৬০% কেন্দ্রের দেওয়ার কথা থাকলেও, তা এখনও রাজ্যের কাছে এসে পৌঁছায়নি। এ নিয়ে বারবার সরব হতেও দেখা গিয়েছে শাসক দলকে। তবে, বিশেষজ্ঞদের এই অনুমান আদৌ সত্যি কিনা, সে বিষয়ে অবশ্য এখনও কোনো আভাস পাওয়া যায়নি বাংলার শাসক দলের তরফে।