“এবার শিলিগুড়ি থেকেই ছুটবে দেশের সবচেয়ে আধুনিক বুলেট ট্রেন!”—বাংলায় ক্ষমতার অলিন্দে সুশাসনের সূর্য উদিত হতেই আমূল বদলে গেল এরাজ্যের রেলের মানচিত্র। নবান্নে সরকার পরিবর্তনের মাত্র এক মাসের মাথায় পশ্চিমবঙ্গের জন্য ইতিহাসের সবচেয়ে বড় উপহার নিয়ে এলেন দেশের রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এতদিন যে সমস্ত রেল প্রকল্প ফাইলবন্দি হয়ে পড়েছিল, এবার সেগুলির ওপর থেকে সমস্ত বাধা এক ঝটকায় দূর করে দিল শুভেন্দুজীর ডবল ইঞ্জিন সরকার। দিল্লি থেকে বারাণসী-পাটনা হয়ে সোজা শিলিগুড়ি—কীভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে এই মহাকাব্যিক বুলেট ট্রেন প্রকল্প? আর রেলের এই মেগা রূপরেখায় বাংলার জন্য কত হাজার কোটির ধামাকা বরাদ্দ হলো?
এতদিন বাংলায় রেলের কাজ কেন থমকে ছিল, সাংবাদিক বৈঠকে তার আসল খতিয়ান তুলে ধরেছেন খোদ রেলমন্ত্রী। বিগত তৃণমূল সরকারের চরম অসহযোগিতা আর তোষণের রাজনীতিকে তীব্র ভাষায় ধুয়ে দিয়ে অশ্বিনী বৈষ্ণব স্পষ্ট জানান, “আগের সরকার বাংলার মানুষের স্বার্থ ভুলে স্রেফ রেলের উন্নয়নকে আটকে রেখে দিয়েছিল। আপনারা শুনলে অবাক হবেন, কলকাতার মানুষ যাতে আধুনিক মেট্রো রেলের সুবিধা না পান, তার জন্য সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত চলে গিয়েছিল তৎকালীন তৃণমূল সরকার!” কিন্তু মোদী জমানায় সেই বঞ্চনার দিন শেষ। যেখানে ইউপিএ সরকারের আমলে বাংলা রেলের জন্য পেত মাত্র ৪,০০০ কোটি টাকা, সেখানে আজ নরেন্দ্র মোদীজী এক ঝটকায় সেই বরাদ্দ বাড়িয়ে করেছেন রেকর্ড ১৪,২০৫ কোটি টাকা!
এবার আসা যাক সবচেয়ে বড় ও চমকপ্রদ ঘোষণায়। উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার শিলিগুড়ি এবার যুক্ত হতে চলেছে দেশের বুলেট ট্রেন নেটওয়ার্কের সাথে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর স্বপ্নের এই প্রকল্পের আওতায় দিল্লি থেকে বারাণসী ও পাটনা হয়ে সোজা শিলিগুড়ি পর্যন্ত ছুটবে এই হাই-স্পিড বুলেট ট্রেন। এর ফলে দেশের রাজধানী দিল্লি থেকে মাত্র ৬ ঘণ্টায় অত্যন্ত আরামদায়কভাবে সরাসরি শিলিগুড়ি পৌঁছে যাওয়া যাবে। শুধু বুলেট ট্রেনই নয়, গোটা রাজ্য জুড়ে তৈরি হচ্ছে ১০২টি বিশ্বমানের ‘অমৃত ভারত স্টেশন’, যার মধ্যে ১০টির কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। বন্দে ভারত স্লিপার থেকে শুরু করে বর্তমানে বাংলায় সগৌরবে ছুটছে ৯টি বন্দে ভারত এবং ১৩টি অমৃত ভারত এক্সপ্রেস।
শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নবান্ন এবং রেল মন্ত্রকের মধ্যে জমি জট ও এনওসি (NOC) দেওয়ার সমস্ত জটিলতা রাতারাতি সমাধান হয়ে যাওয়ায় এবার কাজের গতি রকেট গতিতে এগোচ্ছে। কলকাতা মেট্রোর ভোল বদলে দিতে আনা হচ্ছে ৬০টি সম্পূর্ণ নতুন নেক্সট জেনারেশন বা আগামী প্রজন্মের আধুনিক ট্রেন। শুধু যাত্রী পরিবহনই নয়, বাংলার অর্থনৈতিক পরিকাঠামো মজবুত করতে শুরু হচ্ছে পূর্ব-পশ্চিম ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডোর, যা হুগলির ডানকুনি থেকে শুরু হয়ে সরাসরি গুজরাটের সুরাট পর্যন্ত যাবে। এর পাশাপাশি খোদ রেলমন্ত্রী বুক চিতিয়ে দাবি করেছেন যে, পশ্চিমবঙ্গে ইতিমধ্যেই রেললাইনের ১০০ শতাংশ বিদ্যুতায়নের কাজ সম্পূর্ণ হয়ে গেছে।
যে বাংলা এতদিন সিন্ডিকেট, কাটমানি আর তোষণের জন্য পিছিয়ে পড়েছিল, আজ মোদী-শুভেন্দুর ডবল ইঞ্জিন সরকারের দূরদর্শিতায় সেই বাংলাই দেশের বুকে প্রগতির নতুন মডেল হয়ে উঠছে। প্রধানমন্ত্রীর আত্মনির্ভর ভারতের স্বপ্ন এবার বাংলার মাটি থেকেই সত্যি হতে চলেছে।