Modi government takes a major decision to curb infiltration! Under Shah's directive, a fence is being erected along the Sundarbans-Bangladesh border for the first time.

অনুপ্রবেশ রুখতে এবার বড় সিদ্ধান্ত মোদী সরকারের! শাহী সিদ্ধান্তে প্রথমবারের জন্য সুন্দরবন-বাংলাদেশ সীমান্তে বসছে বেড়া

ভারত সরকার সুন্দরবন-বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে একটি বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রথমবারের মতো সুন্দরবনের প্রায় ৯০ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে ১২ ফুট উঁচু বেড়া নির্মাণ করা হবে। এতদিন সুন্দরবনের এই অংশে কোনো স্থায়ী সীমান্ত বেড়া ছিল না। কারণ এই অঞ্চল ঘন ম্যানগ্রোভ বন, অসংখ্য নদী-খাল এবং জোয়ার-ভাটার কারণে অত্যন্ত দুর্গম। ফলে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিএসএফকে মূলত ফ্লোটিং বর্ডার আউটপোস্ট, নৌকা এবং জলপথে টহলের ওপর নির্ভর করতে হতো।

সরকারের দাবি, এই ভৌগোলিক সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অনুপ্রবেশ এবং সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধ কার্যকলাপের চেষ্টা চলছিল। সেই কারণেই এবার নেওয়া হয়েছে এই বড় পদক্ষেপ। শুধু ১২ ফুট উঁচু বেড়াই নয়, পুরো প্রকল্পে ব্যবহার করা হবে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। সীমান্তজুড়ে বসানো হবে সিসিটিভি ক্যামেরা, নাইট ভিশন ক্যামেরা এবং অত্যাধুনিক সেন্সর। ফলে রাতের অন্ধকারেও সীমান্তে নজরদারি আরও শক্তিশালী হবে। এর পাশাপাশি বিএসএফের ফ্লোটিং বর্ডার আউটপোস্টগুলোকে আধুনিকীকরণ, নতুন স্পিডবোট ও অতিরিক্ত নৌযান যুক্ত করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। সরকারের আশা, এই সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনবে।

তবে শুধু নিরাপত্তাই নয়, পরিবেশের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। সুন্দরবন বিশ্ববিখ্যাত ম্যানগ্রোভ বন এবং রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আবাসস্থল। তাই প্রকল্পের নকশা এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে যাতে বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক চলাচল যতটা সম্ভব ব্যাহত না হয়। অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিক্রিয়া মিশ্র। অনেকের মতে, দীর্ঘদিন ধরে অনুপ্রবেশ, গরু পাচার এবং সীমান্তসংক্রান্ত অপরাধের কারণে তারা সমস্যায় ছিলেন। তাই নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা তাঁদের জন্য স্বস্তির কারণ হতে পারে। তবে সুন্দরবনের বহু মৎস্যজীবী ও বনজীবী আশঙ্কা করছেন, নতুন বেড়া তাঁদের যাতায়াত ও জীবিকার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। সরকার অবশ্য জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রয়োজনীয় বিকল্প ব্যবস্থা বিবেচনা করা হবে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগ সময়োপযোগী। তবে একই সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় মানুষের জীবিকার ভারসাম্য বজায় রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *