Modi Issues Roaring Warning to Iran from Bengal

বাংলায় বসে ইরানকে মোদীর হুঙ্কার …..আন্তর্জাতিক জলপথে কোনও দেশের দাদাগিরি মানবে না ভারত

শনিবার হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার সময় ভারতীয় পতাকাবাহী দুটি জাহাজ— ‘সানমার হেরাল্ড’ এবং ‘জাগ অর্ণব’-এর ওপর গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি-র বিরুদ্ধে। জাহাজ দুটিতে ছিল ইরাকের অপরিশোধিত তেল। গুলিতে কোনো নাবিক আহত না হলেও, একটি জাহাজের কাচ ভেঙে যায়। আতঙ্কে মাঝসমুদ্রে থমকে দাঁড়ায় জাহাজ দুটি। ঘটনার পরই ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে ভারত। বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি স্পষ্ট জানিয়ে দেন— হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক জলপথ, সেখানে কোনো দেশ একতরফাভাবে টোল, অনুমতি বা বাধা চাপিয়ে দিতে পারে না। ভারতীয় জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো আপস হবে না।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এখনও সরাসরি প্রকাশ্যে কোনো বিবৃতি না দিলেও, সূত্রের খবর, গোটা পরিস্থিতির ওপর তিনি নজর রাখছেন। এর আগেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে ফোনে কথা বলে মোদী হরমুজ প্রণালী খোলা রাখা এবং নিরাপদ নৌ চলাচলের ওপর জোর দিয়েছিলেন। কেন্দ্রীয় সরকারের বার্তা স্পষ্ট— ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক চলাচল কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত হতে দেওয়া হবে না। কারণ ভারতের আমদানিকৃত তেলের বড় অংশই আসে এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে। তাই ঘটনার পর ২২টি ভারতগামী জ্বালানি-বাহী জাহাজকে চিহ্নিত করে তাদের নিরাপদে ফেরানোর উদ্যোগ শুরু করেছে ভারত।

একই সঙ্গে ভারতীয় নৌবাহিনীও হরমুজের কাছে একাধিক যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে। উদ্দেশ্য একটাই— ভারতীয় জাহাজ যাতে নিরাপদে আন্তর্জাতিক জলপথ পার হতে পারে। কূটনৈতিক চাপের পাশাপাশি, প্রয়োজনে শক্ত অবস্থান নিতেও যে ভারত প্রস্তুত, সেই বার্তাই দিতে চাইছে নয়াদিল্লি।

এদিকে এই ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে। কারণ, বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অপরিশোধিত তেল এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে সামান্য উত্তেজনাও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, ভারত শুধু নিজের জাহাজের নিরাপত্তার প্রশ্নেই কড়া অবস্থান নেয়নি, বরং স্পষ্ট করে দিয়েছে— আন্তর্জাতিক জলপথে কোনও দেশের একতরফা দাদাগিরি মেনে নেওয়া হবে না। আর তাই কূটনৈতিক বার্তার পাশাপাশি, ভারতীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনকে অনেকেই দেখছেন মোদী সরকারের শক্ত বার্তা হিসেবে— ভারত তার বাণিজ্যিক স্বার্থ ও নাগরিকদের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজন হলে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতেও পিছপা হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *