রাজ্যে সরকার গঠনের প্রায় এক মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠন করতে পারেনি বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে প্রথম পর্যায়ে মাত্র কয়েকজন মন্ত্রী শপথ নিয়েছিলেন। ফলে রাজ্যের বহু গুরুত্বপূর্ণ দফতর এতদিন পূর্ণকালীন মন্ত্রীর অভাবে পরিচালিত হচ্ছিল। প্রশাসনের স্বাভাবিক কাজকর্ম এবং বিভিন্ন বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়ছিল বলে মনে করছেন অনেকেই।
অবশেষে সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে বলে খবর। বিশেষ সূত্রের দাবি, সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে সোমবার রাজভবনে নতুন মন্ত্রীদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতে পারে। সেই সঙ্গে রাজ্যে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়াও সম্পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
শাসক দলের অন্দরের খবর, মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে মোট ৩৩ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ এখনও বহু গুরুত্বপূর্ণ দফতরের জন্য নতুন মন্ত্রীদের দায়িত্ব দেওয়া হবে। এতদিন যে দফতরগুলি শূন্য ছিল, সেগুলিও স্থায়ীভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী পেতে চলেছে।
দলীয় নেতৃত্ব মন্ত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধিত্বের বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের মতামত ও চাহিদাকে গুরুত্ব দিতেই এই ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।একই সঙ্গে প্রবীণ নেতাদের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কয়েকজন বিধায়ককেও সুযোগ দেওয়া হতে পারে। এর ফলে অভিজ্ঞতা এবং নতুন চিন্তাভাবনার সমন্বয়ে প্রশাসন পরিচালনার পথ আরও সুগম হবে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা।
সম্ভাব্য মন্ত্রীদের তালিকায় সবচেয়ে বেশি যে নামটি নিয়ে আলোচনা চলছে, তা হল স্বপন দাশগুপ্ত। দীর্ঘদিন ধরে তিনি রাজনীতি ও জনজীবনের সঙ্গে যুক্ত। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে রাসবিহারী কেন্দ্র থেকে জয়ী হওয়ার পর থেকেই তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে জল্পনা শুরু হয়েছিল।ইতিমধ্যেই শিক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে তাঁকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। সেই কারণেই অনেকের ধারণা, মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণের পর তাঁকেই রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। যদিও এই বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি ঘোষণা হয়নি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শিক্ষা দফতরের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক এবং অভিভাবকদের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত এই দফতরের নেতৃত্বে কাকে বসানো হচ্ছে, তা সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনারও ইঙ্গিত বহন করে। তাই স্বপন দাশগুপ্তকে নিয়ে জল্পনা ক্রমশ বাড়ছে। সোমবারের সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ রাজ্যের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হতে চলেছে। কারা মন্ত্রী হচ্ছেন, কে কোন দফতরের দায়িত্ব পাচ্ছেন এবং আগামী দিনে সরকারের অগ্রাধিকার কী হবে, সেই সব প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের পর। রাজ্যবাসীর নজর এখন সেই ঘোষণার।
