রেজিনগরে বিজেপির জয় নিয়ে ভুয়ো পোস্ট ভাইপোর! কমিশনের কড়া তথ্যে মুখ পুড়ল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের!

উপনির্বাচনের ফল প্রকাশের পর পরাজয়ের গ্লানি ঢাকতে এবার কি সোশ্যাল মিডিয়ায় সস্তা বিভ্রান্তি আর ভুয়ো তথ্যের আশ্রয় নিচ্ছেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব? রেজিনগরের একটি নির্দিষ্ট বুথে ভোটারের চেয়ে বিজেপি প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট বেশি— এই মর্মে নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা ও ভোট গণনার স্বচ্ছতা নিয়ে এক্স হ্যান্ডলে সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছিলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তাঁর সেই চাঞ্চল্যকর পোস্টের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সরকারি তথ্য ও পরিসংখ্যান সামনে এনে তৃণমূল সাংসদের মিথ্যাচার পুরোপুরি ফাঁস করে দিল নির্বাচন কমিশন! কোনো ধরনের তথ্য যাচাই না করেই একজন জনপ্রতিনিধি কীভাবে এমন ভিত্তিহীন দাবি করতে পারেন, তা নিয়ে কড়া ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুর্শিদাবাদের জেলা নির্বাচনী আধিকারিক।

ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার উপনির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার সময়। একটি সংবাদমাধ্যমে রেজিনগরের ১০৯ নম্বর বুথের পরিসংখ্যান নিয়ে একটি বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানে দাবি করা হয়েছিল— ওই বুথে মোট ভোটার সংখ্যা ৭৭২, অথচ সেখানে বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার নাকি পেয়েছেন ৯০৯টি ভোট! অর্থাৎ মোট ভোটারের চেয়েও বিজেপি প্রার্থী ১৩৭টি ভোট বেশি পেয়েছেন। মুহূর্তের মধ্যে সেই অসত্য তথ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। আর সেই সুযোগ হাতছাড়া না করে কোনো সত্যতা যাচাই না করেই নিজের অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডল থেকে তা রিটুইট করে বসেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ তুলে সরব হন তিনি।

কিন্তু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই অভিযোগের বেলুন ফুটো হতে কয়েক মিনিটও সময় লাগেনি। নির্বাচন কমিশন এবং মুর্শিদাবাদের জেলাশাসকের দপ্তর থেকে অবিলম্বে সরকারি নথিপত্র প্রকাশ করে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়— রেজিনগরের ১০৯ নম্বর বুথের মোট ভোটার সংখ্যা মোটেই ৭৭২ নয়, প্রকৃত ভোটার সংখ্যা হলো ৯৭২! এবং সেই ৯৭২ জন ভোটারের মধ্যে বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার বৈধভাবেই পেয়েছেন ৯০৯টি ভোট। ফলে ভোটারের চেয়ে প্রাপ্ত ভোট বেশি হওয়ার যে মনগড়া অভিযোগ তোলা হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তথ্যবিকৃতি ছাড়া আর কিছুই নয়।

মুর্শিদাবাদের জেলাশাসক ও জেলা নির্বাচনী আধিকারিক কমিশনের পক্ষ থেকে পালটা এক্স পোস্টে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওই দাবিকে সরাসরি ‘মিসইনফরমেশন’ বা ভুয়ো তথ্য হিসেবে চিহ্নিত করেন। একই সাথে প্রশ্ন তোলা হয়— একজন দায়িত্বশীল সাংসদ হয়ে কীভাবে একটি বিভ্রান্তিকর খবরের সত্যতা পরীক্ষা না করে দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন পোস্ট করতে পারেন?

উপনির্বাচনে একের পর এক বুথে মানুষের রায় যখন বিজেপির পক্ষে যাচ্ছে, ঠিক তখনই হার নিশ্চিত বুঝে জনমানসে বিভ্রান্তি ছড়ানোর এই মরিয়া চেষ্টা কার্যত বুমেরাং হয়ে আঘাত করল কালীঘাটের নেতৃত্বকে। নির্বাচন কমিশনের এই কড়া চড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় যে কেবল তৃণমূলের মুখ পুড়ল তাই নয়, বরং পরাজয় মেনে নেওয়ার রাজনৈতিক পরিপক্কতা নিয়েও বড়সড় প্রশ্নের মুখে পড়লেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *