রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন ও ‘রাষ্ট্রবাদী’ ভাবধারা ফিরিয়ে আনতে এবার সবচাইতে বড় ও ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিল নবান্ন! বৃহস্পতিবার গোলপার্কে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের ‘বিদ্যাবিকাশ’-এর বার্ষিক মঞ্চ থেকে এক বিরাট মেগা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট জানান— আগামী মাত্র ১ বছরের মধ্যে বাংলায় আরএসএস-এর পরিচালনাধীন ‘বিদ্যাভারতী’র বিদ্যামন্দিরের সংখ্যা বৃদ্ধি করে ১ হাজারে নিয়ে যাওয়া হবে! প্রতিটি পঞ্চায়েত, মহকুমা এবং জেলা সদরে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত এই জাতীয়তাবাদী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে, যার জন্য রাজারহাটে জমিও দিচ্ছে রাজ্য সরকার।
শিক্ষাক্ষেত্রে তোষণ নীতি ও ভাষার বিকৃতি বন্ধের হুঙ্কার দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানান— এই সরকার হলো ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, দীনদয়াল উপাধ্যায়, স্বামী বিবেকানন্দ ও বিদ্যাসাগরের আদর্শে পরিচালিত রাষ্ট্রবাদী সরকার। তাই বাংলায় আলাদা করে কোনো ‘মাদ্রাসা এডুকেশন সিস্টেম’ বা বিশেষ ধর্মীয় তোষণমূলক ব্যবস্থা আর রাখা হবে না! সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয় যেমন উচ্চশিক্ষা দপ্তরের অধীনে থাকবে, তেমনই আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়কেও সাধারণ আইনের আওতায় আনা হবে। ধর্ম দেখে আলাদা সংবর্ধনা বা পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত কেবল বিশেষ ধর্মের শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ দেওয়ার প্রথাও চিরতরে বন্ধের বার্তা দেন তিনি।
বিগত বাম ও তৃণমূল সরকারের শিক্ষা নীতির কড়া সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন— আগের জমানায় সিলেবাসে ভাষার ভয়ঙ্কর বিকৃতি ঘটিয়ে ‘মা’-কে ‘আম্মা’ কিংবা ‘আকাশ’-কে ‘আসমান’ শেখানো হয়েছিল। সিঙুরে টাটা তাড়ানোর গল্প কিংবা চাকরি চুরিতে অভিযুক্ত পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাম পাঠ্যপুস্তকে জায়গা পেলেও, জায়গা পাননি পশ্চিমবঙ্গ গড়ার কারিগর ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় কিংবা শহীদ ক্ষুদিরাম বসু! জনগণ ঠিক সময়ে পরিবর্তন না আনলে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ব্যবস্থা ও সংস্কৃতি বাংলাদেশের ইসলামিক ধাঁচে পরিণত হতো বলে দাবি করেন তিনি।
স্কুলের প্রার্থনায় পূর্ণাঙ্গ ‘বন্দে মাতরম্’ বাধ্যতামূলক করার কড়া নির্দেশিকার কথা পুনর্ব্যক্ত করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন— সরকারি সাহায্য পেতে গেলে সবাইকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঠোঁট নাড়িয়ে পুরো বন্দে মাতরম্ গাইতেই হবে। সেই সাথে স্কুলে চন্দনের তিলক, টিকি বা তুলসীর মালা পরার ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা বরদাস্ত করা হবে না। শিক্ষা ব্যবস্থায় দেশপ্রেম ও সনাতনী ঐতিহ্য ফিরিয়ে না আনলে ভবিষ্যৎ ভয়ঙ্কর হবে বলেই হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী।