Not 108, but this time 77 centers will determine the fate of 294 seats.

শাসক দল তৃণমূলের আপত্তি সত্ত্বেও কঠোর পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশনের ! ১০৮ নয় এবার ৭৭ টি কেন্দ্রে ভাগ্য নির্ধারণ হবে ২৯৪ টি আসনের !

১০৮ নয় এবার ৭৭ টি কেন্দ্রে ভাগ্য নির্ধারণ হবে ২৯৪ টি আসনের !দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে ৪ মে! বাংলার ২৯৪টি বিধানসভা আসনের ভাগ্য এখন ইভিএম-বন্দি। কে বসবে নবান্নের মসনদে, আর কার কপালে জুটবে পরাজয়—তার উত্তর মিলবে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই। কিন্তু তার ঠিক আগেই এক বড় সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। রাজ্যে ভোটগণনা কেন্দ্রের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা হয়েছে। ১০৮ থেকে শুরু করে ৮৭, আর এখন চূড়ান্ত তালিকায় সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মাত্র ৭৭-এ! কেন এই বড় সিদ্ধান্ত? কোন জেলায় কোথায় হবে ভোটগণনা?

বাংলার নির্বাচনী ইতিহাসে গণনাকেন্দ্রের এই পুনর্বিন্যাস বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। ২০১৬ সালে সংখ্যাটি ছিল ৯০, যা ২০২১-এ বেড়ে হয়েছিল ১০৮। কিন্তু এবার প্রশাসন ও নিরাপত্তার নিশ্ছিদ্র বলয় গড়ে তুলতে কমিশন সেই সংখ্যা কমিয়ে ৭৭-এ নামিয়ে এনেছে। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ অগ্রবাল জানিয়েছেন, পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করেই এই সিদ্ধান্ত।
অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, কেন এই সংকোচন? আসলে কেন্দ্র সংখ্যা কমলে সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা জোরদার করা এবং প্রতিটি টেবিলের ওপর নজরদারি চালানো কমিশনের পক্ষে অনেক সহজ হয়। স্বচ্ছতা আর নিখুঁত গণনাই এখন কমিশনের একমাত্র লক্ষ্য। এমনকি প্রয়োজন পড়লে এই সংখ্যা আরও কমতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।আসুন দেখে নিই কোন জেলায় কতগুলো গণনাকেন্দ্র থাকছে।

উত্তর ২৪ পরগনায় রাজ্যের সবচেয়ে বেশি ৩৩টি আসন, আর সেখানে গণনাকেন্দ্র থাকছে ৮টি। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ৩১টি আসনের জন্য চিহ্নিত হয়েছে ৬টি কেন্দ্র। কলকাতায় উত্তরের ১টি এবং দক্ষিণের ৪টি—মোট ৫টি কেন্দ্রে চলবে ভাগ্য নির্ধারণ। এছাড়া কোচবিহারে ৫টি, হুগলিতে ৫টি এবং মুর্শিদাবাদে ৫টি কেন্দ্র থাকছে। হাওড়া ও নদীয়া—উভয় জেলাতেই থাকছে ৪টি করে গণনাকেন্দ্র। উত্তরবঙ্গের দিকে তাকালে দেখা যায়, আলিপুরদুয়ার, কালিম্পং এবং ঝাড়গ্রামে মাত্র ১টি করে কেন্দ্রে হবে ভোটগণনা। শিলিগুড়ি ও সংলগ্ন দার্জিলিং জেলায় থাকছে ৩টি কেন্দ্র। এই কেন্দ্রীভূত ব্যবস্থার মাধ্যমেই দ্রুত এবং নির্ভুল ফলাফল জনসমক্ষে আনতে চাইছে কমিশন।

কলকাতার হাই-ভোল্টেজ আসনগুলোর গণনা হবে নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়াম, বালিগঞ্জ গভর্নমেন্ট হাই স্কুল এবং সেন্ট থমাস বয়েজ স্কুলে। অন্যদিকে, ডায়মন্ড হারবার মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় এবং যাদবপুরের এপিসি রায় পলিটেকনিক কলেজেও থাকবে কড়া পাহারা। উত্তর ২৪ পরগনার ফলাফল জানা যাবে বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজ, বিধাননগর কলেজ এবং ব্যারাকপুরের রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ কলেজের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলো থেকে। উত্তরবঙ্গে আলিপুরদুয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস এবং উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসকেও তৈরি রাখা হয়েছে এই বিশাল কর্মযজ্ঞের জন্য। প্রতিটি কেন্দ্রে থাকছে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়, যাতে গণনার সময় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।

গণনাকেন্দ্র কমলেও কমিশনের আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে। প্রতিটি ভোট যাতে সঠিকভাবে গোনা হয় এবং মানুষের রায় যাতে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়, তার জন্য প্রশাসন এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ৪ মে সোমবার সকাল থেকেই শুরু হয়ে যাবে লড়াইয়ের চূড়ান্ত অধ্যায়। বাংলার ক্ষমতা কার হাতে যাবে? ঘাসফুল ফুটবে নাকি সব হিসেব উল্টে দিয়ে গেরুয়া আবিরে রাঙবে বাংলা ? আপনার জেলার গণনাকেন্দ্র নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে আমাদের কমেন্টে জানান। গণতন্ত্রের এই মহোৎসবের প্রতিটি মুহূর্তের আপডেট পেতে আজই আমাদের ফলো করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *