বিজয়ার আবহে টলিউড তারকা জিতের বাড়িতে হাজির হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার রাতে পুজোর ব্যস্ততার মধ্যেই অভিনেতার বাসভবনে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে জিতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটানোর পাশাপাশি পুজোর আসরে গিয়ে দেবীর দর্শন করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর এই সফরে স্বাভাবিকভাবেই খুশি জিৎ এবং তাঁর পরিবার।
মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে বাড়ির সিংহদুয়ারে উপস্থিত ছিলেন জিতের স্ত্রী মোহনা মদনানি। সেখানে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর পরিবারের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথাবার্তাও হয়। এরপর বাড়ির ভিতরে পুজোর জায়গায় যান মুখ্যমন্ত্রী। দেবীর দর্শনের পাশাপাশি বিজয়ার মিষ্টিমুখও করেন তিনি।
এই সাক্ষাতের পর জিৎ জানান, মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে তাঁদের সময় দিয়েছেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কথা বলেছেন, তাতে তাঁরা অত্যন্ত খুশি। বিশেষ করে বাড়িতে এসে দেবীর দর্শন করায় তাঁর পরিবারের কাছে মুহূর্তটি আরও আনন্দের হয়ে উঠেছে বলে জানান অভিনেতা।
জিতের কথায়, মুখ্যমন্ত্রী পায়েসও খেয়েছেন। তবে তাঁর কাছে খাবারের থেকেও গুরুত্বপূর্ণ ছিল মুখ্যমন্ত্রীর আন্তরিকতা। বিজয়ার দিনে পরিবারের সঙ্গে এই সময় কাটানোকে অভিনেতা একটি সুন্দর স্মৃতি হিসেবে দেখছেন। মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে তিনি অভিভূত বলেও জানান।
সাক্ষাতের মুহূর্ত ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে নজর কেড়েছে। বিজয়ার শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন জিৎ। পুজোর শেষ পর্বে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এই সাক্ষাৎ নিয়ে অভিনেতার বক্তব্যেও ছিল যথেষ্ট উচ্ছ্বাস।
তবে এই প্রথম নয়, পুজোর আগে থেকেই নতুন সরকারের কাজকর্ম নিয়ে জিতের ইতিবাচক মন্তব্য সামনে এসেছিল। সুরুচি সংঘের পুজোয় গিয়ে তিনি জানিয়েছিলেন, এবারের দুর্গোৎসব তাঁর কাছে কিছুটা আলাদা। কারণ, রাজ্যে নতুন দল, নতুন সরকার এবং নতুন উদ্যম এসেছে বলে মনে করেন তিনি।
সুরুচি সংঘের মণ্ডপে গিয়ে জিৎ বলেছিলেন, তিনি প্রতি বছরই পাড়ার পুজোয় আসেন। এবারও মায়ের দর্শন এবং আনন্দ করতেই এসেছেন। তবে নতুন সরকার আসায় এবারের পুজোয় নতুন ধরনের উদ্যম ও এনার্জি রয়েছে বলেই তাঁর মত।
আগামী দিনে সরকারের হাত ধরেই সবাইকে এগিয়ে যেতে হবে—এমন মন্তব্যও করেছিলেন অভিনেতা। সেই বক্তব্যের পরই এবার বিজয়ার দিনে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বাড়িতে সাক্ষাৎ আরও বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।
অন্যদিকে, জিতের বাড়িতে এসে মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোও বিজয়ার আবহে সৌজন্যের একটি বিশেষ মুহূর্ত হয়ে উঠেছে। পুজোর ব্যস্ততার মধ্যেও তারকার বাড়িতে গিয়ে দেবীর দর্শন, পরিবারের সঙ্গে আলাপ এবং পায়েস খাওয়ার এই পর্ব নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়েছে আলোচনা।
রাজনীতি ও বিনোদন জগতের দুই পরিচিত মুখের এই সাক্ষাৎ শেষ পর্যন্ত সৌজন্য এবং উৎসবের আবহেই সীমাবদ্ধ থাকল। আর জিতের কথায়, বিজয়ার দিনে মুখ্যমন্ত্রীর এই উপস্থিতি তাঁর এবং তাঁর পরিবারের কাছে হয়ে রইল স্মরণীয় এক মুহূর্ত।
বিজয়ার দিনে জিতের বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রীর এই সৌজন্য সাক্ষাৎ তাই উৎসবের আবহে তৈরি করল আলাদা মাত্রা। রাজনীতির ব্যস্ততার বাইরে পরিবারের সঙ্গে এই আন্তরিক মুহূর্ত কতটা স্মরণীয় হয়ে থাকে, জিতের কথাতেই তার আভাস মিলেছে।