once-the-goal-is-set-it-is-final

লক্ষ্য একবার ঠিক করলেই শেষ! ‘ধ্রুবাস্ত্র’ মিসাইলে বাড়ছে ভারতের মারক ক্ষমতা, এ.পি.জে আবদুল কালামের স্বপ্নের ছোঁয়া

ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা DRDO বহুদিন ধরেই উন্নত অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক মিসাইল তৈরির কাজ করে আসছে। এই ধারাবাহিকতায় তৈরি হয় ‘নাগ’ মিসাইল—আর তারই আধুনিক সংস্করণ হলো ধ্রুবাস্ত্র। এই মিসাইল শুধু একটি অস্ত্র নয়, বরং ভারতের প্রতিরক্ষা কৌশলের এক বড় পরিবর্তনের প্রতীক। বিশেষ করে সীমান্ত অঞ্চলে, যেখানে প্রতিটি মুহূর্ত গুরুত্বপূর্ণ—সেখানে এই প্রযুক্তি গেমচেঞ্জার হতে পারে। ধ্রুবাস্ত্র হলো একটি তৃতীয় প্রজন্মের অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল। এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য—Fire and Forget প্রযুক্তি। মানে? একবার লক্ষ্যবস্তু লক করে দিলেই, মিসাইলটি নিজেই সেই লক্ষ্যকে ট্র্যাক করে ধ্বংস করবে।

এতে সৈনিকদের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।
কারণ মিসাইল ছোড়ার পর আর সেটি নিয়ন্ত্রণ করার প্রয়োজন হয় না। ধ্রুবাস্ত্রের অন্যতম শক্তি হলো এর বহুমুখী ব্যবহার। এটি মাটি থেকে ছোড়া যায়, আবার হেলিকপ্টার থেকেও নিক্ষেপ করা যায়, এমনকি রকেট লঞ্চার থেকেও ব্যবহার সম্ভব। বিশেষ করে ভারতের দুর্গম এলাকা যেমন কাশ্মীর এবং লাদাখ, এই মিসাইল সেখানে শত্রু ট্যাঙ্ক বা সাঁজোয়া যান ধ্বংসে অত্যন্ত কার্যকর। এই মিসাইলের রয়েছে উন্নত ইনফ্রারেড ইমেজিং সিস্টেম, যা অন্ধকার বা খারাপ আবহাওয়াতেও লক্ষ্য শনাক্ত করতে সক্ষম। এছাড়া, এর নির্ভুলতা এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া ক্ষমতা যুদ্ধক্ষেত্রে এটিকে অত্যন্ত ভয়ংকর করে তুলেছে।

ইন্ডিয়ান ডিফেন্স রিসার্চ উইং এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য যে ধ্রুবাস্ত্র তৈরি করা হয়েছে সেটি সহজেই হেলিকপ্টার থেকে নিক্ষেপযোগ্য। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি মূলত সুসংহত গাইডেড মিসাইল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের অংশ।। কমবেশি সকলেই জানেন, 1980-র দশকে মিসাইল ম্যান নামে পরিচিত ডঃ এপিজে আব্দুল কালাম এই বিশেষ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা করেছিলেন। সেই পরিকল্পনা থেকেই এবার ভারতীয় সেনাবাহিনী পেতে চলেছে নাগ ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নত সংস্করণ ধ্রুবাস্ত্র।

এই মিসাইল ব্যবহারের জন্য ভারত ইতিমধ্যেই ১৫৬টি প্রচণ্ড হেলিকপ্টার অর্ডার দিয়েছে। এই হেলিকপ্টারগুলো যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত মোতায়েন হয়ে শত্রুর উপর আকাশপথ থেকে হামলা চালাতে সক্ষম হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতীয় সেনার হাতে ধ্রুবাস্ত্র আসার পর পড়শি দেশ চিন ও পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার আগে অনেকবার ভাববে। কারণ এটি শুধু একটি অস্ত্র নয়, এটি এক ধরনের deterrence power যা শত্রুকে ভয় দেখিয়ে যুদ্ধ এড়াতেও সাহায্য করে। ধ্রুবাস্ত্র শুধু প্রযুক্তির উন্নতি নয় এটি ভারতের আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা শক্তির এক উজ্জ্বল উদাহরণ। ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে, এই মিসাইলই হতে পারে ভারতের অন্যতম বড় ভরসা। প্রযুক্তি বদলাচ্ছে যুদ্ধের ধরন, আর সেই পরিবর্তনের সামনের সারিতেই এখন ভারত।

ধ্রুবাস্ত্রের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হওয়া, যা ভারতের আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। Defence Research and Development Organisation (DRDO) এই মিসাইল তৈরি করে প্রমাণ করেছে যে উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে ভারত এখন আর অন্য দেশের উপর নির্ভরশীল নয়। ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তিকে আরও উন্নত করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও নেটওয়ার্ক-সেন্ট্রিক ওয়ারফেয়ার-এর সঙ্গে যুক্ত করা হলে, ধ্রুবাস্ত্র আরও বেশি কার্যকর হয়ে উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু বর্তমানের জন্য নয়, আগামী দিনের যুদ্ধ কৌশলেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং ভারতকে বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা শক্তির মানচিত্রে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *