মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছেড়ে দেওয়া মর্যাদাপূর্ণ নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই চরমে পৌঁছাচ্ছে রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ। অধিকারী গড়ের এই প্রেস্টিজ ফাইটে পদ্মশিবিরের টিকিটে কে প্রার্থী হতে চলেছেন, তা নিয়ে যখন দিনভর একের পর এক নামের জল্পনা চলছে, ঠিক তখনই বঙ্গ রাজনীতিতে এক চরম আবেগঘন ও নজিরবিহীন মোড় এনে দিলেন শুভেন্দু অধিকারীর প্রয়াত আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা হাসি রথ। রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন— নন্দীগ্রামের পবিত্র মাটিতে এবার প্রার্থী হিসেবে দেখা যেতে পারে তাঁকেই। আর সেই জল্পনার আগুনে ঘি ঢেলে দিয়ে হাসি রথ সাফ জানিয়ে দিলেন— মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যদি চান, তবে নন্দীগ্রামের মানুষের সেবার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে তিনি সম্পূর্ণ প্রস্তুত!
নিজের সন্তানকে অকালে হারানোর পর পরিবারের ভেঙে পড়ার দিনগুলোর কথা স্মরণ করে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠেন তিনি। হাসি রথ জানান— ছেলে চন্দ্রনাথ মারা যাওয়ার পর থেকে শুভেন্দু অধিকারী কেবল তাঁদের রাজনৈতিক নেতাই নন, বরং তাঁদের পুরো পরিবারের একমাত্র অভিভাবকের মতো বটবৃক্ষের ছায়া হয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন। পরিবারের প্রতিটি পদক্ষেপে তাঁর দিকনির্দেশনাই শেষ কথা। তাই নন্দীগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রের দায়িত্ব সামলানোর বিষয়ে শুভেন্দু অধিকারী যদি তাঁর ওপর আস্থা রাখেন এবং দল নির্দেশ দেয়, তবে তিনি পিছপা হবেন না। বরং নন্দীগ্রামের মানুষের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় জীবনের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত সেই গুরুদায়িত্ব পালন করে যাবেন।
তবে একজন অনুগত দলীয় কর্মীর মতো দলীয় শৃঙ্খলার কথাও অত্যন্ত স্পষ্টভাবে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তিনি। হাসি রথ জানান— প্রার্থীপদের বিষয়টি এখনও সম্পূর্ণ জল্পনার স্তরে রয়েছে। ভারতীয় জনতা পার্টি একটি সুশৃঙ্খল ও নিয়মনিষ্ঠ দল, যেখানে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনার পরেই চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করে। তাই দলীয় সিদ্ধান্তের আগে নিজেকে কোনোভাবেই প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করছেন না তিনি।
পূর্ব মেদিনীপুরের রাজনীতিতে এই মন্তব্য কিন্তু এক বিরাট রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করেছে। একদিকে যখন বিরোধীরা নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে দিশেহারা হয়ে প্রার্থী খুঁজতে হিমশিম খাচ্ছে, অন্যদিকে নন্দীগ্রামের আবেগ, তৃণমূলস্তরের সংগঠন এবং শুভেন্দু অধিকারীর পরিবারের মতো একনিষ্ঠ মানুষের নাম সামনে এনে পদ্মশিবির এক বিশাল মাস্টারস্ট্রোক দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। এখন দলের সংসদীয় বোর্ড ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর নন্দীগ্রামের রণক্ষেত্রে হাসি রথের নামেই সিলমোহর পড়ে কি না, সেদিকেই গভীর আগ্রহে তাকিয়ে রয়েছে গোটা বাংলা।