দ্বিতীয় দফার ভোট শেষ হতেই বড় ঘোষণা রাজ্যের নির্বাচন কমিশনের। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়ে দিলেন, এখন পর্যন্ত ৭৭টি ইভিএম টেম্পারিংয়ের অভিযোগ জমা পড়েছে। যেসব বুথে এই অভিযোগ প্রমাণিত হবে, সেখানে ২ মে-র আগেই পুনর্নির্বাচন হতে পারে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, অনেক বুথে অভিযোগ এসেছে যে ইভিএমের বোতামে কালো বা সাদা টেপ লাগানো হয়েছে, যার ফলে ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে ডায়মন্ড হারবারের ফলতা কেন্দ্র থেকে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে বলে জানা যাচ্ছে।
তবে এখনও সব অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। জেলা নির্বাচন আধিকারিক এবং পর্যবেক্ষকদের রিপোর্টের উপরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে। এখানেই কমিশনের অবস্থান একেবারে পরিষ্কার। মনোজ কুমার আগরওয়াল বলেছেন, “ইভিএম টেম্পারিংয়ের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে।” অর্থাৎ যেখানে প্রমাণ মিলবে, সেখানে কোনও ছাড় নয়, সরাসরি পুনর্নির্বাচন। কমিশন আরও জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ, গ্রাউন্ড রিপোর্ট এবং অন্যান্য প্রমাণ খতিয়ে দেখেই দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনীতিতে উত্তেজনা চরমে। বিজেপির অভিযোগ, শাসক দলের কর্মীরা ইভিএমে হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস বলছে, এসবই বিজেপির মিথ্যা প্রচার। এই বিতর্কের মাঝেই দ্বিতীয় দফার ভোটে রেকর্ড ৯১.৪১% ভোট পড়েছে। অর্থাৎ, ভোটারদের অংশগ্রহণ ছিল নজিরবিহীন। কিন্তু এত বেশি ভোট পড়ার পরেও যদি টেম্পারিংয়ের অভিযোগ ওঠে, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই বিশ্বাসের জায়গায় একটা বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়। যদি একাধিক বুথে একই ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে পুরো কেন্দ্রেই পুনর্নির্বাচনের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে যে ভোটের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে কোনো আপস করা হবে না। ইভিএম-সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ২ মে-র মধ্যে যেসব বুথে টেম্পারিং প্রমাণিত হবে, সেখানে পুনর্নিবাচন করা হবে। এতে করে ভোটের স্বচ্ছতা বজায় থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের এই বক্তব্য দেখিয়ে দিচ্ছে যে নির্বাচন কমিশন ইভিএম-সংক্রান্ত কোনো অনিয়মকে গুরুত্ব সহকারে নিচ্ছে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।