হুমায়ুনের বাবরি পালটা দিতে রামমন্দির ঘোষনা!সংখ্যালঘু রেজিনগরে বিজেপির তুরুপের তাস সেই শাখারভ সরকার!

পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামের পাশাপাশি মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতির পারদ এবার আকাশ ছুঁয়েছে! নন্দীগ্রামের মর্যাদাপূর্ণ আসনে নিহত আপ্তসহায়কের মা হাসিরানি রথকে প্রার্থী করে বিজেপি যেমন এক চরম আবেগঘন চমক দিয়েছে, ঠিক তেমনই দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত রেজিনগর কেন্দ্রে দলের লড়াকু মুখ তথা রাজ্য সম্পাদক শাখারভ সরকারের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখল বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় দলের সংসদীয় বোর্ড আনুষ্ঠানিকভাবে এই নাম ঘোষণা করতেই উল্লাসে ফেটে পড়েছেন মুর্শিদাবাদের বিজেপি নেতা-কর্মীরা।

রেজিনগরের রাজনৈতিক ইতিহাস কিন্তু অত্যন্ত নাটকীয়। ছাব্বিশের সাধারণ বিধানসভা নির্বাচনে নিজের দল ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’র ‘বাঁশি’ প্রতীকে নওদা এবং রেজিনগর— দুটি আসনেই দাঁড়িয়ে চমকপ্রদ জয় ছিনিয়ে নিয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। পরবর্তীতে সাংবিধানিক নিয়ম মেনে তিনি রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় আগামী ৬ অক্টোবর এই কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে হাই-ভোল্টেজ উপনির্বাচন। বিধানসভা ভোটের মুখে যখন হুমায়ুন কবীর প্রকাশ্যে বাবরি মসজিদ পুনর্নির্মাণের তোষণমূলক ঘোষণা দিয়ে মেরুকরণের চেষ্টা করেছিলেন, ঠিক তখনই তাঁর চোখে চোখ রেখে বহরমপুরের বুকে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন এই শাখারভ সরকার! হুমায়ুনের সেই ঘোষণার তীব্র প্রতিবাদে তিনি বহরমপুরে রামমন্দিরের ভূমিপূজা করে কাজ শুরু করে দিয়েছিলেন, যা তাঁকে জেলা রাজনীতিতে সনাতনী স্বাভিমানের অন্যতম প্রধান মুখ করে তোলে।

তবে টিকিট পাওয়ার পর শাখারভ সরকার অত্যন্ত পরিণত ও বিচক্ষণ বার্তা দিয়ে স্পষ্ট করে দিয়েছেন— রেজিনগরের এই উপনির্বাচন কোনো ধর্মের লড়াই নয়, এটা সার্বিক অধিকার ও উন্নয়নের নির্বাচন। প্রার্থী হয়েই তিনি রেজিনগরের দীর্ঘদিনের অবহেলিত পরিকাঠামোর দিকে সরাসরি আঙুল তুলেছেন। তাঁর নির্বাচনী ব্লু-প্রিন্টে সবার ওপরে রয়েছে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থাকে পাল্টে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি। বিশেষ করে রেজিনগরের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন— ভাগীরথী নদীর ওপর একটি স্থায়ী সেতু বা ব্রিজ নির্মাণ, উন্নত মানের কলেজ ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং বেহাল স্বাস্থ্য পরিষেবার আমূল সংস্কারই হতে চলেছে তাঁর মূল প্রচারের হাতিয়ার।

কংগ্রেস, তৃণমূলের দুই পৃথক শিবির, বামফ্রন্ট এবং হুমায়ুনের আম জনতা পার্টির চতুর্মুখী টানাপোড়েনের মাঝে শাখারভ সরকারের মতো পোড়খাওয়া মাটির মানুষকে সামনে এনে বিজেপি কার্যত বড় ধাক্কা দিয়েছে বিরোধী শিবিরে। বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি মলয় মহাজন স্পষ্ট জানিয়েছেন— জেলা সভাপতি হিসেবে বছরের পর বছর তৃণমূলস্তরে লড়াই করে সংগঠনকে দাঁড় করিয়েছেন শাখারভদা। তাই বুথস্তর পর্যন্ত তাঁর সুদৃঢ় নেটওয়ার্কই এই নির্বাচনে বিজেপির জয়ের রাস্তা প্রশস্ত করবে। বুধবারই আনুষ্ঠানিকভাবে রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়ন পত্র জমা দিতে চলেছেন শাখারভ সরকার। সব মিলিয়ে, বিরোধীদের ভোটব্যাংকের রাজনীতিকে ধূলিসাৎ করে রেজিনগরের মাটিতে পদ্মফুল ফোটাতে কোমর বেঁধে ময়দানে নেমে পড়েছে গেরুয়া ব্রিগেড।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *