'Ramdhanu' has become 'Rangdhanu'! 'Nasta' has become 'Jalkhabar'! The Dhaka syllabus will no longer be used in Kolkata! A fresh political controversy has erupted over remarks made by Education Minister Jagannath Chattopadhyay.

রামধনু থেকে হয়েছে রংধনু! নাস্তা হয়েছে জলখাবার! কলকাতায় আর ঢাকার সিলেবাস চলবেনা! শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক

রাজ্যের স্কুল শিক্ষার পাঠ্যক্রমে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, আগামী দিনে পাঠ্যক্রম হবে ‘রাজনীতিমুক্ত’ এবং ‘তোষণমুক্ত’। মন্ত্রী অভিযোগ করেন, আগের সরকারের আমলে পাঠ্যবইয়ে এমন কিছু শব্দ ও বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, যা বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে আনা হয়েছিল। মন্ত্রী বলেন, পাঠ্যবইয়ে ব্যবহৃত কিছু শব্দ পরিবর্তন করা হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ‘রংধনু’র পরিবর্তে ‘রামধনু’, ‘নাস্তা’র পরিবর্তে ‘জলখাবার’, ‘আসমান’র পরিবর্তে ‘আকাশ’ এবং ‘চাচা’র পরিবর্তে ‘কাকা’, এই ধরনের বাংলা শব্দ ব্যবহারে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, শিক্ষা ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে হবে। তাঁর কথায়, হিংসামুক্ত রাজনীতি ও ভয়মুক্ত সমাজ গড়তে হলে প্রথমে রাজনীতিমুক্ত পাঠদান এবং তোষণমুক্ত সিলেবাস তৈরি করতে হবে। মন্ত্রী সিলেবাস প্রণয়ন কমিটির উদ্দেশে বার্তা দিয়ে বলেন, নতুন পাঠ্যক্রম এমনভাবে তৈরি করতে হবে যাতে তা পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি, ভাষা ও শিক্ষার ঐতিহ্যকে তুলে ধরে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তৃণমূল সরকারের সময় প্রাথমিক স্তরে ‘বর্ণ পরিচয়’ এবং ‘সহজ পাঠ’-এর গুরুত্ব কমিয়ে ‘আমার বই’ ও ‘আমার পরিবেশ’ নামে নতুন বই চালু করা হয়েছিল। মন্ত্রীর দাবি, ‘আমার পরিবেশ’ বইয়ে কিছু চরিত্রকে বিশেষ উদ্দেশ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। আগামী দিনে আবারও ‘বর্ণ পরিচয়’ এবং ‘সহজ পাঠ’-এর গুরুত্ব ফিরিয়ে আনার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

বৈঠক শেষে শিক্ষামন্ত্রী জানান, সময় কম থাকায় ২০২৭ সালের জন্য নতুন করে পাঠ্যসূচিতে কোনও রদবদল হচ্ছে না। প্রথা মেনে ২০২৭ সালের ২ জানুয়ারি ‘বই দিবস’-এর আগেই শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে দেওয়া হবে। তবে ২০২৮ সালের নতুন কারিকুলাম ও সিলেবাসের খসড়া বা ড্রাফট সম্পূর্ণ তৈরি হওয়ার পর তা জনসমক্ষে আনা হবে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠনের কাছে মতামত চাওয়া হবে। সেমিস্টার পদ্ধতি কিংবা ‘পাস-ফেল’ প্রথা ফেরানোর মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলি জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-র নির্দেশিকা মেনে ২০২৮ সালের নতুন পাঠ্যক্রমেই বিবেচনা করা হবে।

আর ২০২৮ থেকে রাজ্যে জাতীয় শিক্ষানীতি কার্যকর হলে, সেই নীতিকে সামনে রেখে প্রথম শ্রেণি থেকে বদলে যাবে সিলেবাস। বদলে যাবে বই। স্কুলের ক্ষেত্রে একাধিক বদল ইতিমধ্যেই এনেছে রাজ্য সরকার। স্কুল ইউনিফর্ম থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে বিশ্ব বাংলা লোগো। অতীত ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার জন্য ইউনিফর্মের রং পরিবর্তন করার কথাও আগেই ঘোষণা করা হয়েছে। নীল নয়, প্রতিটি স্কুল নিজের মতো রঙ পছন্দ করতে পারবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *