কঠোর পরিশ্রম, বছরের পর বছর প্রস্তুতি এবং লাখ লাখ প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে তবেই মেলে কাঙ্ক্ষিত একটি সরকারি চাকরি। কিন্তু সেই কষ্টার্জিত সরকারি চাকরির মেয়াদ যদি ৩০-৩৫ বছরের বদলে মাত্র ১০ থেকে ১৫ বছরে বেঁধে দেওয়া হয়? হ্যাঁ, অবিশ্বাস্য মনে হলেও ক্রমবর্ধমান বেকারত্বের বিরুদ্ধে লড়াই করতে ঠিক এমনই এক যুগান্তকারী ও বিতর্কিত প্রস্তাব পেশ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ক্যাবিনেট মন্ত্রী তথা কর্ণাটকের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এইচ ডি কুমারস্বামী! শুক্রবার বেঙ্গালুরুতে চাকরিপ্রার্থী তরুণ-তরুণীদের সঙ্গে এক খোলামেলা আলোচনায় বসে কেন্দ্রীয় ভারী শিল্প ও ইস্পাত মন্ত্রী এই ‘শর্ট টার্ম’ বা স্বল্পমেয়াদী সরকারি চাকরির রূপরেখা তুলে ধরতেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক।
বিগত এক দশকে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির মাঝে অন্যতম বড় কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে যুব বেকারত্ব। বিরোধীদের লাগাতার আক্রমণের মাঝে দাঁড়িয়ে কুমারস্বামী সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন প্রচলিত নিয়োগ ব্যবস্থার মৌলিক কাঠামোর দিকেই। তাঁর সোজাসাপটা যুক্তি— বর্তমানে কোনো প্রার্থী একবার সরকারি চাকরি পেয়ে গেলে তিনি টানা ৩০ থেকে ৩৫ বছর সেই কুর্সিতে বহাল থাকেন। তাঁর ও তাঁর পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা সরকার সুনিশ্চিত করে ঠিকই, কিন্তু যে লাখ লাখ যোগ্য যুবক-যুবতী সরকারি চাকরি পান না, তাঁদের পরিবারের দিকে তাকানোর মতো কেউ থাকে না।
এই বৈষম্য দূর করতে কুমারস্বামীর স্পষ্ট প্রস্তাব— নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারি চাকরির কর্মকাল সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১৫ বছর নির্দিষ্ট করে দেওয়া হোক। মেয়াদ শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মীকে বাধ্যতামূলক অবসরের ব্যবস্থা করা হবে এবং সরকার থেকে তাঁকে আজীবন প্রতি মাসে আট থেকে দশ হাজার টাকার নিশ্চিত পেনশন প্রদান করা হবে। এরপর তাঁর খালি হওয়া পদে অন্য একটি পরিবারের বেকার যুবক সুযোগ পাবেন। কুমারস্বামীর দাবি, এর ফলে চাকরির চক্র দ্রুত ঘুরবে এবং একই সাথে দুটি বা তিনটি পরিবার সরকারি আয়ের সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে ১৫ বছরের কাজের অভিজ্ঞতার পর অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরা বেসরকারি ক্ষেত্রে বা অন্য কোনো পেশায় নিজেদের যুক্ত করার সুযোগ পাবেন।
তবে কুমারস্বামী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই প্রস্তাব গোটা দেশের জন্য নয় এবং বর্তমানে কর্মরত পুরনো কর্মীদের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে না। মূলত কর্ণাটকের আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে জেডি(এস)-এর পক্ষ থেকে এটি একটি প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হিসেবে তুলে ধরার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। কর্ণাটক পাবলিক সার্ভিস কমিশন বা কেপিএসসি-র অনিয়ম ও শূন্যপদ মেটাতে প্রতিটি পরিবারে অন্তত একজনকে সরকারি চাকরির আওতায় আনাই এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য।
প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ‘অগ্নিবীর’ প্রকল্পের পর এবার প্রশাসনিক ও সাধারণ সরকারি চাকরিতেও এমন স্বল্পমেয়াদী ফর্মুলা কার্যকর করার ভাবনা চাকরিপ্রার্থীদের ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত করবে, নাকি সরকারি চাকরির দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্বের ধারণাকে পুরোপুরি ধূলিসাৎ করে দেবে— কুমারস্বামীর এই মন্তব্যে এখন উত্তাল জাতীয় রাজনীতি!
