স্থায়ী সরকারি শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশন বন্ধ করার নির্দেশ শিক্ষার অধিকার আইনেই বলা আছে। তবু কিছু সুবিধাবাদী শিক্ষক নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে প্রাইভেট টিউশন করে যাচ্ছিলেন। এবার সেই প্রবণতায় রাশ টানতে কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়ে নির্দেশিকা জারি করল স্কুল শিক্ষা দপ্তর। ২০০৯ সালের শিক্ষার অধিকার আইনের ২৮ নম্বর ধারায় সরকারি শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অতীতে এই নিয়ে বিতর্ক হলেও প্রবণতা রোধ করা যায়নি বলেই অভিযোগ। এবার জাতীয় মানবাধিকার কমিশন থেকে বিজ্ঞপ্তি পেয়ে কঠোর পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার।
২০১১ সালে একটি বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল স্কুল শিক্ষা দফতরের তরফে। একটি নোটিসে পরিষ্কার বলা হয় যে, ব্যক্তিগত লাভের জন্য কোনও শিক্ষকই প্রাইভেট টিউশন করতে পারবেন না। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষ যদি কোনও ‘রেমেডিয়াল কোচিং’ বা অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা করে, তবে সেখানে শিক্ষকরা ছাত্রছাত্রীদের সাহায্য করতে পারবেন।
তবে সেই নিয়ম মানা হয় না বলেই অভিযোগ। তাই এবার কড়া হাতে সেই সংস্কৃতি ভেঙে দিতে চাইছে বিজেপি সরকার। নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, কোনও সরকারি বা সরকার পোষিত স্কুলে কর্মরত শিক্ষক গৃহশিক্ষকতা করতে পারবেন না। যদি কোনও শিক্ষক নিজ স্কুলের বা অন্য কোনও পড়ুয়াকে প্রাইভেট টিউশন দেন, তবে সংশ্লিষ্ট জেলা স্কুল পরিদর্শক এবং স্কুলশিক্ষা দপ্তর তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। স্কুল শিক্ষা দপ্তর সব জেলার স্কুল পরিদর্শকদের সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যদি কোনওভাবে এই সংক্রান্ত অভিযোগ পাওয়া যায় তাহলে সেই অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। আরটিই আইন ও কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের কথা মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে ওই নির্দেশিকায়। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তরফ থেকে একটি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারকে। সেখানেই অভিযোগ উঠেছে, বেআইনিভাবে অনেকেই এখনও প্রাইভেট টিউশন পড়াচ্ছে।
অভিযোগ, শুধু টিউশন পড়ানোর মতো বেআইনি কাজই নয়, অনেক শিক্ষক নিজের নিজের স্কুলের পড়ুয়াদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন তাঁদের কাছে টিউশন পড়ার জন্য। টিউশন না পড়লে পরীক্ষার খাতায় কম নম্বর দেওয়ার ভয় দেখানোও হয় বলে অভিযোগ। শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, প্রাইভেট টিউশনের কারণে স্কুল শিক্ষাব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। অনেক ছাত্রছাত্রী বাধ্য হয়ে একই শিক্ষকের কাছে স্কুলের পর আবার টিউশন নিতে যাচ্ছে, যা এক ধরনের নির্ভরতা তৈরি করছে। অন্যদিকে অভিভাবকদের একাংশের অভিযোগ, টিউশন না নিলে সন্তানের ফলাফলে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। সব মিলিয়ে, সরকারি শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশন বন্ধে এবার আরও কঠোর অবস্থানে স্কুল শিক্ষা দপ্তর। নির্দেশিকা কার্যকর হলে এই দীর্ঘদিনের বিতর্কিত প্রবণতায় লাগাম পড়বে কি না, এখন সেটাই দেখার।