“আর ৭টা বা ৮টা করে সন্তান নয়, বাংলায় এবার বাধ্যতামূলক করা হোক জন্ম নিয়ন্ত্রণ!”—রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার কি আসাম আর উত্তরপ্রদেশের দেখানো পথেই হাঁটতে চলেছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার? জনসংখ্যা বিস্ফোরণ এবং জনবিন্যাস বদলে যাওয়ার হাত থেকে বাংলাকে বাঁচাতে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এক ঐতিহাসিক প্রস্তাব জমা দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর এই একটি মন্তব্যেই এখন তোলপাড় গোটা রাজ্য। সত্যিই কি পরিবার পিছু সন্তান সংখ্যা বেঁধে দিতে চলেছে নবান্ন? কী রয়েছে এই মহাপরিকল্পনায়?
ঠিক কী দাবি করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি? শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, “পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যা ইতিমধ্যেই প্রায় সাড়ে দশ কোটিতে পৌঁছাতে চলল। একদিকে লাগামহীন অনুপ্রবেশ, অন্যদিকে উদ্বাস্তু সমস্যা। এর ওপর আমরা যদি নিজেরাই ৭টা-৮টা করে সন্তান জন্ম দিয়ে এই সংখ্যা বৃদ্ধিতে মদত দিয়ে থাকি, তবে তা রাজ্যের ভবিষ্যতের জন্য ভয়ঙ্কর। তাই এখানে জন্ম নিয়ন্ত্রণ বাধ্যতামূলক করা দরকার।” শমিকবাবু আরও জানান, এটি কোনো রাজনৈতিক চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষই এটা চান। তিনি খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সামনেই এই আবেদন রেখেছেন এবং সরকার যাতে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবে, সেই অনুরোধও করেছেন।
পরিসংখ্যান বলছে, ভারতের ‘ন্যাশনাল কমিশন অন পপুলেশন’-এর সমীক্ষা অনুযায়ী বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যা প্রায় ১০ কোটি ৬ লক্ষেরও বেশি! উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র এবং বিহারের পরেই জনসংখ্যার দিক থেকে চতুর্থ স্থানে রয়েছে বাংলা। ক্ষমতা পাওয়ার আগে থেকেই বিজেপি বারেবারে অভিযোগ তুলেছে যে, ওপার থেকে আসা অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা বাংলার সীমান্ত জেলাগুলির জনবিন্যাস পুরোপুরি বদলে দিচ্ছে। আর এই অনুপ্রবেশকারীদের হঠাতে ইতিমধ্যেই অ্যাকশন মোডে নেমেছে শুভেন্দু সরকার। জেলায় জেলায় তৈরি করা হচ্ছে ‘হোল্ডিং সেন্টার’। আর তার মাঝেই এই জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ বিলের প্রস্তাব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যদি বাংলা এই পথে হাঁটে, তবে ঠিক কেমন হতে পারে এই আইন? ভারতের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে ইতিমধ্যেই কড়া দাওয়াই দিয়েছে আসাম ও উত্তরপ্রদেশ। আসামের ‘টু-চাইল্ড পলিসি’ বা দুই সন্তান নীতি অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির দুইয়ের বেশি সন্তান থাকলে তিনি সে রাজ্যে কোনো সরকারি চাকরির জন্য আবেদন করতে পারেন না। এমনকি কর্মরত সরকারি কর্মচারীদের জন্যও এই নিয়ম কঠোরভাবে মানা বাধ্যতামূলক। অন্যদিকে, যোগী আদিত্যনাথের উত্তরপ্রদেশ সরকার ২০২১ সালে যে খসড়া বিল এনেছিল, সেখানে বলা হয়েছে—দুইয়ের বেশি সন্তান থাকলে সরকারি চাকরি তো মিলবেই না, পাশাপাশি চাকরিতে থাকলেও কোনো পদোন্নতি বা প্রমোশন পাওয়া যাবে না। তৃণমূল জমানায় যে ভোটব্যাঙ্কের তোষণ রাজনীতির কারণে জনসংখ্যা বিস্ফোরণকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছিল, আজ নতুন সরকারের জমানায় তার ওপর রাশ টানার দাবি উঠছে খোদ দলের অন্দর থেকেই। এখন দেখার, অসম আর যোগীরাজ্যের মতো শুভেন্দুজীর ডবল ইঞ্জিন সরকারও কি খুব শীঘ্রই বাংলায় এই ‘টু-চাইল্ড পলিসি’র ঐতিহাসিক আইন কার্যকর করে কি না!
আপনার কী মনে হয়? অনুপ্রবেশ রুখতে এবং বাংলার ভবিষ্যৎ বাঁচাতে এখানেও কি দুই সন্তান নীতি বা কঠোর জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ বিল আনা উচিত? কমেন্ট বক্সে জানান আপনার মতামত ।
